Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনে ভোট হলে কি কি পাল্টে যেতে পারে ?

শাসক দলের অধীনে ভোট বনাম রাষ্ট্রপতি শাসন: বাংলার প্রেক্ষাপটে নির্বাচন, প্রশাসন ও সাংবিধানিক বাস্তবতার বিশ্লেষণ

সারসংক্ষেপ (Summary):

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নির্বাচন এবং সন্ত্রাস যেন সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাসক দলের অধীনে নির্বাচন হলে পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশে ব্যাপক ছাপ্পাভোট, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার যে অভিযোগগুলি বারবার সামনে আসে, তা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। এই পরিস্থিতিতে একটি জ্বলন্ত প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে ঘোরে— যদি সংবিধানের ৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে বাংলায় ভোট করানো হয়, তবে কি এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব? শাসক দলের অধীনে ভোট এবং রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে ভোটের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, পুলিশের নিয়ন্ত্রণ এবং সাংবিধানিক রূপরেখায় ঠিক কী কী পার্থক্য ঘটে? এই প্রতিবেদনে রইল তারই এক বিস্তৃত ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ।


সম্পাদকীয় , মানুষের ভাষা, প্রবীর রায় চৌধুরী : 


গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো নির্বাচন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে, বিশেষত গত কয়েক দশকে, এই উৎসব বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) আমলে বিরোধী দল ও সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত যে মারাত্মক অভিযোগগুলি উঠে আসে তা হলো— প্রশাসন ও পুলিশকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার করা, বিরোধীদের ভোটদানে বাধা দেওয়া, ব্যাপক রিগিং বা ছাপ্পা ভোট এবং সবশেষে শিউরে ওঠার মতো প্রাক ও ভোট-পরবর্তী হিংসা (Pre and Post-poll violence)।

এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় বারবার একটি দাবিই জোরালো হয়ে ওঠে— রাজ্যে ৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে তবেই বিধানসভা নির্বাচন করা হোক। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেই কি রাতারাতি ম্যাজিক হয়ে যাবে? শাসক দল ক্ষমতায় থাকাকালীন নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে নির্বাচনের মধ্যে সাংবিধানিক, আইনি এবং বাস্তবতান্ত্রিক পার্থক্য ঠিক কোথায়?

দীর্ঘ রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতার নিরিখে, আসুন আজ আমরা এই দুটি ভিন্ন পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্রটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করি।

১. শাসক দলের অধীনে নির্বাচন: বর্তমান ব্যবস্থা ও তার ত্রুটি

ভারতের সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারা (Article 324) অনুযায়ী নির্বাচনের সমস্ত দায়িত্ব, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা সম্পূর্ণভাবে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India - ECI) হাতে ন্যস্ত থাকে। আদর্শগতভাবে, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর অর্থাৎ আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct - MCC) লাগু হওয়ার পর থেকে গোটা রাজ্য প্রশাসন কমিশনের অধীনে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে চিত্রটা অন্যরকম হয়।

প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের ভূমিকা:

শাসক দলের অধীনে ভোট হলে, মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভা ক্ষমতায় বহাল থাকেন (Caretaker Government হিসেবে)। নির্বাচন কমিশন যদিও পুলিশ সুপার (SP), জেলা শাসক (DM) বা রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (DGP)-কে বদলি করতে পারে, কিন্তু নিচুতলার পুলিশ কর্মী, থানার ওসি (OC) বা আইসি (IC) এবং ব্লক স্তরের আধিকারিকরা (BDO) সেই একই থাকেন। অভিযোগ ওঠে যে, এই আধিকারিকরা বছরের পর বছর শাসক দলের অধীনে কাজ করার ফলে এবং ভোটের পরেও সেই দলেরই ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা থাকায়, তারা শাসক দলের নেতাদের নির্দেশেই কাজ করেন।

ভীতিপ্রদর্শন ও রিগিং-এর মেকানিজম:

পশ্চিমবঙ্গে শাসক দলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ওঠে, তা হলো এই প্রশাসনিক আনুকূল্যকে কাজে লাগিয়েই 'ভয়ের পরিবেশ' তৈরি করা। পুলিশ নিস্ক্রিয় থাকে বা অনেক ক্ষেত্রে শাসক দলের ক্যাডারদের মদত দেয়। বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের বুথে বসতে না দেওয়া, সাধারণ ভোটারদের বুথমুখী হতে বাধা দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) এলেও তাদের সঠিক জায়গায় মোতায়েন না করে রাজ্য পুলিশের মাধ্যমে তাদের নিষ্ক্রিয় করে রাখার মতো ঘটনা শাসক দলের নির্দেশেই ঘটে বলে মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে।

২. ৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসনের রূপরেখা (Constitutional Guidelines)

সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করা হলে রাজ্যের সম্পূর্ণ ক্ষমতা মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাত থেকে রাষ্ট্রপতির হাতে চলে যায়। রাষ্ট্রপতি তার প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যের রাজ্যপালকে (Governor) শাসনভার অর্পণ করেন। এই সময় বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয় বা সাসপেন্ড করে রাখা হয়।

কীভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা?

রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে রাজ্যপাল কেন্দ্র সরকারের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের) সঙ্গে পরামর্শ করে কয়েকজন প্রবীণ, নিরপেক্ষ ও অবসরপ্রাপ্ত আমলাকে তাঁর 'উপদেষ্টা' (Advisors to the Governor) হিসেবে নিয়োগ করেন। এই উপদেষ্টারাই বিভিন্ন মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান। অর্থাৎ, রাজ্যের রাজনৈতিক মাথার জায়গায় সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মাথা বসে যায়।

৩. রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে নির্বাচন: পার্থক্য কোথায় গড়ে ওঠে?

যদি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন চলাকালীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং সাধারণ ভোটারের মনস্তত্ত্বে এক আমূল পরিবর্তন আসে। এর প্রধান কারণগুলি হলো:

ক) শীর্ষ স্তরে রাজনৈতিক প্রভাবের সম্পূর্ণ অবসান:

সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো 'কম্যান্ড স্ট্রাকচার' বা নির্দেশ দেওয়ার শৃঙ্খলে। শাসক দলের কোনো নেতা, মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর আর পুলিশ বা প্রশাসনের ওপর কোনো আইনি বা পোশাকি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। পুলিশ ডিরেক্টরেট (ভবানী ভবন) এবং রাজ্য সচিবালয় (নবান্ন) সরাসরি রাজ্যপালের নির্দেশে চলে। ফলে, ওপরতলা থেকে পুলিশকে "বিরোধীদের ওপর হামলা হলে চোখ বন্ধ করে থাকো" বা "শাসক দলের ক্যাডারদের সুবিধা করে দাও"— এই ধরনের বেআইনি নির্দেশ আসার রাস্তাটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

খ) নির্বাচন কমিশনের অবাধ ক্ষমতা:

শাসক দলের অধীনে কমিশনকে পদে পদে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার মুখে পড়তে হয়। কোথায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নামবে, তাদের রুট মার্চ কীভাবে হবে— তা ঠিক করে রাজ্য পুলিশের তৈরি করা কমিটি। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসনে রাজ্যপাল এবং নির্বাচন কমিশন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। কমিশন যা নির্দেশ দেয়, রাজ্যপালের প্রশাসন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বাধ্য থাকে, কারণ সেখানে কোনো রাজনৈতিক ইগো বা শাসক দলকে জেতানোর তাগিদ থাকে না।

গ) কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) কার্যকর ব্যবহার:

ভোটের সময় বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। রাজ্য পুলিশ অনেক সময়ই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্পর্শকাতর এলাকা থেকে দূরে বসিয়ে রাখে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসনে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং রাজ্যপালের নির্দেশনায় কাজ করতে পারে। প্রতিটি বুথে, প্রতিটি স্পর্শকাতর এলাকায় বিনা বাধায় রুট মার্চ এবং এরিয়া ডমিনেশন (Area Domination) করা সম্ভব হয়।

ঘ) পক্ষপাতদুষ্ট আধিকারিকদের গণ-বদলি:

রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া মাত্রই রাজ্যপাল এবং তাঁর উপদেষ্টারা প্রশাসনের খোলনলচে বদলে ফেলতে পারেন। যে সমস্ত আইএএস (IAS), আইপিএস (IPS), জেলা শাসক বা থানার ওসি-দের বিরুদ্ধে শাসক দলের হয়ে কাজ করার বা তোলাবাজি ও রিগিংয়ে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের রাতারাতি সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কড়া ও নিরপেক্ষ আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যেটা করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে এবং প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়, রাজ্যপালের কলমের এক খোঁচায় তা কয়েক ঘণ্টায় হয়ে যায়।

৪. মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: ভয় কাটানোই আসল চাবিকাঠি

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে রিগিং কেবল পেশিশক্তি দিয়ে হয় না, মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেও হয়। সাধারণ ভোটাররা জানেন, "ভোট দিয়ে ফেরার পর রাতে যদি আমার বাড়িতে হামলা হয়, তাহলে পুলিশ বাঁচাতে আসবে না, উল্টে আমাকেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেবে।"

রাষ্ট্রপতি শাসনে এই 'ভয়ের সমীকরণ'-টি উল্টে যায়।

  • শাসক দলের নিচুতলার দুষ্কৃতীরা জানে যে, ওপরতলায় তাদের বাঁচানোর মতো কোনো মন্ত্রী বা নেতা বসে নেই।

  • পুলিশ জানে যে, শাসক দলের কথা শুনে বেআইনি কাজ করলে তাদের সাসপেন্ড হতে হবে এবং বদলি করে দেওয়া হবে, কারণ মাথায় কোনো রাজনৈতিক বস নেই।

  • সাধারণ ভোটার সাহস পান এটা ভেবে যে, প্রশাসন এখন নিরপেক্ষ।

৫. প্রাক ও ভোট-পরবর্তী হিংসা (Pre and Post-Poll Violence) রোধ

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলির (যেমন ২০২১-এর বিধানসভা বা ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচন) অন্যতম কালো অধ্যায় হলো ভোট-পরবর্তী হিংসা। ভোট মেটার পর এবং ফল ঘোষণার দিন থেকে বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর, এমনকি সাধারণ ভোটারদের ওপর যে নারকীয় অত্যাচার, খুন, ধর্ষণ ও ঘরছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে, তা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে বিরল।

শাসক দল ক্ষমতায় থাকলে ফল ঘোষণার পর পুলিশ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, কারণ তারা নতুন করে ক্ষমতায় ফেরা প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসনে, নতুন নির্বাচিত সরকার শপথ নেওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত রাজ্যপালই প্রশাসনের সর্বেসর্বা থাকেন। অর্থাৎ ভোটগণনা এবং তার পরবর্তী সময়েও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্যপালের কড়া শাসন বহাল থাকে। ফলে বিজয়োৎসবের নামে বিরোধী নিধন বা সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ভাঙচুর করার মতো ঘটনা শক্ত হাতে দমন করা সম্ভব হয়।

৬. বাস্তবতার আয়না: রাষ্ট্রপতি শাসন কি ১০০% ত্রুটিমুক্ত?

সাংবিধানিক তত্ত্ব এবং বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে কিছু ফাঁক থেকেই যায়। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেই বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের তৃণমূল স্তরের রাজনীতি রাতারাতি রামরাজ্যে পরিণত হবে।

  • নিচুতলার ক্যাডার ভিত্তি: কোনো দলের যদি প্রতিটি বুথে দুষ্কৃতী বাহিনী ও শক্তিশালী ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠন থাকে, তবে রাষ্ট্রপতি শাসনেও তারা চোরাগোপ্তা ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে।

  • পুলিশের মানসিকতা: দীর্ঘ দেড় দশক বা তার বেশি সময় ধরে শাসক দলের প্রতি আনুগত্য দেখাতে দেখাতে রাজ্য পুলিশের নিচুতলার কনস্টেবল বা এসআই-দের মানসিকতায় যে পচন ধরেছে, তা রাতারাতি বদলে ফেলা কঠিন।

  • কেন্দ্রীয় বাহিনীর সীমাবদ্ধতা: ভিন রাজ্য থেকে আসা আধা-সামরিক বাহিনীর পক্ষে স্থানীয় ভাষা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থানীয় দুষ্কৃতীদের চেনা সব সময় সম্ভব হয় না। রাজ্য পুলিশের গাইডেন্স ছাড়া তারা অনেক সময়ই অন্ধকারে হাতড়ায়।

সংবিধানের ৩৫৬ ধারা কোনো ম্যাজিক দণ্ড নয়, কিন্তু বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি— যেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে মানুষকে প্রাণের ঝুঁকি নিতে হয়— সেখানে এটি একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং কার্যকরী 'শক থেরাপি' (Shock Therapy) হতে পারে।

শাসক দলের অধীনে নির্বাচন হলে নির্বাচন কমিশনকে অনেকটা 'নখদন্তহীন ব্যাঘ্র'-এর মতো কাজ করতে হয়, কারণ প্রশাসনের শিরা-উপশিরায় রাজনৈতিক বিষ ছড়িয়ে থাকে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে নির্বাচন হলে কমিশন একটি পরিষ্কার ক্যানভাস পায়। প্রশাসনিক বাধা, পুলিশের পক্ষপাতিত্ব এবং সরকারের রাজনৈতিক ইগো— এই তিন প্রধান অন্তরায় দূর হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পথটি অন্তত সুগম হয়। একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে গেলে, ভয়মুক্ত নির্বাচনই হলো প্রথম এবং প্রধান শর্ত। আর সেই পরিবেশ তৈরি করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে কড়া নিরপেক্ষ প্রশাসনের নজরদারিতে নির্বাচন পরিচালনা করাটা বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

Tags:

#WestBengalPolitics #Article356 #PresidentsRule #ElectionCommissionOfIndia #TMCViolence #BengalElections #IndianConstitution #RiggingInElections #PoliticalAnalysis #ManusherBhasha #PostPollViolenceWB #CAPF #DemocracyInDanger #LawAndOrderWB #পশ্চিমবঙ্গেররাজনীতি #রাষ্ট্রপতিশাসন #নির্বাচনকমিশন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code