দমদম বিমানবন্দর থেকে সরছে বাঁকড়া মসজিদ, আজ থেকেই বন্ধ এন্ট্রি পাস ও নমাজ পাঠ
সংক্ষিপ্তসার: দমদম (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক) বিমানবন্দরের ভিতর অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরনো বাঁকড়া মসজিদ বা গৌরীপুর জামে মসজিদ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে। শনিবার থেকেই মসজিদের ভিতর নমাজ পড়া এবং সাধারণের প্রবেশের জন্য এন্ট্রি পাস দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। মূলত দ্বিতীয় রানওয়ের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। এদিন সকালে স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ শিকদার এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। জানা গিয়েছে, বৃহত্তর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছেন নমাজ পড়তে আসা বেশিরভাগ মানুষই।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দমদম: দীর্ঘ কয়েক দশকের জল্পনা ও আইনি আলোচনার পর অবশেষে দমদম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্দর থেকে সরতে চলেছে ১৩৬ বছরের প্রাচীন বাঁকড়া মসজিদ। আজ, শনিবার থেকেই ওই মসজিদে নমাজ পড়া এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিন সকাল থেকেই মসজিদের গেটে ঢোকার এন্ট্রি পাস দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে এদিন সকালেই এলাকায় উপস্থিত হন স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ শিকদার। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও নমাজ পড়তে আসা মানুষদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। পরে বিধায়ক জানান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে নমাজ পড়তে আসা বেশিরভাগ মানুষই প্রশাসনের এই পদক্ষেপে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজি হয়েছেন। পাশাপাশি, এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ কোনওরকম প্ররোচনা বা অশান্তি ছড়াতে না পারে, সকলের কাছে সেই আবেদনও রেখেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৩৬ বছরের পুরনো এই গৌরীপুর জামে মসজিদটি স্থানীয়ভাবে 'বাঁকড়া মসজিদ' নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরেই বিমানবন্দরের সীমানার ভিতর অবস্থিত এই মসজিদটির স্থানান্তর নিয়ে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবং প্রশাসনিক মহলে বিস্তর চর্চা চলছিল। দমদম বিমানবন্দরে বর্তমানে দু'টি রানওয়ে রয়েছে— একটি প্রধান বা বড় রানওয়ে, যেখান দিয়ে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ও অন্তর্দেশীয় বিমান ওঠানামা করে এবং অপরটি অপেক্ষাকৃত ছোট দ্বিতীয় রানওয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বিতীয় রানওয়েটির একেবারে ঢিলছোঁড়া দূরত্বেই অবস্থিত প্রাচীন এই মসজিদটি। ফলে প্রথম রানওয়েটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কখনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হলে, দ্বিতীয় রানওয়ে দিয়ে বড় বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, এই মসজিদের অবস্থানের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত জরুরি দ্বিতীয় রানওয়েটির সম্প্রসারণের কাজও থমকে ছিল।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এই মসজিদ সরানোর বিষয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে দফায় দফায় বৈঠক চলতে থাকে। এতদিন বিরাটি পরবর্তী বাঁকড়া এলাকার উলটোদিকের একটি নির্দিষ্ট গেট দিয়ে পরিচয়পত্র (আধার কার্ড বা সমতুল্য প্রমাণপত্র) দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে হত। এরপর বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ভিতর দিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে তবেই মসজিদে পৌঁছতে পারতেন তাঁরা। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো একটি অতি-স্পর্শকাতর এলাকার চূড়ান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বারবার প্রশ্ন উঠছিল অসামরিক বিমান পরিবহণ নিরাপত্তা ব্যুরো বা ব্যুরো অফ সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি (BCAS)-এর অন্দরে। সেই সমস্ত ঝুঁকি এড়াতেই শনিবার থেকে ওই গেট দিয়ে ঢোকার এন্ট্রি পাস পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এদিন সকাল থেকেই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দফতরে স্থানীয় বিধায়ক এবং মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তার পরদিনই বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল মসজিদটি পরিদর্শন করতে যান এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গেও আলাদাভাবে আলোচনা হয়। এর আগেই মসজিদ কমিটির তরফে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছিল, "আমরা চাই না আমাদের কারণে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোনও ক্ষতি হোক বা উড়ানের সুরক্ষায় কোনওরকম বিঘ্ন ঘটুক।" বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে ইতিমধ্যেই মসজিদের জন্য বিমানবন্দরের বাইরে একটি বড় জায়গা দেওয়ার এবং সরকারি উদ্যোগে আরও বড় একটি মসজিদ তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা কী হবে এবং ঠিক কবে নতুন মসজিদের শিলান্যাস হবে, তা আগামী দিনে আলোচনার মাধ্যমেই স্থির হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ট্যাগ: #দমদম_বিমানবন্দর #বাঁকড়া_মসজিদ #কলকাতা_এয়ারপোর্ট #মসজিদ_স্থানান্তর #নেতাজি_সুভাষচন্দ্র_বসু_আন্তর্জাতিক_বিমানবন্দর #মানুষের_ভাষা #পশ্চিমবঙ্গ


0 মন্তব্যসমূহ