Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

১৪ বছরে বাংলা ছেড়েছে ৬৬০০-র বেশি কোম্পানি, শিল্পায়নের সোনার বাংলা এখন মরুভূমি ?

১৪ বছরে বাংলা ছেড়েছে ৬৬০০-র বেশি কোম্পানি, শিল্পায়নের সোনার বাংলা  এখন মরুভূমি ?



মানুষের ভাষা ওয়েব ডেস্ক, কলকাতা: একদা এশিয়ার অন্যতম শিল্প-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাংলা আজ তার সেই গৌরব হারিয়েছে। বাম জমানায় যে শিল্প অবক্ষয়ের চিত্রনাট্য লেখা শুরু হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তা যেন পূর্ণতা পেল। সংসদে পেশ করা কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক এক তথ্য অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে—অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে—৬৬৮৮টি কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে গিয়েছে। বিনিয়োগের নতুন গন্তব্য হিসেবে তারা বেছে নিচ্ছে উত্তরপ্রদেশ, দিল্লির মতো রাজ্যগুলোকে।

পরিসংখ্যান কী বলছে?

রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

  • গত দেড় দশকে: ৬,০০০-এর বেশি কোম্পানি বাংলা ছেড়েছে।

  • গত ৫ বছরে: ২০১৯ সাল থেকে ২,২০০-র বেশি কোম্পানি রাজ্য ত্যাগ করেছে।

  • তালিকাভুক্ত কোম্পানি: বাংলা ছেড়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১১০টি স্টক মার্কেটে নথিভুক্ত ছিল।

  • সবচেয়ে খারাপ সময়: ২০১৭-১৮ সালে সর্বাধিক ১০২৭টি কোম্পানি বাংলা ছাড়ে। তার আগে ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ সালে যথাক্রমে ৮৬৯ ও ৯১৮টি কোম্পানি রাজ্য ত্যাগ করেছিল।

গন্তব্য কোথায়? বাংলা ছেড়ে কোথায় যাচ্ছে শিল্প?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে যাওয়া কোম্পানিগুলো মূলত শিল্পবান্ধব রাজ্যগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছে।

  • মহারাষ্ট্র: ২০১১-২০২৫ সালের মধ্যে ১৩০০-র বেশি কোম্পানি মহারাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হয়েছে।

  • দিল্লি: ১২৯৭টি কোম্পানি রাজধানী দিল্লিকে বেছে নিয়েছে।

  • উত্তরপ্রদেশ: ৮৭৯টি কোম্পানি যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে চলে গিয়েছে।

  • অন্যান্য: গুজরাট, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়েও হাজারেরও বেশি কোম্পানি বাংলা থেকে সরে গিয়েছে।

মমতার শিল্পবিরোধী নীতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি

শিল্পের এই पलाয়নে মমতার সরকারের ‘শিল্পবিরোধী’ মনোভাব এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতিকে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে।

  • সিঙ্গুর আন্দোলন: টাটা মোটরসের ন্যানো কারখানা তাড়ানোর আন্দোলনই মমতাকে ক্ষমতায় এনেছিল। যে নেত্রী শিল্পের বিরোধিতাকে পুঁজি করে ক্ষমতায় এসেছেন, তাঁর কাছ থেকে শিল্পবান্ধব নীতি আশা করা বাতুলতা—এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।

  • শিল্প নীতির পরিবর্তন: ২০২৫ সালের এপ্রিলে মমতা সরকার ১৯৯৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চালু থাকা সমস্ত শিল্প উৎসাহ প্রকল্প বাতিল করে দেয়। এর ফলে জমি বা বিদ্যুতের দামে আর কোনো ছাড় পাবেন না বিনিয়োগকারীরা। অভিযোগ, ‘সামাজিক কাজ’-এর জন্য অর্থ সাশ্রয় করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ডালমিয়ার মতো সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর জন্য ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্বে রাজ্যে ৩৯ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ডিপিআইআইটি (DPIIT)-র রিপোর্ট আসল সত্য তুলে ধরেছে।

  • বাস্তব বিনিয়োগ: প্রস্তাবের তুলনায় বাস্তবে বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৩,৭৩৫ কোটি টাকা।

  • তুলনামূলক চিত্র: ২০২০-২৪ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে যেখানে ৭১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে, সেখানে বাংলায় তা মাত্র ১৫ হাজার কোটি টাকা। বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে ঝাড়খণ্ডেরও পেছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

উদ্বেগের কারণ

জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের চতুর্থ বৃহত্তম রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও শিল্প উৎপাদনে বাংলার অবদান মাত্র ৩.৫ শতাংশ। শিল্পের অভাবে রাজ্যে বেকারত্ব বাড়ছে। তার ওপর অবৈধ অনুপ্রবেশ, ঘনঘন দাঙ্গা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আইনশৃঙ্খলার করুণ দশার কারণে বড় কোম্পানিগুলো এখানে বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছে।

একসময় দেশের জিডিপিতে ১০ শতাংশের বেশি অবদান রাখা বাংলা আজ ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। মমতার সরকারের এই শিল্পবিমুখ মনোভাব বজায় থাকলে তা শুধু বাংলার নয়, সমগ্র দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকেও মন্থর করে দেবে—এমনটাই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

 Tags:

#MamataBanerjee #WestBengalIndustry #IndustrialMigration #TMCGovernment #UttarPradeshInvestment #CorporateAffairsMinistry #BengalEconomy #SingurMovement #ManusherBhasha

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code