Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

টাকিতে মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা : বুলডোজারের ঘায়ে গুড়িয়ে গেলো স্বৈরাচারের দম্ভ

টাকীতে শৃঙ্খল মুক্ত ইছামতি - ল্যান্ড জিহাদের মুলে আঘাত সোনার বাংলা সরকারের

মানুষের ভাষা , নিজস্ব সংবাদদাতা , টাকী , উত্তর ২৪ পরগনা :

বুলডোজারের গর্জনে যেন এক অন্ধকার যুগের অবসান এবং নতুন এক সুশাসনের সূর্যোদয় দেখল উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সীমান্ত শহর টাকি। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং বেআইনি জমি দখলের যে মহোৎসব গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইছামতী নদীর তীরে চলে আসছিল, কলকাতা হাইকোর্টের এক যুগান্তকারী নির্দেশে এবং রাজ্যে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের কঠোর পদক্ষেপে তা আজ মাটিতে মিশে যেতে শুরু করেছে। গত ১লা জুলাই, বুধবার কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় টাকি পুরসভা এলাকায় ইছামতী নদীর তীরে সেচ দপ্তরের সরকারি খাস জমি এবং নদীর চর সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দখল করে গড়ে ওঠা একাধিক বিলাসবহুল গেস্ট হাউস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করল প্রশাসন। এদিন মূলত 'টাকি সিটি গেস্ট হাউস' সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয় এবং পার্শ্ববর্তী 'দিশা গেস্ট হাউস'-এর মালিক জিনিসপত্র সরানোর জন্য তিন দিন সময় চাওয়ায় সেই কাজ ৩ দিন স্থগিত থাকলেও, ৪ তারিখ থেকে  ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে । 

শুধু এই দুটি নয়, টাকি পুরসভা এলাকায় আরও অন্তত ৫৬টি সন্দেহভাজন বেআইনি নির্মাণের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১৩টি গেস্ট হাউস ও হোটেলের নথিপত্রে চরম গরমিল পাওয়া গিয়েছে। খুব শীঘ্রই এই ১৩টি বেআইনি ইমারতের বুকেও বুলডোজার চলবে বলে পুরসভা ও প্রশাসন সূত্রে খবর। এই ঘটনা কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী।


টাকির ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন এবং ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ। অবিভক্ত বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আভিজাত্যের এক অনন্য পীঠস্থান ছিল দুই বাংলার সীমান্তে অবস্থিত ইছামতী পারের এই শান্ত শহর। টাকির জমিদারদের অবদান, সেখানকার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো, এবং ইছামতীর বক্ষে দুই বাংলার প্রতিমা নিরঞ্জনের ঐতিহাসিক দৃশ্য আজও মানুষের মনে গভীর আবেগ সৃষ্টি করে। আঠারো শতক থেকেই শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে টাকির এক বিশেষ ভূমিকা ছিল। টাকি গভর্নমেন্ট হাইস্কুল কিংবা রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের মতো স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বছরের পর বছর ধরে অগণিত কৃতী ছাত্র তৈরি করেছে, যারা দেশে-বিদেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে এই শহরের নাম উজ্জ্বল করেছেন। একসময় এই শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত, নাটক আর সাহিত্যের সুস্থ চর্চা। শান্ত, স্নিগ্ধ এবং সবুজে ঘেরা এই শহরের বাতাস ছিল নির্মল। এখানকার মানুষজন ছিলেন অত্যন্ত শান্তিকামী এবং সংস্কৃতিমনস্ক। কিন্তু সময়ের করাল গ্রাসে এবং রাজনৈতিক অবক্ষয়ের কারণে এই ঐতিহ্যমণ্ডিত শহরটি বিগত এক দশকে ধীরে ধীরে তার নিজস্বতা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা হারাতে শুরু করেছিল।

বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই শহরের বুকে যেন এক অরাজকতার কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা, পুরসভার একাংশ এবং জমি মাফিয়াদের এক অশুভ আঁতাঁতে টাকির সংস্কৃতি ও পরিবেশকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ইছামতী নদীর পাড়, যা একসময় মানুষের প্রাতর্ভ্রমণ এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের অবারিত প্রাঙ্গণ ছিল, তা ধীরে ধীরে চলে যায় জমি-হাঙরদের গ্রাসে। নদীর চর এবং রাজ্য সেচ দপ্তরের সরকারি খাস জমি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দখল করে গজিয়ে ওঠে একের পর এক বহুতল গেস্ট হাউস ও বিলাসবহুল হোটেল। আশ্চর্যের বিষয় হল, টাকি পুরসভার তৎকালীন প্রশাসন এবং স্থানীয় পুলিশ সবকিছু জেনেও বছরের পর বছর ধরে নির্বিকার দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল। অভিযোগ, মোটা অঙ্কের কাটমানি এবং শাসকদলের ফান্ডের বিনিময়ে কোনওরূপ কমপ্লিশন সার্টিফিকেট (CC) বা বৈধ আইনি অনুমতি ছাড়াই এই বিশাল নির্মাণ কাজগুলি রমরমিয়ে চলতে দেওয়া হয়েছিল।

শুধু পরিবেশ ধ্বংসই নয়, এই বেআইনি গেস্ট হাউসগুলিকে কেন্দ্র করে ইছামতীর বুকে শুরু হয়েছিল এক অন্ধকার অপরাধ জগৎ। আন্তর্জাতিক সীমানার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে অবাধে চোরাচালান, গরু পাচার, জাল নোটের কারবার, মাদক ব্যবসা এবং আরও নানাবিধ সমাজবিরোধী কাজকর্মের অন্যতম মূল ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছিল এই নদীপাড়ের হোটেলগুলি। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করে, ম্যানগ্রোভ ও স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে এই যে কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি হয়েছিল, তার জেরে ইছামতীর নাব্যতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পায়। একশ্রেণির রাজনৈতিক মদতপুষ্ট গুন্ডাদের দাপটে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এতটাই ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন যে, কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস পর্যন্ত পেতেন না। এর পাশাপাশি এই অঞ্চলে এক আগ্রাসী 'ল্যান্ড জিহাদ' বা জমি দখলের মাধ্যমে জনবিন্যাস পরিবর্তনের গভীর ষড়যন্ত্র চলছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। বহিরাগতদের এনে নদীর ধারের সরকারি খাস জমিগুলোতে বেআইনিভাবে পাট্টা দেওয়ার নাম করে বসানো হচ্ছিল, যাতে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করা যায় এবং সীমান্তবর্তী এই স্পর্শকাতর অঞ্চলে সমাজবিরোধীদের এক নিরাপদ ঘাঁটি গড়ে তোলা যায়। সাধারণ নাগরিকদের জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ।


তবে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন কিছু সচেতন নাগরিক। প্রায় তিন বছর আগে টাকির এই ভয়াবহ পরিবেশগত ধ্বংসলীলা এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেন আইনজীবী ওমর ফারুক। তাঁর অভিযোগ ছিল, নদীর চর ও খাস জমি দখল করে গড়ে ওঠা এই গেস্ট হাউসগুলি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করার পাশাপাশি বেআইনি কার্যকলাপে মদত দিচ্ছে এবং এদের কোনও বৈধ নথিপত্র নেই। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন এবং প্রশাসনের টালবাহানার পর, অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ গত ২২শে জুন এক কড়া নির্দেশিকা জারি করে। আদালত টাকি পুরসভাকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নির্দেশ দেয় যে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে নদীর তীরবর্তী সমস্ত বেআইনি নির্মাণ অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে হবে এবং ১৬ই জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন এই নির্দেশ কার্যকরের কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। এই কঠোর নির্দেশের পরেই কার্যত ঘুম ভাঙে প্রশাসনের। দীর্ঘদিনের মাফিয়াদের অহংকার ও দম্ভ চূর্ণ করে অবশেষে বুধবার সকালে ইছামতীর পাড়ে পৌঁছায় প্রশাসনের বুলডোজার। টাকি পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার বিশ্বনাথ নন্দীর তত্ত্বাবধানে এবং বসিরহাট মহকুমা প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী, র‍্যাফ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, ফায়ার ব্রিগেড ও মেডিক্যাল টিমের উপস্থিতিতে শুরু হয় এই মেগা উচ্ছেদ অভিযান।


তবে এই আইনি জয়ের দ্রুত বাস্তবায়নের পিছনে রয়েছে রাজ্যে সাম্প্রতিক এক বিরাট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে চলা অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং গুন্ডারাজের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে এখন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং মাফিয়া-রাজ সমূলে বিনাশ করতে এক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই তিনি বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন যে, "বাংলায় আর কোনও তোলাবাজি, কাটমানি বা সিন্ডিকেট রাজ চলবে না। সরকারি জমি দখল করে যারা সম্পদের পাহাড় গড়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।" তাঁর সেই ঘোষণারই বাস্তব প্রতিফলন আজ টাকির বুকে দেখা যাচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই বিধানসভায় গুন্ডা ও সংগঠিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক বিল পাশ করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই রাজ্যে বলবৎ হয়েছে। এই নতুন কড়া অ্যান্টি-গুন্ডা আইনে জমি দখলকারী মাফিয়া, চোরাকারবারি এবং তাদের রাজনৈতিক মদতদাতাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সংস্থান রয়েছে। এছাড়াও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন অযোগ্য ধারায় এদের কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা দুষ্কৃতীরা এখন কার্যত কোণঠাসা ও দিশেহারা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার বিশেষভাবে জোর দিয়েছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে চলা 'ল্যান্ড জিহাদ' বা বেআইনি জমি দখলের বিরুদ্ধে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে সুপরিকল্পিতভাবে সরকারি খাস জমি, নদীর চর এবং দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে বেআইনি নির্মাণ ও জনবিন্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল, তা রুখতে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ অ্যান্টি-এনক্রোচমেন্ট টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্স ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং মালদহের মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে ডিজিটাল ম্যাপিং এবং ড্রোনের মাধ্যমে জমি জরিপের কাজ শুরু করে দিয়েছে। টাকির ইছামতী পারের এই উচ্ছেদ অভিযান সেই বৃহত্তর ক্লিন-আপ অপারেশনেরই একটি অঙ্গ মাত্র। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা, বালি ও জমি দুর্নীতি দমনে নতুন রাজ্য সরকারের এই 'জিরো টলারেন্স' নীতি আজ বাংলার সাধারণ মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। অতীতে যেখানে পুলিশের সামনেই দুষ্কৃতীরা বুক ফুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াত এবং পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করত, আজ সেই পুলিশই আদালতের নির্দেশে বুলডোজার নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে মাফিয়াদের অবৈধ সাম্রাজ্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। ইছামতী নদীর পাড় থেকে বেআইনি নির্মাণ উচ্ছেদের এই ঘটনা জলজ্যান্ত প্রমাণ যে, রাজ্যে এখন প্রকৃত অর্থেই আইনের শাসন বা 'রুল অফ ল' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


টাকির স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি শুধু কয়েকটি ইট-কাঠ-পাথরের ইমারত ভাঙা নয়, বরং এটি দীর্ঘ এক দশকের অত্যাচার, বঞ্চনা ও ভয়ের বাতাবরণ ভেঙে ফেলার এক জোরালো প্রতীক। মামলাকারী আইনজীবী ওমর ফারুক এই অভিযানকে ইছামতী নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ইছামতীর বাস্তুতন্ত্র বছরের পর বছর ধরে বিপন্ন ছিল এবং এই নদীর অস্তিত্বই সঙ্কটের মুখে পড়েছিল। এই উচ্ছেদের ফলে নদী তার স্বাভাবিক নাব্যতা ও চরিত্র ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেল। টাকির সেই পুরোনো সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নির্মল পরিবেশ, যা একসময় এই শহরের মূল অহংকার ছিল, তা আবার ফিরে আসবে বলে বুক বাঁধছেন আপামর সাধারণ মানুষ। জানা গিয়েছে, আগামী দিনে এই ভেঙে ফেলা খাস জমিগুলো আবর্জনা মুক্ত করে সেখানে বৃক্ষরোপণ, সুন্দর ইকোলজিক্যাল পার্ক বা রিভারফ্রন্ট তৈরি করার পরিকল্পনা করছে নতুন পুরপ্রশাসন। এর ফলে পর্যটকরা নদীর আসল নৈসর্গিক সৌন্দর্য উন্মুক্তভাবে উপভোগ করতে পারবেন, কোনও মাফিয়া-পরিচালিত বেআইনি হোটেলের ব্যালকনি থেকে নয়।

পরিশেষে বলা যায়, টাকির ইছামতী নদীর তীরে এই বুলডোজার অভিযান সমগ্র বাংলার ভূমিদস্যু ও দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য একটি কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা। বেআইনিভাবে ক্ষমতা ও অর্থের জোরে যারা ভেবেছিল বাংলার নদী, মাটি এবং জল চিরকাল তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়ে থাকবে, তাদের সেই মোহ আজ চূর্ণবিচূর্ণ হতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এটা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন। বিধানসভায় পাশ হওয়া নতুন গুন্ডা-দমন আইন এবং দুর্নীতিবিরোধী ধারাবাহিক কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলা আজ তার হারানো গৌরব, সংস্কৃতি এবং আইনি সুশাসন ফিরে পাওয়ার পথে এক নবজাগরণের সূচনা করেছে। টাকির ইছামতীর তীরে আজকের এই বুলডোজারের আওয়াজ শুধু ধ্বংসের নয়, বরং আগামী দিনের এক স্বচ্ছ, সুরক্ষিত এবং মাফিয়ামুক্ত নতুন বাংলার নির্মাণের এক শুভ শঙ্খধ্বনি।


Tags: #Taki #IchamatiRiver #HighCourtOrder #IllegalConstruction #DemolitionDrive #BulldozerAction #WestBengalNews #BJP #SuvenduAdhikari #AntiGoondaLaw #LandJihad #North24Parganas #RuleOfLaw #EndOfMafiaRaj #BengalPolitics


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code