Translate

Wednesday, January 29, 2020

বিরাট খবর - নির্ভয়া কেস : ফাঁসি ঠিক কবে ? মুকেশের সব রাস্তা বন্ধ ।বাকিদেরও কি তাই ?

শেষ আবেদন খারিজ - মুকেশের সব রাস্তা বন্ধ
Image credit Google


নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত আসামী মুকেশ সিং রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যে আবেদন করেছিল ,সর্বোচ্চ আদালত আজ পত্রপাঠ তা খারিজ করে দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট এ তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল এই আবেদনে গতকাল, মঙ্গলবার শুনানী হয়। আজ সকালে একটি রায়ে ডিভিশন বেঞ্চ জানান যে মুকেশের আবেদনের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই ও প্রমান নেই। তাই কোর্ট এই আবেদন খারিজ করছেনা।
এরই সাথে সাথে অপরাধী মুকেশ সিং এর হাতে থাকা সব রকমের আইনি উপায় শেষ হয়ে গিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন।

একের পর এক আবেদন

এর পূর্বে মুকেশ সিং এর কিউরেটিভ পিটিশন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিলে সে রায় পুনঃবিচারের জন্য আবেদন করে। সেখানে সে হিন্দু ধর্মের আদর্শ ও দিল্লীর দূষণের উল্লেখ করে জানায় যে দূষণে যার এমনিতেই আয়ু কমে যাচ্ছে তাকে মৃত্যু দন্ড দেওয়ার কি দরকার ? বলাবাহুল্য এই অপ্রাসঙ্গিক যুক্তি কোর্ট মানেননি এবং সেই আবেদন ও খারিজ হয়ে যায়। তখন ও পর্যন্ত ঠিক ছিল দিল্লীর পাতিয়ালা হাউস কোর্ট নির্ধারিত ২২ শে জানুয়ারী সকালে চার আসামীর ফাঁসি হবে। ঠিক এই অবস্থায় মুকেশ সিং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানায়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সেই আবেদন ও নাকচ করে দেন। কিন্তু তিহার জেলের ফাঁসির ম্যানুয়াল অনুসারে যেকোনো আবেদন খারিজ হওয়ার পর অপরাধীর ফাঁসি নিশ্চিত হলে তাকে ফাঁসির পূর্বে ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়। তাই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন যখন নাকচ হয় তখন আর ১৪ দিন পিছিয়ে ২২ জানুয়ারী ফাঁসি দেওয়া যেত না। ২২ তারিখ পার হয়ে যেত। তাই তখন দিল্লী পাতিয়ালা হাউস কোর্ট নতুন মৃত্যু পরোয়ানা বা ব্ল্যাক ওয়ারেন্ট জারি করে ১ লা ফেব্রুয়ারী সকাল ৬ টায় ফাঁসির দিন ও সময় স্থির করে। দিল্লী তিহার জেলের নিয়মে একই অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া একাধিক অপরাধীকে একই দিনে একই সাথে ফাঁসি দেওয়ার বিধান আছে।
১ লা ফেব্রুয়ারি ফাঁসির দিন ঠিক হলেও জেল সূত্রে খবর যে অপরাধীদের ভিতরে কোনো ভাবের পরিবর্তন চোখে পড়েনি। বরং তাদের যখন সেলের বাইরে নিয়ে আসা হতো ১ ঘন্টার জন্য , তখন তারা নিজেদের মধ্যে ফাঁসি পিছিয়ে দেওয়ার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করতো।

রাষ্ট্রপতিকে চ্যালেঞ্জ - সারা দেশ হতবাক

এই প্রেক্ষাপটে , রাষ্ট্রপতির কাছে মুকেশ সিং এর করা প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার পর আকস্মিক সারা দেশকে হতবাক করে সে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বসে ও সুপ্রিম করতে এ দ্রুত শুনানির আবেদন করে। প্রধান বিচারপতি জানান যে , যে অপরাধীর ১ লা ফেব্রুয়ারি ফাঁসি হবে তার আবেদন কোর্ট সর্বোচ্চ গুরুত্ত্ব দিয়ে শুনবে।
Image credit Google

গতকাল সেই আবেদনের শুনানি হয় -সেই শুনানির বিস্তারিত নিচে দেখুন :-

মুকেশের মূল অভিযোগ ছিল -:

আইনজীবী বলেছিলেন- মুকেশকে নির্জন সেলে রাখা হয়েছিল, মারধর করা হয়েছিল , প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করার সময় প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনে হয়নি ও রাষ্ট্রপতি নিজের বিবেচনা প্রয়োগ করেননি।

রাষ্টপতির বোধবুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন - যৌন নির্যাতনের অভিযোগ:

প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ হওয়ার পরে মঙ্গলবার নির্ভায়ার দোষী মুকেশের নতুন পর্যালোচনার আবেদনটি সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। বিচারপতি আর ভানুমথি, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং বিচারপতি এএস বোপান্নার বেঞ্চ এর সামনে মুকেশের আইনজীবী অঞ্জনা প্রকাশ বলেন যে , প্রাণভিক্ষার আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করার সময় মনোযোগ দেওয়ার দরকার ছিল। এতে বেঞ্চ তাকে প্রশ্ন করেন যে, আপনি কীভাবে বলতে পারেন যে রাষ্ট্রপতি এমনটি করার সময় কিছু চিন্তা না করেই করেছেন ? উত্তরে , অঞ্জনা প্রকাশ যুক্তি দিয়েছেন যে জেলে মুকেশের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে। এর বিরোধিতা করে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন যে এই জাতীয় জঘন্য অপরাধে অপরাধী দুর্ব্যবহারের কারণে দয়া প্রার্থনার অধিকারী হতে পারে না।
নির্ভয়া মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া মুকেশ সিংহ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এর নিকট প্রাণভিক্ষার প্রার্থনা করেছিলেন।কিন্তু রাষ্ট্রপতি তার প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেন। এ নিয়ে মুকেশ সুপ্রিম কোর্টের নিকটে নতুন পুনঃবিচারের দাবি জানান। আগামী বুধবার আদালত এ বিষয়ে রায় দেবে। ১ লা ফেব্রুয়ারি সকাল ৬ টায় এই চার আসামিকে তিহার জেলে ফাঁসি দেওয়া হবে বলে এখনো পর্যন্ত ঠিক হয়ে আছে আদালতের কক্ষে কে কী বলল

১) অপরাধী মুকেশ: বলেন : আপনি কারও জীবন নিয়ে খেলছেন ।

মুকেশের আইনজীবীর সওয়াল :
সিনিয়র অ্যাডভোকেট অঞ্জনা প্রকাশ বলেন যে প্রাণভিক্ষার আবেদনের সমস্ত তথ্য রাষ্ট্রপতির সামনে রাখা হয়নি। রাষ্ট্রপতির বিচার বিবেচনার বিষয়টি কোর্টের পর্যালোচনার আওতায় আসে। আপনাকে প্রতিটি পদক্ষেপে আপনার মনোনিবেশ করতে হবে (প্রাণভিক্ষার আবেদনের সিদ্ধান্তের সাথে সম্পর্কিত)।আপনি কারও জীবন নিয়ে খেলছেন। মুকেশকে নির্মমভাবে জেলে পিটিয়ে একাকী বন্দী করে রাখা হয়েছিল। সহ-অভিযুক্ত অক্ষয়ের সাথে যৌন করতে বাধ্য হন তিনি।তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। এসব তথ্য রাষ্ট্রপতির সামনে রাখা হয়নি। প্রাণভিক্ষার আবেদনটি বিবেচনা করার সময়, কিছু অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি, নির্জন সেল এবং প্রক্রিয়াগত গাফিলতিকে বাইপাস করা হয়েছিল। বাহ্যিক বিবেচনার ভিত্তিতে প্রাণভিক্ষার আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। এই অর্থে এটি বিকৃত, একতরফা এবং সত্যের বাইরে।
২) কেন্দ্র:বলেন : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমস্ত নথি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করেছিল,
সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেছিলেন - রাষ্ট্রপতি নির্ভয়া মামলায় সমস্ত আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রেখেছিলেন । রাষ্ট্রপতির প্রাণভিক্ষার আবেদনটি উপস্থিত করার সময় , তাকে প্রথমে সমস্ত বিষয়টি জানিয়ে সন্তুষ্ট করতে হয়েছিল, প্রতিটি প্রক্রিয়াই তিনি জানেন । এই জাতীয় পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আদালতের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। করুণার আবেদনে বিলম্ব অমানবিক প্রভাব ফেলতে পারে। নথি, প্রমাণ এবং রায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করেছিল। কখনও কখনও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দোষীর স্বাস্থ্য ও অবস্থার এতটাই অবনতি হয় যে তাকে মৃত্যদণ্ড দেওয়া যায় না, তবে দোষী মুকেশের স্বাস্থ্য যথেষ্ট ভ।ল।
৩) সুপ্রিম কোর্ট বললেন : কেউ কীভাবে বলতে পারেন যে রাষ্ট্রপতি তার বুদ্ধি (মস্তিষ্ক ) ব্যবহার করেননি ?
যখন মুকেশের আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন যে প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নিজ মস্তিষ্ক ব্যবহার করেননি তখন , তিন বিচারকের বেঞ্চ তাকে প্রশ্ন করেন - আপনি কীভাবে বলতে পারেন যে রাষ্ট্রপতির কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি ? এবং, আপনি কীভাবে বলতে পারেন যে রাষ্ট্রপতি করুণার আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করার সময় তাঁর মন ও বোধ বুদ্ধি ব্যবহার করেননি ?
আবেদনের দ্রুত শুনানির দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল যে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীর জন্য আদালত এটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিচার করবে -
মুকেশের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হওয়ার পর সে রায় পুনঃ -পর্যালোচনার জন্য শনিবার সুপ্রিম কোর্টে যান। সাজাপ্রাপ্ত আসামি মুকেশের আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার বলেছিলেন যে শত্রুঘ্ন চৌহান মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমরা ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে আদালতের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের মামলায় বিচার পুনঃ - পর্যালোচনা চেয়েছি। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট মুকেশের আইনজীবীকে এর জন্য অবিলম্বে রেজিস্ট্রি করার জন্য বলেছিল । আদালত বলেছিল যে ১ ফেব্রুয়ারি কাউকে ফাঁসি দেওয়া হলে এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ।
মহামান্য উচ্চ আদালত মুকেশ সিংয়ের সব আবেদন আজ ভিত্তিহীন ও প্রমাণহীন হিসাবে খারিজ করে দিল। সেই সাথে ফাঁসি এড়ানোর জন্য তার সামনে থাকা সব আইনি দরজা বন্ধ হলো ।

দেখা যাক অন্য্ তিন আসামীর হাতে আর কি আইনি উপায় আছে ?

এক কথায় মুকেশ সিং যে যে রাস্তা অবলম্বন করেছে অন্য্ তিনজনও সেই পথেই একে একে এগোবে বলে আইনজীবী মহলের ধারণা। অর্থাৎ বিলম্ব এবং আরো বিলম্ব। এই পন্থার নিদর্শন হিসেবে আজই আর এক আসামী অক্ষয় সিং সুপ্রিম কোর্ট এ তার কিউরেটিভ পিটিশন জামা করল।
মুকেশ বাদে বাকি ৩ জন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ৫ টি উপায় এখন ও খোলা রয়েছে : -
• পবন, মুকেশ, অক্ষয় এবং বিনয় শর্মাকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এতে ফাঁসির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি। প্রথম ওয়ারেন্টে তারিখটি ছিল ২২ জানুয়ারী।
১ এবং ২ ) অপরাধী পবনের কাছে কিউরেটিভ পিটিশন ও প্রাণভিক্ষার আবেদনেই বিকল্প রয়েছে।
৩) অক্ষয় সিংয়েরও একই বিকল্প রয়েছে ।
৪) বিনয় শর্মার প্রাণভিক্ষার আবেদনের বিকল্পও রয়েছে।
দণ্ডিত মুকেশের এখন কোন আইনী বিকল্প অবশিষ্ট নেই। অর্থাৎ, তিনজন আসামি এখন ৫ টি আইনী বিকল্প ব্যবহার করতে পারবেন।
৫) বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য আর একটি আইনি বাধা -
• আর একটি মামলা এই ফাঁসিতে বাধা দিচ্ছে। এটি এই চার অপরাধীর বিরুদ্ধে থেকে যাওয়া একটি ছিনতাই ও অপহরণের মামলা । আসামিদের আইনজীবী এপি সিংহ বলেন যে ডাকাতির মামলায় পবন, মুকেশ, অক্ষয় এবং বিনয়কে দশ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল হাইকোর্টে মুলতুবি রয়েছে। যতক্ষণ না হাই কোর্ট এ ব্যাপারে কোনো রায় দেয় ততক্ষণ অপরাধীদের ফাঁসি দেওয়া যায় না।

Image credit Google
• আইনী বিকল্প রয়েছে এমন দণ্ডপ্রাপ্তরা তিহার জেলের ১৪ দিন নোটিশ সময়কাল কাজে লাগাতে পারবেন। দিল্লি প্রিজন ম্যানুয়াল অনুসারে, যদি কোনও মামলায় একাধিক আসামিকে ফাঁসি সাজা দেওয়া হয়, তবে কারও কারও আবেদন বিচারাধীন থাকলে সকলের ফাঁসিই স্থগিত থাকবে। নির্ভায়ার মামলাও একই রকম। এখানে চারজন আসামিকে ফাঁসি দেওয়া হবে। এতো আইনের জট ছাড়িয়ে কবে এই নৃশংস অপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর হবে সারা দেশের এখন সেটাই প্রশ্ন।

No comments:

Post a Comment

Thank You .Please do not enter any spam link in the comment box.

Don't Miss It !

LIFE LINE || Follow these tips to get out of depression

 Follow these tips to get out of depression Image credit Google Nowadays, due to increasing work stress and some personal reasons, people ge...