“ম্যাজিকের নামই বিজেপি”: ২০২৬-এর গেমচেঞ্জার ‘সংখ্যালঘু ভোট’? ১০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলী হোসেনকে ফেরাল বিজেপি
বাংলার রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক বরাবরই একটি নির্ণায়ক শক্তি। ২০১১ সাল থেকে এই ভোটব্যাঙ্কের সিংহভাগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকলেও, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই সমীকরণ বদলাতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। শনিবার বিজেপির রাজ্য দপ্তরে নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণার পর সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি পদে আলী হোসেনকে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁর ১০ শতাংশ ভোটের লক্ষ্যমাত্রা ২০২৬-এর লড়াইয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মানুষের ভাষা, কলকাতা: “ম্যাজিকের নামই বিজেপি।” শনিবার সকালে বিজেপির রাজ্য দপ্তরের সামনে এই স্লোগানই ধ্বনিত হচ্ছিল। দীর্ঘ টালবাহানার পর বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি পদে আলী হোসেনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দায়িত্ব পেয়েই আলী হোসেন এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন— ২০২৬-এর নির্বাচনে অন্তত ১০ শতাংশ মুসলিম ভোটার সরাসরি বিজেপিকে সমর্থন করবেন。 বিজেপি নেতৃত্বের বিশ্বাস, মুসলিমদের এই সমর্থনই হবে ২০২৬-এ পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর।
“ম্যাজিকের নামই বিজেপি।”
শনিবারের অনুষ্ঠানে আলী হোসেন স্পষ্ট জানান যে, ভারতীয় জনতা পার্টি এবার নূন্যতম ১০ শতাংশের বেশি মুসলিম ভাইদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে。 সুকান্ত মজুমদারের জমানায় এই পদে চার্লস নন্দীকে আনা হলেও, মুসলিম সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে আলী হোসেনকে ফিরিয়ে আনা শৌমিক ভট্টাচার্য জমানার এক বিশেষ কৌশল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল。 বিজেপির রাজ্য সভাপতি শৌমিক ভট্টাচার্য শুরু থেকেই বার্তা দিয়েছেন যে, বিজেপির লড়াই কোনো মুসলমানের বিরুদ্ধে নয়, বরং তৃণমূলের ‘তুষ্টির রাজনীতি’ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে。 বিজেপি নেতাদের দাবি, তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘুদের ‘ভয়’ দেখিয়ে ভোট নিলেও, এবার তারা বুঝে গেছে যে তৃণমূল আসলে ‘ধোকাবাজ’。
হুমায়ুন কবীরের JUP ও নওশাদ সিদ্দিকীর অবস্থান
তৃণমূলের অটুট সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে শুধু বিজেপি নয়, এবার ময়দানে নেমেছে আরও দুটি বড় শক্তি। ভরতপুরের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর গঠন করেছেন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP)। মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো জেলাগুলোতে হুমায়ুনের প্রভাব তৃণমূলের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে জোটের অংক মেলাতে গিয়ে শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে বড় ধাক্কা খেয়েছেন হুমায়ুন। ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেও নওশাদ তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। নওশাদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, অফিশিয়াল চিঠি ছাড়া তিনি কোনো আলোচনায় বসবেন না এবং হুমায়ুনের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ চরিত্র নিয়ে এখনও তাঁদের মনে প্রশ্ন আছে।
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের নয়া সমীকরণ
২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তৃণমূলের জয়যাত্রার মূলে ছিল মুসলিম ভোটারদের প্রায় একচেটিয়া সমর্থন। কিন্তু ২০২৬-এর চিত্রটা আলাদা:
১. ভোট ভাগাভাগি: হুমায়ুন কবীর ও নওশাদ সিদ্দিকী যদি আলাদাভাবে লড়েন, তবে সংখ্যালঘু ভোট তিন ভাগে ভাগ হতে পারে。
২. বিজেপির থাবা: আলী হোসেনের নেতৃত্বে বিজেপি যদি সত্যি ১০ শতাংশ ভোট নিজেদের দিকে টানতে পারে, তবে তা তৃণমূলের জন্য হবে মরণকামড়。
৩. তৃণমূলের পাল্টা: তৃণমূল মুখপাত্রদের দাবি, বাবরী মসজিদ ধ্বংসের স্লোগান দেওয়া দলের সাথে সুস্থ চিন্তার কোনো মানুষ থাকতে পারে না。 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই নিজেকে সংখ্যালঘুদের ‘একমাত্র রক্ষাকর্তা’ হিসেবে তুলে ধরেছেন。
এক নজরে সংখ্যালঘু রাজনীতির গতিপথ (Table Summary)
| শক্তি / দল | কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রা | সম্ভাব্য প্রভাব |
| বিজেপি (আলী হোসেন) | ১০% মুসলিম ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন। | তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান কমিয়ে দেওয়া। |
| তৃণমূল (মমতা ব্যানার্জী) | নিরাপত্তা ও উন্নয়ন দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখা। | দুর্গ রক্ষায় মরিয়া চেষ্টা। |
| হুমায়ুন কবীর (JUP) | মুর্শিদাবাদ ও মালদায় তৃণমূলের বিকল্প হওয়া। | সংখ্যালঘু ভোটে ফাটল ধরানো। |
| নওশাদ সিদ্দিকী (ISF) | বামেদের সাথে জোটে থেকে স্বাধীন শক্তি হওয়া। | দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ করা। |
শমিক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য কমিটি এবার সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে বড় বাজি ধরেছে। আলী হোসেনকে ফিরিয়ে আনা সেই কৌশলেরই অংশ。 অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর ও নওশাদ সিদ্দিকীর মধ্যে যে ‘ঠান্ডা লড়াই’ শুরু হয়েছে, তা তৃণমূলের জন্য সাময়িক স্বস্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তার কারণ。 ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কি সত্যিই ‘সংখ্যালঘু ম্যাজিক’ কাজ করবে, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ধাত্রীবাদ’ আবারও জয়ী হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সারসংক্ষেপ (Summary):
বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি হিসেবে আলী হোসেনের প্রত্যাবর্তন ২০২৬-এর লড়াইয়ে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে。 একদিকে বিজেপি যখন ১০ শতাংশ মুসলিম ভোটের লক্ষ্যে এগোচ্ছে, অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর ও নওশাদ সিদ্দিকীর মধ্যে চলা ‘জোট জট’ সংখ্যালঘু রাজনীতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। তৃণমূলের একচেটিয়া ভোটব্যাঙ্কে এবার চার দিক থেকে আক্রমণের প্রস্তুতি চলছে।
ট্যাগ (Tags):
#MinorityVoteBengal #BJPWestBengal #AliHossain #HumayunKabir #JanataUnnayanParty #NaushadSiddiqui #WestBengalElection2026 #MuslimVoteBank #TMCvsBJP #FurfuraSharifPolitics


0 মন্তব্যসমূহ