শুভেন্দুর ওপর হামলায় রিপোর্ট তলব অমিত শাহের মন্ত্রকের! ভিডিও ফুটেজ পাঠাচ্ছে বিজেপি; পাল্টা ‘নাটক’ খোঁচা তৃণমূলের
শনিবার ১০ জানুয়ারি ২০২৬-এর চন্দ্রকোনা কাণ্ড বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজপথ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এবার সরাসরি দিল্লির দরবারে পৌঁছে গেল। শুভেন্দু অধিকারীর ওপর ‘হামলা’ এবং তার প্রেক্ষিতে তাঁর ছয় ঘণ্টার পুলিশ ফাঁড়ি অবরোধের ঘটনায় এবার নজিরবিহীনভাবে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
Image- The Daily Jagran
মানুষের ভাষা, কলকাতা (১১ জানুয়ারি, ২০২৬): চন্দ্রকোনা রোডে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে ২০২৬-এর আগে তুঙ্গে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। শনিবার রাতের এই ঘটনার পর পরিস্থিতি এতটাই গম্ভীর যে, খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Union Home Ministry) রাজ্য সরকারের কাছে বিশদ রিপোর্ট তলব করেছে। সূত্রের খবর, শনিবার রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী, যেখানে তিনি বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘চরম অবনতি’র কথা তুলে ধরেন।
Image- The Sunday Guardian
ছয় ঘণ্টার নজিরবিহীন অবস্থান ও শাহের হস্তক্ষেপ
শনিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ চন্দ্রকোনা রোডে শুভেন্দুর গাড়িতে হামলার পর তিনি সোজা চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে পড়েন। ফাঁড়ির ইনচার্জের ঘরের মেঝেতে বসে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভ চালান তিনি। শুভেন্দুর দাবি ছিল, হামলাকারী তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। শেষ পর্যন্ত রাত দেড়টা নাগাদ তিনি ফাঁড়ি ছাড়েন।
বিজেপি সূত্রের দাবি, এই অবস্থানের মাঝেই অমিত শাহের দপ্তর থেকে শুভেন্দুর কাছে ফোন আসে। শুভেন্দু তাঁকে জানান যে, সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের উপস্থিতিতেই তাঁর ওপর হামলা হয়েছে এবং পুলিশ নীরব দর্শক ছিল। এই অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করেই রবিবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্য পুলিশের কাছে ঘটনার সবিস্তার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে।
অরূপ চক্রবর্তীর বিস্ফোরক দাবি: ‘বিজেপি নেতাকেই পিটিয়েছে সিআরপিএফ’
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই পুরো ঘটনাকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী ফেসবুকে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর মতে, শুভেন্দুর সুরক্ষায় থাকা সিআরপিএফ জওয়ানরা ‘বহিরাগত’ হওয়ায় স্থানীয় বিজেপি নেতাদের চিনতে পারেনি। উত্তেজনার সময় সিআরপিএফ-এর লাঠিপেটায় নাকি খোদ স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা মণ্ডল সভাপতি গৌতম কৌরি আহত হয়েছেন। অরূপের বিদ্রূপ, “যিনি সিআরপিএফ বেষ্টনীতে থেকেও স্লোগান সামলাতে পারেন না, তিনি আবার রাজ্য শাসন করবেন!”। তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের মতে, জেলায় অস্থিরতা তৈরি করার জন্যই শুভেন্দু এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
ভিডিও ফুটেজ ও মঙ্গলবার চন্দ্রকোনা চলো
শুভেন্দু অধিকারীর অফিস থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনার পরিষ্কার ভিডিও ফুটেজ এবং ড্রোন শট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে তৃণমূলের স্থানীয় যুব সভাপতি এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে বলে দাবি ইডির। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ১৩ জানুয়ারি, মঙ্গলবার চন্দ্রকোনায় বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “১৪ ফেব্রুয়ারির পর তৃণমূলের আর ভোটে লড়ার ক্ষমতা থাকবে না”।
চন্দ্রকোনার এই সংঘাত এখন আর স্রেফ একটি হামলার অভিযোগ নয়, বরং তা ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে একটি বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট তলব এবং শুভেন্দুর ভিডিও ফুটেজ পেশ করার সিদ্ধান্ত নবান্নকে আইনি ও প্রশাসনিক চাপের মুখে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূলের ‘ভুল করে বিজেপি নেতাকে পিটুনি’র তত্ত্ব এই লড়াইয়ে নতুন হাস্যরস ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সারসংক্ষেপ (Summary):
শনিবার রাতে চন্দ্রকোনায় শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। শুভেন্দু অধিকারী রাতভর পুলিশ ফাঁড়িতে ধর্না দেওয়ার পর আগামী মঙ্গলবার চন্দ্রকোনায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন। তৃণমূল এই ঘটনাকে ‘বিজেপি বনাম বিজেপি’ লড়াই এবং রাজনৈতিক নাটক বলে কটাক্ষ করেছে।
ট্যাগ (Tags):
#SuvenduAdhikari #AmitShah #HomeMinistryReport #ChandrakonaAttack #WestBengalPolitics #TMCvsBJP #ArupChakraborty #CentralReport #LawAndOrderBengal #BengalElection2026


0 মন্তব্যসমূহ