হরিদেবপুরে পুজো মণ্ডপে দুষ্কৃতী তাণ্ডব: সনাতনী উৎসব বানচালের চক্রান্ত রুখতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া অ্যাকশন, এলাকায় নামল কমব্যাট ফোর্স
মানুষের ভাষা , নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা :
কলকাতার হরিদেবপুরের ঐতিহ্যবাহী অজেয় সংহতি ক্লাবের দুর্গাপুজো প্রস্তুতিতে রাতের অন্ধকারে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নিল প্রশাসন। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বাংলাকে অশান্ত করার অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের ফেলে যাওয়া সিন্ডিকেট ও সমাজবিরোধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার; এলাকায় কড়া পুলিশি টহল ও বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন।
মূল সংবাদ:
বাঙালির প্রাণের উৎসব শারদোৎসবের ঠিক মুখে দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুরের নামকরা পুজো অজেয় সংহতি ক্লাবের মণ্ডপ চত্বরে গভীর রাতে সশস্ত্র দুষ্কৃতী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবি ও সোমবারের মধ্যরাতে প্রায় ১০-১৫ জনের একদল অস্ত্রধারী দুষ্কৃতী ক্লাবের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, কর্মীদের মারধর করে এবং তথ্য-প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে সিসিটিভির হার্ডড্রাইভ পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর পৌঁছতেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
দুর্গাপূজায় নৈরাজ্য তৈরির অপচেষ্টা বরদাস্ত নয়: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান
রাজ্যে পরিবর্তনের পর তৃণমূল জমানার অন্ধকার শাসন ও তোষণের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে যখন আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই পুজোকে কেন্দ্র করে এমন অরাজকতা সৃষ্টির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনকে সাফ নির্দেশ দিয়েছেন—"হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজাকে কালিমালিপ্ত করার যেকোনো উগ্র ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে যারা ক্লাবে হামলা চালিয়েছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।" মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর হরিদেবপুর থানা ও কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে।
তৃণমূলের সিন্ডিকেট দ্বন্দ্বকে বিজেপির ঘাড়ে চাপানোর ব্যর্থ চেষ্টা
ঘটনার পরই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে মাঠে নামে স্থানীয় বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর ও নেতারা। কোনো তদন্ত ছাড়াই বিজেপির ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা শুরু করে তৃণমূল। তবে বিজেপি নেতৃত্ব সেই ভুয়ো প্রচারের যোগ্য জবাব দিয়েছে। প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের এই চক্রান্তকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, "বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে ৫০ বছর ধরে বাংলায় যে হিংসা আর কাটমানির সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে, মানুষ তা ভালোভাবেই জানেন। কাটমানি আর সিন্ডিকেটের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে তৃণমূলের নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা। এখন রাজ্যে বিজেপির সরকার চলছে; কোনো গুন্ডামি বা তোলাবাজি আর চলবে না। যারা উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে, প্রশাসন তাদের চরম শিক্ষা দেবে।"
এলাকায় র্যাফ ও কড়া পুলিশি পাহারা: স্বস্তিতে পুজো উদ্যোক্তারা
এদিকে ক্লাবের আহত সদস্যদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পুজো মণ্ডপের প্রস্তুতি যাতে এক মুহূর্তের জন্যও থমকে না যায়, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে প্রশাসন। হরিদেবপুর ও সংলগ্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ পিকেট, কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। পুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সবরকম সহযোগিতা করবে বলে উদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিক ও ক্লাব কর্মকর্তারা নতুন সরকারের এই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে ভরসা প্রকাশ করেছেন।
ট্যাগস:
#SuvenduAdhikari #BJPBengal #HaridevpurClash #DurgaPuja2026 #KolkataNews #AjeyaSanghati #ZeroTolerance #Rastravad #LawAndOrder #ManusherBhasha

0 মন্তব্যসমূহ