Translate

Friday, February 14, 2020

নির্ভয়া মামলা - ক্লাইম্যাক্সে এবার কি ঘটতে চলেছে ? আইনের অলিন্দে আলোড়ন

Image credit Google

নজিরবিহীন মামলা

নির্ভয়া মামলা - দেশের মানুষ এক অভূতপূর্ব আইনি লড়াইয়ের স্বাক্ষী থাকছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের আসামীরা একের পর এক আইনি কৌশল বার করে কিভাবে তাদের ফাঁসির দিন ক্রমাগত পিছিয়ে দিচ্ছে। কিভাবে সরকার ও জেল প্রশাসনের সমস্ত প্রচেষ্টা আইনের সূক্ষ্ম চালে নিষ্ফল হচ্ছে। কিভাবে সাত বছরের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা একটি মামলা এখনও নিষ্পত্তি হলো না।

কোন আদালত কার চেয়ে বড় ?

দেশের মানুষের একটু বোধহয় বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে যে , সুপ্রীম , হাই , লোয়ার এই কোর্টগুলির মধ্যে কে কার থেকে বড়ো। দেশের মানুষ এটাও দেখলো যে দেশের সর্বোচ্চ প্রধান স্বয়ং রাষ্ট্রপতিকেও চ্যালেঞ্জ করা যায়। এবং কারা সেই চ্যালেঞ্জ করছে ? - দেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোড়ন সৃষ্টিকারী ও নৃশংসতম গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জঘন্য কিছু অপরাধী। প্রশ্ন গুলো উঠছে।
Image credit Google
কারণ মানুষ হতবাক হয়ে দেখছে - সুপ্রীম কোর্ট সমস্ত শুনানি করে যখন এই মামলায় কোনো রায় দিয়ে দিচ্ছে তখন তার পর দিনই নিম্ন আদালাতে সেই রায়ের সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা ঘটছে। বার বার। আইনের এক অলিন্দ থেকে আর এক অলিন্দে মামলাটিকে ঘুরপাক খাইয়ে আইনকে নিয়ে ছেলে খেলা করছে অপরাধীরা।
Image credit Google

শেষ হয়েও হচ্ছে না কেন ?

আজ আবার এমনই ঘটনার স্বাক্ষী থাকল দেশের মানুষ। যারা এই মামলার খবর "মানুষের ভাষায়" নিয়মিত পড়ছেন তারা জানেন যে সবে গতকালই সুপ্রীম কোর্টে এই মামলার একটি রায় হয়। প্রথমে দিল্লী ডিস্ট্রিক্ট ট্রায়াল কোর্ট ফাঁসির উপরে যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল তাকে কেন্দ্র সরকার ও দিল্লী সরকার যৌথভাবে দিল্লী হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে। দিল্লী হাইকোর্ট সেই স্থগিতাদেশ বহাল রাখে ও আসামীদের একসপ্তাহের চূড়ান্ত সময়সীমা দেয় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার জন্য। সরকার পক্ষ তখন সুপ্রিমকোর্টে দিল্লী হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ফাঁসির নোটিস জারির আবেদন জানায়।
Image credit Google
গতকালই ছিল একাধারে দিল্লী হাইকোর্টের দেওয়া সেই চূড়ান্ত সময়সীমার শেষ দিন এবং সুপ্রীম কোর্টে মামলাটির শুনানী। সরকার পক্ষ সর্বোচ্চ আদালতে দেশের মানুষের মনে ওঠা প্রশ্নগুলি আইনি ভাষায় তুলে ধরেন ও আসামীদের আইনের সুযোগ নিয়ে শাস্তি বিলম্বীকরণের কৌশলটিও সবিস্তারে তুলে ধরেন। সেখানে দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা হায়দরাবাদে সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার উল্লেখ পর্যন্ত করেন ও বলেন সেই অভিযুক্তরা পুলিশের সাথে এনকাউন্টারে নিহত হওয়ায় সারা দেশের মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেছিল যা প্রমান করে আইনের ওপর থেকে দেশের মানুষের আস্থা কমছে , এবং সেটি সামগ্রিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য খুবই খারাপ একটি ইঙ্গিত।
Image credit Google
দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পর সুপ্রীম কোর্ট গতকাল প্রশাসন কে নির্দেশ দেন দিল্লী ট্রায়াল কোর্ট থেকে নতুন মৃত্যু পরোয়ানা নেওয়ার আবেদন করতে যেহেতু দিল্লী হাই কোর্টের দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আইন ও আইনের ছিদ্র পথ

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ইতিপূর্বেই আসামী পবন গুপ্ত ছাড়া বাকি তিন আসামীর সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ হয়ে গিয়েছিল। এবং পবন গুপ্ত গতকাল পর্যন্ত কোনো প্রাণভিক্ষা বা মার্জনার আবেদন জানায় নি। তাই তারও সব রাস্তা বন্ধ গিয়েছিলো বলে অনুমান করা হয়েছিল।
Image credit Google
এরই মধ্যে গতকাল আর এক আসামী বিনয় শর্মা আর একটি নতুন আবেদন জানায়। সে জানায় যে সে নাকি মানসিক ভাবে অসুস্থ। এবং মানসিক অসুস্থ কাউকে ফাঁসি দেওয়া আইন বিরুদ্ধ।

পবন গুপ্তার আবেদন আবার মঞ্জুর নিম্ন আদালতে

আজ আবার মামলাটি নতুন দিকে মোড় নিল যখন নির্ভয়ার পিতা-মাতার একটি আবেদন দিল্লী ট্রায়াল করতে ওঠে। সেই আবেদনে নির্ভয়ার বাবা-মা ও সরকার পক্ষ আদালতের কাছে নতুন মৃত্যু পরোয়ানা জারী করার আবেদন জানায়।শুনানীর সময় আসামী পবন গুপ্তা তার আবেদনে জানায় যে তার ইতিপূর্বে যে আইনজীবী ছিল তাকে সে আর রাখতে চায় না এবং সে নতুন আইনজীবী নিযুক্ত করতে চায়। কোর্ট তার এই আবেদন মঞ্জুর করে।
Image credit Google

আশা দেবীর হতাশা

নির্ভয়ার মা শ্রীমতি আশাদেবী এই সময় আদালত কক্ষে ভেঙ্গে পড়েন ও হাহুতাশ করে বলেন যে তারও কিছু আইনি অধিকার আছে। সাত বছর ধরে আইনের দরজায় দরজায় তিনি ঘুরছেন। এবং প্রতিবারই আদালত অপরাধীদের আইনি অধিকার নিয়ে ভাবছে। তিনি জানান যে তিনি এবার আস্থা হারাচ্ছেন।
Image credit Google
আশাদেবী আরও জানান যে , এই অপরাধী পবন গুপ্তা আজ আবেদনের কথা জানাচ্ছে যখন সব চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে , এবং এই কৌশলেই তারা এতদিন ফাঁসি বিলম্ব করে রেখেছে। হাইকোর্টের দেওয়া , সুপ্রীম কোর্টের দেওয়া সময়সীমা যখন শেষ , তখন লোয়ার কোর্ট উচ্চ কোর্টের সেই রায়কে কিভাবে অগ্রাহ্য করলো। কি জন্য পবন গুপ্তা কে আবার আইনজীবী নিযুক্ত করার সুযোগ দিলেন ? আশাদেবী হতাশার সাথে জানান যে নতুন আইনজীবি নিয়োগ আসামীদের এক নতুন বাহানা মাত্র।এর ফলে নতুন আইনজীবী মামলার খুঁটিনাটি পড়ে দেখবার জন্য আবার সময় চাইবে আবার নতুন আবেদন জানাবে , আবার নতুন তারিখ চাইবে। সেক্ষেত্রে এই মামলার পরিণতি শেষ পর্যন্ত কি ?
Image credit Google

এরপর কি ?

এই মামলাটি এই জন্যই বিশেষ উল্লেখযোগ্য তার কারন উপরের প্রশ্নগুলি সমগ্র আইন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের প্রশ্ন। মহান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন বিভাগ একটি অন্যতম স্তম্ভ। তার প্রতি এতগুলো প্রশ্ন ওঠা কি অপরাধী সমাজের মনোবল দৃঢ় করছে না ? অপরাধীদের শাস্তি কি আইনের ছিদ্রপথে এভাবেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হবে ? দেশের মানুষ আইনে আস্থা রেখেই , মহান বিচার ব্যবস্থায় আস্থা রেখেই এই মামলার নিষ্পত্তির দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকবে।

No comments:

Post a Comment

Thank You .Please do not enter any spam link in the comment box.

Don't Miss It !

CHILD CARE || MEMORY TIPS - How to use a trip to the playground to help your children strengthen their memory

How to use a trip to the playground to help your children strengthen their memory To remember things, you need to give them your full attent...