Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

আবার দাবাং দিলীপের প্রত্যাবর্তন , ২০২৬ এর নির্বাচনে বং বিজেপির চার স্তম্ভ এবার একসাথে ? শুভেন্দু-সুকান্ত-শমিকের সাথে জুড়লো দিলীপ

 

'শাহ টনিক'-এ গলল বরফ! দিলীপ ঘোষের ফেসবুক পোস্টে শুভেন্দু-অমিত শাহের ছবি: তবে কি ২০২৬-এর আগে এক হচ্ছে বঙ্গ বিজেপি?

অমিত শাহের মধ্যস্থতায় বঙ্গ বিজেপিতে দিলীপ ঘোষের প্রত্যাবর্তন। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বরফ গলল? ২০২৬-এর আগে তৃণমূলের জন্য কী চ্যালেঞ্জ? বিস্তারিত পড়ুন।




নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বঙ্গ বিজেপিতে গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে যে অন্তর্দ্বন্দ্বের চাপা আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল, তার ওপর ‘জল’ ঢেলে দিলেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দীর্ঘদিনের বিবাদ, মান-অভিমান আর ‘কাঠিবাজি’র অভিযোগের পালা শেষে এবার এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। দিলীপ ঘোষের ফেসবুক পেজে অমিত শাহকে শুভেন্দু অধিকারীর সংবর্ধনা জানানোর ছবি প্রকাশ হওয়ার পরই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা— তবে কি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক মঞ্চে দেখা যাবে বঙ্গ বিজেপির সব রথী-মহারথীদের?

১. লোকসভা থেকে সায়েন্স সিটি: বিবাদের দীর্ঘ পথ

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষের সাফল্যের পর থেকেই রাজ্য বিজেপিতে তাঁর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর মতানৈক্যের খবর প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। মেদিনীপুরের মতো ‘জেতা আসন’ থেকে তাঁকে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে পাঠানোয় দিলীপ ঘোষ ‘ষড়যন্ত্রের গন্ধ’ পেয়েছিলেন। ভরাডুবির পর প্রকাশ্যে বারবার ‘কাঠিবাজি’র কথা বলে তিনি যে শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, তা কারও বুঝতে বাকি ছিল না।


ফলস্বরূপ, দিলীপ অনুগামীরা কার্যত শুভেন্দুর প্রতি খড়্গহস্ত হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে দিলীপ ঘোষকে দলের কর্মসূচিতেও ব্রাত্য করা হয়, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই শিবিরের কাদা ছোড়াছুড়ি থামেনি। ২০২৬-এর ভোটের আগে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

২. শাহের এন্ট্রি: ‘শাহ টনিকেই’ গলছে বরফ?

অবশেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সফরের দ্বিতীয় দিনে সায়েন্স সিটির কর্মী সম্মেলনে সেই কাঙ্ক্ষিত ‘মোড়’ এল। দিলীপ ঘোষকে কেবল সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোই নয়, অমিত শাহ তাঁর সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন। যদিও দিলীপবাবু সেই কথোপকথন নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন, শুধু বলেছেন, "শুধু শুনে গেছি।"

কিন্তু তাঁর ফেসবুক পেজে দুটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে: একটিতে তাঁকে সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলির সঙ্গে, অন্যটিতে অমিত শাহকে শুভেন্দু অধিকারীর সংবর্ধনা জানানোর ছবি। আর এই ছবি দেখেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে, "শাহ টনিকেই সম্পর্কের বরফ গলেছে।" দিলীপ ঘোষ ছবি পোস্ট করার পাশাপাশি তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক দিয়ে লিখেছেন, "২০২৬ নির্বাচন আসছে। এই নির্বাচনেই বাংলার মানুষ জবাব দেবে। আমরা প্রতিটি বুথে আরও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলব। আমাদের রাজ্যে রাষ্ট্রবাদী সরকার চাই।"

৩. অমিত শাহের বার্তা: ‘সর্বশক্তি দিয়ে’ লড়াই

অমিত শাহ নিজেও একই ছবি পোস্ট করে তৃণমূলকে উৎখাতের বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "পশ্চিমবঙ্গ আজ তৃণমূল কংগ্রেসের তোষণমূলক রাজনীতির ফলে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। এই বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যকে অনুপ্রবেশকারীমুক্ত করতে এবং বিজেপি সরকার গঠনের লক্ষ্যে দলের প্রতিটি কর্মী সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে।" শাহের এই বার্তাই প্রমাণ করে যে, ২০২৬-এর আগে দল আর কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখতে চায় না।

৪. সক্রিয় হচ্ছেন দিলীপ: আজই শমীকের সঙ্গে বৈঠক

শাহী বৈঠকের পরই গুঞ্জন ছিল যে দিলীপ ঘোষ আবার সক্রিয় হবেন। সেই অনুমানকে সত্যি প্রমাণ করে দিলীপ ঘোষ নিজেই জানিয়েছেন, আজই সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানেই তাঁকে তাঁর নতুন দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

দিলীপ ঘোষ যে বঙ্গ বিজেপির সফলতম রাজ্য সভাপতি ছিলেন, তা অনস্বীকার্য। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলায় বিজেপির শিকড় মজবুত হয়েছিল এবং ২০১৯ সালে দল ১৮টি লোকসভা আসন জিতেছিল। যদিও পরবর্তীতে তাঁকে কোণঠাসা করা হয়েছিল, কিন্তু ২০২৬-এর কঠিন লড়াইয়ে দিলীপের সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব।

দিলীপ ঘোষের কথায়, "আমি দলেই ছিলাম। হ্যাঁ, কোনও পদে ছিলাম না। পার্টি যেভাবে চাইবে আমি সেভাবেই কাজ করব।" বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে তাঁকে হারানোর বিষয়ে তিনি বলেন, "দল হয়তো ভেবেছিল মেদিনীপুর তো জেতা আসন, বর্ধমানও জিততে পারবে আমাকে দিলে। হয়তো লাভ হবে ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।" তাঁর এই বক্তব্যে মান-অভিমানের পর্ব শেষ হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। শোনা যাচ্ছে, বিজেপির যে পাঁচটি জোন রয়েছে, তার একটির দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হতে পারে।

৫. শুভেন্দুর ‘আমি নই, আমরা’ বার্তা

সাম্প্রতিক সময়ে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যেও পরিবর্তনের সুর শোনা যাচ্ছিল। সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলির মন্তব্য— "দিলীপবাবুর মধ্যে এখনো আগুন আছে। দলের জন্য তা কাজে লাগানো উচিত।"—তাও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। অভিজিৎ গাঙ্গুলির মতো একজন শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ নেতা বিরোধী দলনেতার বাইরে গিয়ে এই ধরণের মন্তব্য করবেন না, তা স্পষ্ট।

কলকাতায় অটল বিহারী বাজপেয়ীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত দলীয় অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, "আমি নই, আমরা সকলে মিলে অত্যাচারী মমতা ব্যানার্জির সরকারকে উৎখাত করব।" তিনি কর্মীদের সরাসরি তাঁর সাথে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "একমাত্র মুখোমুখি সংলাপেই সব মিমাংসা হতে পারে।" তাঁর এই সমস্ত কথা যে নিছক কথার কথা ছিল না, তা আজ দিলীপ ঘোষের সক্রিয়তাতেই স্পষ্ট।

উপসংহার: তৃণমূলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ?

এখন দেখার বিষয় হলো, রাজ্য বিজেপির ‘ত্রিশক্তি’ শুভেন্দু-শমীক-সুকান্তর সঙ্গে দিলীপ ঘোষ যুক্ত হয়ে ‘চতুঃশক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হন কিনা। যদি এই চার হেভিওয়েট নেতা একসঙ্গে এক মঞ্চে আসতে পারেন এবং একযোগে কাজ করেন, তবে তা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ২০২৬-এ এক নতুন এবং অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। শাহের এই ‘টনিক’ কি সত্যিই বঙ্গ বিজেপির রাজনৈতিক বিভেদ মুছে একতার সেতু তৈরি করতে পারবে? আগামী দিনই তার উত্তর দেবে।


Tags- দিলীপ ঘোষ অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী দিলীপ ঘোষ, বঙ্গ বিজেপি ২০২৬, শাহ টনিক, দিলীপ ঘোষ সক্রিয়তা, শমীক ভট্টাচার্য দিলীপ ঘোষ বৈঠক।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code