Translate

Thursday, January 30, 2020

ফাঁসির কাউন্ট ডাউন শুরু। চলছে যমে আসামীতে টানাটানি। অক্ষয়ের আবেদনও বাতিল।

Image credit Google


অক্ষয় কুমার সিং এর কিউরেটিভ পিটিশন খারিজ

প্রত্যাশা মতোই নির্ভয়া মামলায় অক্ষয় কুমার সিং এর দায়ের করা ক্ষমার আবেদন ( কিউরেটিভ পিটিশন) আজ সুপ্রিম কোর্ট এর পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ খারিজ করে দিলেন। বিচারকেরা সর্বসম্মত ভাবে জানিয়ে দেন যে , যেসমস্ত যুক্তি মামলাতে উপস্থাপিত করা হয়েছে তাতে মামলাটি দাঁড়ায় নি।
তারা বলেন "এটা কোনো কেস ই নয় "।
যে যুক্তিতে অক্ষয় কুমার সিং এর কিউরেটিভ পিটিশন খারিজ হয়ে গিয়েছে সেই একই যুক্তিতে তার দায়ের করা মৃত্যুদণ্ডের উপর স্থগিতাদেশের মামলাটিও বিচারপতিরা খারিজ করে দিয়েছেন। বিচারপতিরা জানান "মৃত্যুদণ্ডের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে মৌখিক শুনানির আবেদনও একই সাথে খারিজ করা হলো " । খোলা আদালতের বদলে আজকের এই বিচার প্রক্রিয়া চলে বিচারপতিদের বন্ধ চেম্বার এ।
বিচারপতিরা আরো জানান যে , তাঁরা পিটিশনটি ভালোকরে বিচার করে দেখেছেন যে সেখানে ২০০২ সালের (৪) এস. সি.সি ৩৮৮ নং রুপা অশোক হুরা বনাম অশোক হুরা ও অন্যান্যরা মামলাটির যে দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হয়েছে তা এই মামলার ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক ও সেই কারণে এই মামলাটিও অযৌক্তিক।

জনগনের চাপেই মৃত্যুদণ্ড - অক্ষয়ের যুক্তি। খারিজ কোর্টে।

অক্ষয় কুমার সিং তার আবেদনে জানিয়েছিল যে , দেশের অন্যান্য ক্রিমিনাল কোর্টের সাথে সর্বোচ্চ আদালত ও জনগণের চাপের কাছে নাতি স্বীকার করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে বোঝানো হচ্ছে যে ধর্ষণের ঘটনাটি কতটা নৃশংস ছিল। যেখানে অপরাধীর প্রকৃত আইনি বিষয়গুলির প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়নি।
তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দেশের মানুষকে খুশি করার চেষ্টা হচ্ছে। তাই তার সাজা যেন কমান হয়।


                                                                                                    Image credit Google
অক্ষয় কুমার সিং তার আবেদনে আরও ১৭ টি ধর্ষণের মামলার উল্লেখ করে জানায় , যে সেগুলির প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ড রদ্ করে দিয়েছিলেন।

যদিও মাহামান্য সুপ্রিম কোর্ট আজ এইসব কোন যুক্তিকেই প্রাসঙ্গিক মনে করেনি ও তার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন।

অপরাধীদের সামনে কি কি আইনি পথ এখনও খোলা আছে ?

১) মুকেশ সিং রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত কে চ্যালেঞ্জ করে যে পিটিশন করেছিলেন সেই আবেদন গতকাল সুপ্রিম কোর্ট এর তিন সদস্যের বেঞ্চ খারিজ করে দেওয়ায় মুকেশের ফাঁসি কার্যত নিশ্চিত। তার সামনে আর কোনো রাস্তা খোলা নেই বলেই বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।
২) অক্ষয় কুমার সিং এর কিউরেটিভ পিটিশন আজ খারিজ হলেও রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের একমাত্র উপায় তার এখনো আছে।
৩) অপরাধীদের আইনজীবী আজ দিল্লীর পাতিয়ালা হাউস কোর্টে ১লা ফেব্রুয়ারীর নির্ধারিত ফাঁসির দিনের উপর স্থাগিতাদেশ চেয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। শুনানিতে তিনি জানান যে আসামীদের কয়েকজনের এখনও কিছু আইনি রাস্তা খোলা আছে যা তারা প্রয়োগ করার অধিকারি। সেগুলোর ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত যেন ফাঁসি কার্যকর না করা হয়। কারণ দিল্লির ফাঁসির নিয়মে বলা আছে একই অপরাধে অভিযুক্ত একাধিক আসামির মৃত্যুদণ্ড দিতে হলে তা একসাথেই দিতে হবে। কাজেই যতক্ষণ না সব আসামীর সব আবেদনের চূড়ান্ত ফয়সালা হয় ততক্ষণ ফাঁসি দেওয়া আইন বিরুদ্ধ।

আইন নিয়ে ছেলেখেলা - বাঁচার শেষ চেষ্টা

সরকার পক্ষের আইনজীবী এর বিরোধিতা করে জানান যে এটি সম্পূর্ণ আইন নিয়ে ছেলেখেলা করা হচ্ছে। কারণ অপরাধীদের আবেদন নোটিস দেওয়া হয়েছিল ১৮ ই ডিসেম্বর ২০১৯ এ। আর এরা আবেদন করতে চাইছে তার ৪০ দিন পর।
এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পাতিয়ালা হাউস কোর্ট তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে আগামীকাল (শুক্রবার - ৩১/০১/২০২০) বেলা ১০ তার মধ্যে স্টেটাস রিপোর্ট জমা করতে বলেছেন।

আর কয়েক ঘন্টা বাকি


Image credit Google
কাজেই আগামী কালই জানা যেতে পারে ফাঁসির দিন অপরিবর্তিত থাকছে কিনা। অন্যদিকে ফাঁসি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সব আয়োজন সম্পূর্ণ করে রাখছে।
ফাঁসির দিনক্ষণ জানিয়ে প্রত্যেক আসামীর বাড়িতে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। আসামীদের শেষ ইচ্ছা জানাতে বললেও তারা কেউই এখনও তা জানায় নি।
সব মিলিয়ে শুরু হয়েছে যমে আসামীতে টানাটানি। এখন দেখার স্বয়ং যমরাজ জেতেন না এই নৃশংস আসামীরা জেতে।

No comments:

Post a Comment

Thank You .Please do not enter any spam link in the comment box.

Don't Miss It !

LIFE LINE || Follow these tips to get out of depression

 Follow these tips to get out of depression Image credit Google Nowadays, due to increasing work stress and some personal reasons, people ge...