সিরিয়ায় আইসিস ডেরায় আমেরিকার প্রলয়ঙ্করী বিমান হানা; ধ্বং স ৩৫টি জঙ্গি ঘাঁটি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক (১১ জানুয়ারি, ২০২৬): সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক নতুন এবং অত্যন্ত কঠোর অধ্যায় শুরু করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়ার মরুভূমিতে লুকিয়ে থাকা ইসলামিক স্টেট (ISIS)-এর প্রশিক্ষণ শিবির এবং অস্ত্রাগারগুলোর ওপর একের পর এক নিখুঁত নিশানায় হানা দিল মার্কিন বায়ুসেনা। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন হকআই স্ট্রাইক' (Operation Hawkeye Strike)। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিরিয়ায় সন্ত্রাসবাদীদের নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিতে এই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে ৯০টিরও বেশি প্রিসিশন মিউনিশন বা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র।
কেন এই ভয়াবহ প্রত্যাঘাত?
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সূত্রের খবর, এই বিমান হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। গত ডিসেম্বর মাসে সিরিয়ার পালমাইরা (Palmyra) অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর এক কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছিল আইএস জঙ্গিরা। সেই হামলায় আইওয়া ন্যাশনাল গার্ডের (Iowa National Guard) দুইজন সার্জেন্ট এবং একজন মার্কিন নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার পর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশে ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকেই আইএস নিধন যজ্ঞের পরিকল্পনা শুরু হয়। রবিবারের এই অপারেশন সেই প্রতিশোধেরই এক চূড়ান্ত রূপ। CENTCOM-এর পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, "যারা আমাদের সৈন্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে খুঁজে বের করে শেষ করা হবে।"
অপারেশন হকআই স্ট্রাইক: রণকৌশল ও ক্ষয়ক্ষতি
সিএনএন (CNN) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে দুই ডজনেরও বেশি মার্কিন লড়াুকু বিমান অংশগ্রহণ করেছিল। হামলার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
৩৫টি লক্ষ্যবস্তু: সিরিয়ার অভ্যন্তরে আইসিসের অন্তত ৩৫টি পৃথক আস্তানা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
৯০টি প্রিসিশন মিউনিশন: নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ৯০টিরও বেশি স্মার্ট বোমা ও মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।
সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের পতন: আইসিসের কমান্ড এবং কন্ট্রোল সেন্টারগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বড় কোনো হামলার পরিকল্পনা আপাতত ভেস্তে গিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান ও বৈশ্বিক প্রভাব
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই চালিয়ে যাবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তাঁর জমানায় আইসিসের পুনরুত্থান রুখতে এই ধরণের কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং তার সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মাঝেই এই মার্কিন হামলা আসলে একটি বড়সড় ‘পাওয়ার ডেমোনস্ট্রেশন’ বা শক্তির প্রদর্শন। আমেরিকা বুঝিয়ে দিল যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে তারা এখনও শেষ কথা।
সিরিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তার সংকট
এই বিমান হামলার ফলে সিরিয়ার আসাদ সরকার এবং তার মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের নতুন করে অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিরিয়ার আকাশসীমায় মার্কিন আধিপত্য রাশিয়ার জন্য অস্বস্তির কারণ। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, তারা কেবল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এবং তাদের সৈন্যদের সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সিরিয়ার স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, হামলার ফলে মরু অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা এখন ধোঁয়ায় ঢাকা। যদিও সিভিলিয়ান বা সাধারণ মানুষের হতাহতের কোনো খবর এখনও মেলেনি, তবে বড় সংখ্যায় আইএস জঙ্গিদের মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রবল।
এক নজরে সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা (Summary Table)
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| অভিযানের নাম | অপারেশন হকআই স্ট্রাইক (Operation Hawkeye Strike)। |
| লক্ষ্যবস্তু | সিরিয়ায় আইসিস (ISIS)-এর ৩৫টির বেশি আস্তানা। |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | ৯০টিরও বেশি প্রিসিশন মিউনিশন (Precision Munitions)। |
| অভিযানের কারণ | মার্কিন সৈন্য ও নাগরিকদের ওপর পূর্ববর্তী আইএস হামলার প্রতিশোধ। |
| বর্তমান স্থিতি | আইসিসের নেটওয়ার্ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত, এলাকায় উচ্চ সতর্কতা। |
শান্তির পথে নাকি নতুন যুদ্ধের পথে?
২০২৬-এর শুরুতেই সিরিয়ায় এই বিশাল হামলা প্রমাণ করছে যে, সন্ত্রাসবাদ নামক ক্যান্সারটি এখনও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। আমেরিকার এই ‘মাসিভ অ্যাটাক’ সাময়িকভাবে আইসিসকে দুর্বল করলেও, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে তা কতটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আক্রমণ ছিল অপরিহার্য। কারণ জঙ্গিদের ছেড়ে দিলে তারা আবারও বিশ্বজুড়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দিতে পারে।
সারসংক্ষেপ (Summary):
১১ জানুয়ারি ২০২৬-এ সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের ৩৫টি ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। পালমাইরা হামলায় মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই এই ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড。 এই অভিযানে ৯০টিরও বেশি অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে জঙ্গিদের যোগাযোগ ব্যবস্থা পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।
ট্যাগ (Tags):
#USAirStrike #SyriaAirstrike #ISISDefeat #OperationHawkeyeStrike #DonaldTrump #CENTCOM #InternationalNews #MiddleEastConflict #PrecisionMunitions #GlobalSecurity #BreakingNews2026
0 মন্তব্যসমূহ