ওবিসি শংসাপত্র বাতিল! ভোটার তালিকায় নাম তুলতে কি ‘সিএএ’ (CAA) কার্ডই শেষ কথা? ঠাকুরনগরে অভিষেকের সফরের আগেই শুরু সংঘাতের হুঙ্কার
নিজস্ব প্রতিবেদন, ঠাকুরনগর ও কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে ভোটার তালিকায়। আর সেই তালিকার শুদ্ধিকরণ বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই এখন পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা। একদিকে ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ, অন্যদিকে মতুয়াদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা—সব মিলিয়ে জানুয়ারির শুরুতেই বাংলার রাজনীতিতে টর্নেডো আছড়ে পড়েছে।
১. বড় ধাক্কা ওবিসিদের: ২০১০-এর পরের শংসাপত্র কি মূল্যহীন?
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বড় এক সিদ্ধান্তের কথা জানাল নির্বাচন কমিশন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে হাতিয়ার করে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে:
২০১০ সালের পর ইস্যু করা ওবিসি সার্টিফিকেট এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে না।
জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন। যারা ওবিসি সার্টিফিকেটের ওপর ভিত্তি করে নাম তোলার আশা করেছিলেন, তাঁদের দুশ্চিন্তা এখন আকাশছোঁয়া।
২. ৯ই জানুয়ারি ঠাকুরনগরে অভিষেক: শুরু ‘র*ক্তের হলি’র হুমকি
মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে পাখির চোখ করে নতুন বছরের শুরুতেই বড় চমক দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৯ই জানুয়ারি তিনি উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিতে যাচ্ছেন। আর এই সফর ঘিরেই শুরু হয়েছে চরম উত্তেজনা।
শান্তনু ঠাকুরের হুঙ্কার: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা মতুয়া মহাসংঘের নেতা শান্তনু ঠাকুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, "অভিষেক ১০০০ পুলিশ নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে আসে। এখানে আসতে গেলে ভক্তসুলভ মন নিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য বা আমাদের পরিবার নিয়ে কোনো কথা এখানে চলবে না।"
তৃণমূলের পাল্টা: তৃণমূল শিবিরের হুঙ্কার, "যদি অভিষেককে আটকাতে রক্ত ঝরে, তবে ঠাকুরবাড়িতে র*ক্তের বন্যা বইবে।" প্রয়াত বীণাপাণি দেবী বা বড়মার স্মৃতিধন্য ঠাকুরবাড়িতে এই ক্ষমতার লড়াই এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।
৩. ভোটাধিকারের লড়াই: সিএএ (CAA) সার্টিফিকেট কি রক্ষা করবে?
এসআইআর-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, অনেক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম তালিকায় নেই। এমনই এক ভোটার সন্ধ্যা হালদার জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ২০০২ সালের কোনো নথি নেই, কিন্তু তিনি সিএএ (CAA) কার্ড বা সিটিজেন কার্ড পেয়েছেন। তাঁর আশা, হিয়ারিং-এর সময় এই কার্ডই তাঁকে বাঁচাবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কি এই একটি শংসাপত্রই যথেষ্ট? না কি কমিশনের নির্দিষ্ট করা ১১টি নথির লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়বেন মতুয়ারা?
৪. এসআইআর-এর অমানবিক রূপ: ক্যান্সার আক্রান্ত থেকে বৃদ্ধা—হেনস্তার অভিযোগ
রাজ্যজুড়ে চলা SIR শুনানিী বা হিয়ারিং প্রক্রিয়াকে ঘিরে উঠে আসছে চরম অমানবিকতার ছবি।
বাঁকুড়ার ক্যান্সার রোগী: তৃণমূলের অভিযোগ, ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন রোগী, যিনি কলকাতায় চিকিৎসাধীন, তাঁকে বাঁকুড়ায় সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কাউন্সিলর রাজীব দে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, "২৫০ কিমি রাস্তা পাড়ি দিয়ে আসতে গিয়ে যদি কিছু ঘটে যায়, তার দায় কি কমিশন নেবে?"
নন্দীগ্রামের পা ভাঙা বৃদ্ধা: কোমরের চোট ও পা ভাঙা অবস্থায় ৬০ বছর বয়সী বাহারুন বিবিকে টোটোয় করে শুনানিীতে আসতে হয়েছে। কমিশনের নির্দেশিকা সত্ত্বেও কেন আধিকারিকরা অসুস্থদের বাড়িতে যাচ্ছেন না, তা নিয়ে সরব হয়েছে সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম। তাঁরা ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ইমেল করে এই ‘অমানবিক’ পদ্ধতি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
📈 বিশেষ পরিসংখ্যান ও তথ্য (Infographic Data)
| ইস্যু | বর্তমান পরিস্থিতি | প্রভাব |
| ওবিসি সার্টিফিকেট | ২০১০-পরবর্তী শংসাপত্র বাতিল (কমিশনের নির্দেশ) | কয়েক লক্ষ আবেদনকারী দুশ্চিন্তায় |
| মতুয়া ভোট | ৯ জানুয়ারি অভিষেকের ঠাকুরনগর সফর | তৃণমূল-বিজেপি সরাসরি সংঘর্ষের সম্ভাবনা |
| সিএএ কার্ড | ভোটার তালিকায় নথি হিসেবে ব্যবহারের দাবি | আইনি বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে |
| SIR শুনানিী | অসুস্থদের সশরীরে হাজিরা বাধ্যতামূলক করার অভিযোগ | মানবাধিকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন |
ভোটার তালিকা সংশোধন ২০২৬, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠাকুরনগর সফর, ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল নির্দেশ, মতুয়া রাজনীতি ২০২৬, SIR শুনানিী হেনস্তা।
"অসুস্থ বা ক্যান্সার রোগীদের কি শুনানিী কেন্দ্রে ডেকে আনা উচিত? না কি কমিশনকে তাঁদের বাড়ি যাওয়া উচিত?"

0 মন্তব্যসমূহ