Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

বিরিয়ানি খেয়ে রিল্যাক্স নয়, এবার বুথ সামলাবে বাহিনী! সোমবার দিল্লির বৈঠকেই কি ভাগ্য নির্ধারিত হবে বাংলার

বুথের ভেতরেও কি এবার সেনার পাহারা? ২৬-এর হাইভোল্টেজ ভোটে নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পথে নির্বাচন কমিশন!


Image- Hindustan Times

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বুথ পাহারা এবং ভোটারদের নিরাপত্তায় বড়সড় রদবদল ঘটাতে চলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। এই বৈঠকের মূল নির্যাস হলো— বুথের ভেতরে কি এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে? বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে— রাজ্য পুলিশ না কি কেন্দ্রীয় মাইক্রো অবজারভার?

বিগত পঞ্চায়েত এবং বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে বিরোধীদের অন্যতম প্রধান অভিযোগ ছিল যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও তাদের বুথের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বাহিনী বুথের বাইরে বা রাস্তায় টহল দিয়েছে, আর ভেতরে অবাধে ‘ছাপ্পা’ ভোট চলেছে বলে দাবি করেছিল বিজেপি ও বাম শিবির। এমনকি বাহিনীর ‘রিলাক্স’ করা বা বিরিয়ানি খাওয়ার ছবিও ভাইরাল হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নতুন কৌশলে এগোতে চাইছে। সূত্রের খবর, এবার বুথের ঠিক দরজায় বা ভেতরে হাফ সেকশন (৪ জন) করে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ভোটারদের পরিচয়পত্র বা সচিত্র ভোটার তালিকা ধরে ধরে যাচাই করার কাজও বাহিনীর হাতে থাকতে পারে।

সোমবারের বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ার কথা রয়েছে। প্রথমত, কত কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন করা হবে। দ্বিতীয়ত, সেই বাহিনীর কম্যান্ড কার হাতে থাকবে— যাতে পুলিশ বাহিনী তাদের ভুল পথে চালিত করতে না পারে। এবং তৃতীয়ত, ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ার পর যে নতুন তালিকা তৈরি হয়েছে, তা ধরে ধরে স্ক্রুটিনি কীভাবে হবে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে বিরোধীদের সরব হওয়া ‘ভোট লুঠ’ রুখতে কমিশন এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

অন্যদিকে, এই ভোটার তালিকা নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও দিল্লিতে দরবার করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল কমিশনের সাথে দেখা করে অভিযোগ তুলেছেন যে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র দোহাই দিয়ে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক চাপের মুখে ৫ জানুয়ারির বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি সত্যিই বুথের ভেতরে বাহিনীর সরাসরি নজরদারি শুরু হয়, তবে তা ছাব্বিশের ভোটের চেহারা আমূল বদলে দিতে পারে।

 এখন দেখার বিষয়, সোমবারের পর রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে নতুন কী শোরগোল পড়ে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code