‘সংবিধান মানলে ভয় কিসের?’ ভোটার তালিকা স্বচ্ছ করতে শুভেন্দুর হুঙ্কারে কোণঠাসা শাসক শিবির
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যখন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার তোড়জোড় করছে, তখন সংবিধানের রক্ষাকবচকে সামনে রেখে পাল্টা লড়াইয়ের ডাক দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাফ কথা, সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই কাজ চলছে। যারা ভোটার তালিকায় কারচুপি করে জিততে চায়, ভয় কেবল তাদেরই।
সংবিধানের পাঠ দিলেন শুভেন্দু
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তৃণমূলের মামলার প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, সংবিধানের ৩২৪ থেকে ৩২৯ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, “সংবিধান না পড়লে এই ধরণের মামলা করা সম্ভব। সুপ্রিম কোর্ট সর্বোচ্চ আইন সংস্থা, তারা সংবিধান অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেবে। যারা জটিলতা তৈরি করেছে, ভোটার তালিকায় ভুল নাম ঢুকিয়েছে, তারা আসলে তৃণমূলের লোক।”
‘মাইক্রো-অবজার্ভার’ নিয়োগে কেন ভয় শাসক দলের?
নির্বাচন কমিশন রাজ্যে ৮১০০ জন মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ করেছে ভোটার তালিকা স্বচ্ছ করতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরোধিতা করলেও শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এটিই গণতন্ত্র রক্ষার আসল পথ। তিনি বলেন:
স্বচ্ছতা আনবে কমিশন: ভিন রাজ্যের দক্ষ পর্যবেক্ষকরা আসলে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর শাসক দলের প্রভাব কমাতে সাহায্য করবেন।
বিএলও ও ডিএম-দের ভূমিকা: শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূলের তৈরি করা বিএলও তালিকা এবং জেলাশাসকদের একতরফা কাজের জন্যই ভোটার তালিকায় এত ভুল। মাইক্রো-অবজার্ভাররা থাকলে সেই ‘চুরি’ ধরা পড়ে যাবে বলেই শাসক দল আজ আতঙ্কিত।
আইনি লড়াই বনাম গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা
ইতিমধ্যেই ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্রদের মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। বুধবার ফের এই মামলার শুনানি। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নিজের মামলা করাকে শুভেন্দু অধিকারী ‘চাপ তৈরির রাজনীতি’ হিসেবে দেখছেন। শুভেন্দু শিবিরের দাবি, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা করে আসলে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ভয় দেখাতে চাইছে নবান্ন। কিন্তু আইন ও সংবিধান মেনে কমিশন তার কাজ করবেই।
শুভেন্দুর নজরে ‘ভোটার জালিয়াতি’ রোধ
বিরোধী দলনেতা বারবার সরব হয়েছেন যে, রাজ্যে ‘বৈধ’ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে সেখানে ‘অবৈধ’ বা ‘অনুপ্রবেশকারী’দের নাম রাখার চেষ্টা চলে। কমিশনের স্পেশাল সামারি রিভিশন (SSR) সেই জালিয়াত চক্রকে ভেঙে দেবে। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা— দিল্লির কমিশন কিংবা সুপ্রিম কোর্ট, কোথাওই ধোপে টিকবে না তৃণমূলের এই বিরোধিতা। কারণ, গণতন্ত্রে একমাত্র স্বচ্ছ ভোটার তালিকাই শেষ কথা।
Tags:
#SuvenduAdhikari #WestBengalPolitics #ElectionCommissionOfIndia #VoterListRevision #MamataBanerjee #SupremeCourt #MicroObserver #WestBengalNews #BJPWestBengal #ConstitutionalRights #Section324

0 মন্তব্যসমূহ