Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

মোদীর বাউন্সারে বেসামাল পাকিস্তান — আত্মঘাতী মন্তব্যে মুখর কেউ বললেন "তিন দশক সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক", কেউ বললেন হামলাকারীরা "মুক্তিযোদ্ধা"

  • পাকিস্তান দীর্ঘ তিন দশক ধরে সন্ত্রাসে অর্থ বিনিয়োগ করেছে 
  • পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার হামলাকারীদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলে অভিহিত করেন

নিজস্ব প্রতিবেদন |


পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের জবাব এতটাই কড়া ও দ্রুত ছিল যে, পাকিস্তান কার্যত দিশেহারা। একের পর এক কূটনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে মোদী সরকার প্রমাণ করেছে— ভারতের ধৈর্য সীমাবদ্ধ নয়, এবং এবার সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকদের জবাব দেওয়া হবে সরাসরি, দ্রুত ও শক্তভাবে।


সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিত, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল, এমনকি চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা রুগীদেরও ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত— এই একের পর এক বাউন্সার পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে এমন চরম ধাক্কা দিয়েছে, যা তারা আর সামলাতে পারছে না।

তারই প্রতিক্রিয়ায় হতচকিত হয়ে পাকিস্তানের দুই শীর্ষ নেতা এমন কথা বলে ফেলেছেন, যা তারা সাধারণ পরিস্থিতিতে কখনও বলতেন না।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্কাই নিউজ-এর মুখোমুখি হয়ে স্বীকার করে নেন পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসে মদতের ইতিহাস। এমনকি তিনি বলেন, "আমরা তিন দশক ধরে আমেরিকা আর ব্রিটেনের হয়ে সন্ত্রাসে টাকা ঢেলেছি, এটা ছিল আমাদের ভুল।"

অন্যদিকে, উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার তো আরও একধাপ এগিয়ে পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলেই অভিহিত করেন, যা একরকম আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আত্মঘাতী বক্তব্য। এই ধরনের মন্তব্য শুধু প্রমাণ করে, মোদী সরকারের আচমকা কূটনৈতিক স্ট্র্যাটেজি পাকিস্তানকে এতটাই চাপের মুখে ফেলেছে যে তারা এখন নিজেদের মুখেই নিজেদের ফাঁসাচ্ছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান এখন ‘ডিফেন্সিভ’ মুডে, এবং ভারতের কড়া পদক্ষেপে তাদের অবস্থান কার্যত ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের সন্ত্রাস-বিরোধী অবস্থানকে সমর্থন জানানো শুরু হয়েছে।

মোদী সরকারের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানকে এতটাই ‘আউটপ্লে’ করেছে যে তারা এখন কূটনৈতিক মারপ্যাঁচ ভুলে হুঁশের বদলে আবেগে কথা বলছে। কেউ স্বীকার করছেন সন্ত্রাসে অর্থ ঢালার কথা, কেউ বলছেন জঙ্গিরা ‘মুক্তিযোদ্ধা’। এর থেকেই স্পষ্ট, পাকিস্তান মোদীর ‘বাউন্সার’ খেয়ে কার্যত উইকেট হারিয়েছে, এবং এখন তাদের প্রতিটি মন্তব্যই যেন আত্মঘাতী বলের মতোই ফিরে আসছে নিজের গায়ে।

ভারতের সিদ্ধান্ত কেবল প্রতিরক্ষা নয়, কূটনীতিতেও ‘গেমচেঞ্জার’। মোদী সরকারের প্রত্যুত্তর কৌশল এতটাই গতিময় ও শক্তিশালী যে পাকিস্তান তার ভাষা, যুক্তি, এমনকি আন্তর্জাতিক অবস্থানও হারাতে বসেছে।

পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ফের একবার চরম উত্তেজনার মুখে। এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন নিরীহ মানুষ, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক। হামলার দায় নিয়েছে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF), যারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন হিসেবে পরিচিত।

হামলার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি করেছেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান দীর্ঘ তিন দশক ধরে আমেরিকা ও ব্রিটেনের হয়ে সন্ত্রাসে অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এটি আমাদের বড় ভুল ছিল, যার জন্য আমরা আজও মূল্য দিচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, “পাকিস্তানে লস্কর-ই-তইবা এখন আর সক্রিয় নয়। অতীতে সম্পর্ক থাকলেও এখন তাদের অস্তিত্ব নেই। মূল সংগঠন না থাকলে ছায়া সংগঠনের প্রশ্নই ওঠে না।”

তবে এখানেই শেষ নয়। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই হামলাকারীদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলে অভিহিত করেন, যা ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে প্রবল ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তোলে। ইসহাক দারের এই মন্তব্যকে ভারতীয় মহল ‘নির্লজ্জ ও নীতিহীন’ বলে বর্ণনা করেছে।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বৈঠক ডেকে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি কয়েকটি কড়া সিদ্ধান্ত নেয়। স্থগিত রাখা হয়েছে সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি। বাতিল করা হয়েছে পাকিস্তানি নাগরিকদের দেওয়া সমস্ত ভিসা। এমনকি চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা রোগীদেরও ফেরত পাঠানোর নির্দেশ জারি হয়েছে।

পাকিস্তান এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ বলে অভিহিত করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, “আমাদের যদি ক্ষতি করা হয়, তাহলে ভারতীয়দেরও নিরাপদ রাখা হবে না। আমরা পাল্টা জবাব দেব।”

পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে— যদি ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধুর জল আটকানো হয় বা দিক পরিবর্তন করা হয়, তাহলে তা সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হবে।

এই মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ক্রমাগত চড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এই নিয়ে— একদিকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও অন্যদিকে শক্ত প্রতিরোধের বার্তা— দক্ষিণ এশিয়ার দুই শক্তিধর দেশের সংঘাত যেন কেবল সময়ের অপেক্ষা।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code