ভেনিজুয়েলা তো শুরু মাত্র! এবার কি কলম্বিয়া-মেক্সিকোর পালা? লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এ কাঁপছে বিশ্ব
নিজস্ব প্রতিবেদন, নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন: ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি তারিখটি বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক বড়সড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেল। ভেনিজুয়েলার ওপর ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ (Operation Absolute Resolve) চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন রণহুঙ্কার দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর নিশানায় লাতিন আমেরিকার আরও তিন দেশ— কলম্বিয়া, মেক্সিকো এবং কিউবা। ট্রাম্পের এই ‘নার্কো-টেররিজম’ বিরোধী অভিযানের পরবর্তী ধাপ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন গোটা বিশ্বে আতঙ্কের ছায়া।
কলম্বিয়াকে চরম হুঁশিয়ারি: "নিজের পিঠ বাঁচিয়ে চলুন"
ভেনিজুয়েলা আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছিলেন কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি একে ‘সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হামলা’ বলে অভিহিত করেন। এর জবাবেই ট্রাম্প রীতিমতো কুরুচিকর এবং কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন পেত্রোকে। ট্রাম্প সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নিজেই কোকেন তৈরির কারখানা চালাচ্ছেন এবং তা আমেরিকায় পাচার করছেন। ট্রাম্পের বার্তা, "পেত্রো যেন নিজের পিঠ বাঁচিয়ে চলেন (watch his a*)। ওঁর দেশে অন্তত তিনটি বিশাল কোকেন ফ্যাক্টরি আছে। এবার আমাদের সেদিকে নজর দিতে হবে।"* এই মন্তব্যের পর কলম্বিয়া সীমান্তে যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে।
মেক্সিকো ও কিউবা: ট্রাম্পের পরবর্তী টার্গেট?
ভেনিজুয়েলা দখলের পর ফক্স নিউজ-কে (Fox News) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মেক্সিকো এবং কিউবা নিয়ে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
মেক্সিকো: মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লউদিয়া শেনবউমকে ‘ভালো মহিলা’ বললেও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি আসলে দেশ চালাচ্ছেন না। মেক্সিকো চালাচ্ছে ড্রাগ কার্টেল বা মাদক মাফিয়ারা। ট্রাম্পের সাফ কথা, "শেনবউম কার্টেলদের ভয় পান। যদি তিনি সাহায্য না চান, তবে আমাদের নিজেদেরই কিছু করতে হবে।" অর্থাৎ মেক্সিকোর মাটিতে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রাখলেন তিনি।
কিউবা: কিউবাকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ (Failing Nation) বলে অভিহিত করে ট্রাম্প ও বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হাভানার শাসনব্যবস্থা নিয়েও খুব শীঘ্রই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
৩. কেন হঠাৎ লাতিন আমেরিকায় এত আগ্রাসী ট্রাম্প?
২০২৬-এর শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ‘মনরো ডকট্রিন’ (Monroe Doctrine)-এর আধুনিক সংস্করণ প্রয়োগ করতে চাইছে। এর মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করা।
তেলের ভাণ্ডার: ভেনিজুয়েলা দখল করে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো এখন ভেনিজুয়েলার তেল পরিকাঠামো ঠিক করবে এবং সেই অর্থ দিয়ে অভিযানের খরচ মেটানো হবে।
মাদক পাচার রোধ: মেক্সিকো ও কলম্বিয়া থেকে আমেরিকায় আসা ফেন্টানিল এবং কোকেন পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে ট্রাম্প ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ (Boots on the ground) বা সরাসরি সেনা নামানোর নীতি নিয়েছেন।
কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড ফ্যাক্টর: কেবল লাতিন আমেরিকা নয়, ট্রাম্প ইতিপূর্বেই কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার এবং গ্রিনল্যান্ডকে উপনিবেশে পরিণত করার জল্পনা উসকে দিয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ও রুশ-চীন অবস্থান
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা থেকে শুরু করে চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরা আমেরিকার এই ‘দাদাগিরি’র তীব্র নিন্দা করেছেন। চীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, লাতিন আমেরিকা আমেরিকার ‘নতুন যুদ্ধক্ষেত্র’ হতে পারে না। অন্যদিকে রাশিয়া সাফ জানিয়েছে, মাদুরোকে বন্দি করা আন্তর্জাতিক আইনের অপমান। তবে ট্রাম্পের দাবি, পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার কর্তৃত্ব নিয়ে আর কোনো প্রশ্নের অবকাশ থাকবে না।
৩ জানুয়ারি ২০২৬-এর সেই রক্তক্ষয়ী ভোর হয়তো লাতিন আমেরিকার রাজনীতির চিরস্থায়ী পরিবর্তন ঘটিয়ে দিল। মাদুরো এখন নিউ ইয়র্কের জেলের পথে, কিন্তু কলম্বিয়া বা মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। ট্রাম্পের এই ‘অদম্য সংকল্প’ কি লাতিন আমেরিকাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে না কি নতুন কোনো স্থিতিশীলতা আনবে, তা সময়ই বলবে।
ট্রাম্পের ভেনিজুয়েলা আক্রমণ ২০২৬, Trump warning Colombia Mexico Cuba, মাদুরো বন্দি পরবর্তী আপডেট, Operation Absolute Resolve 2026।
0 মন্তব্যসমূহ