নজিরবিহীন: স্বরাষ্ট্র সচিব ও হাওড়ার সিপি-কে ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষকের প্রশিক্ষণ নিতে নির্দেশ কমিশনের, তুঙ্গে সংঘাত
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে যখন ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পারদ চড়ে রয়েছে, সেই আবহেই নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী-সহ রাজ্যের মোট ২৫ জন উচ্চপদস্থ অফিসারকে ভিন রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক (Observer) হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে নবান্ন ও কমিশনের মধ্যে সংঘাত এক নতুন মাত্রা পেল।
রীতি ভেঙে স্বরাষ্ট্র সচিবকে তলব?
আগামী ৫ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি এই বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ১৫ জন আইএএস (IAS) এবং ১০ জন আইপিএস (IPS) অফিসারকে এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। সাধারণত জয়েন্ট সেক্রেটারি বা অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি পদমর্যাদার অফিসারদেরই পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করার দস্তুর রয়েছে। কিন্তু এবার স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পদস্থ কমিশনারকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই ধরণের ‘এনরমাস প্লেনারি পাওয়ার’ বা অসীম ক্ষমতা থাকলেও, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব বা সিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিদের এই কাজে ব্যবহার করা ‘রীতিবিরুদ্ধ’।
চার চারবার রিমাইন্ডার, মেলেনি প্যানেল
কমিশন সূত্রে খবর, এই নিয়োগ হঠাত করে করা হয়নি। ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষক নিয়োগের জন্য রাজ্যের কাছ থেকে চারবার প্যানেল চাওয়া হয়েছিল। গত নভেম্বর মাসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার স্বয়ং চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনবার রিমাইন্ডার দেওয়া হলেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনও তালিকা পাঠানো হয়নি।
রাজ্য সাড়া না দেওয়ায় কমিশন শেষ পর্যন্ত সিনিয়রিটির তালিকা অনুযায়ী ‘র্যান্ডম সিলেকশন’ বা দৈবচয়ন পদ্ধতিতে অফিসারদের বেছে নিয়েছে। কমিশনের সাফ কথা, যেহেতু প্যানেল আসেনি, তাই তালিকায় যাদের নাম পরপর ছিল, তাদেরই তলব করা হয়েছে। এর মধ্যে আলাদা করে স্বরাষ্ট্র সচিবকে বাছার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।
“প্রশাসন পঙ্গু করার অপচেষ্টা”, সুর চড়ালো শাসকদল
কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। শাসকদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হাওড়ার কমিশনার এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের মতো কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনকে ‘পঙ্গু’ করার চক্রান্ত চলছে। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল শিবিরের তোপ, “এই নির্বাচন কমিশন আসলে নির্যাতন কমিশন বা কৃতদাস কমিশন। বিজেপির চাকরগিরি করতে গিয়ে এরা বাংলার প্রশাসনকে পঙ্গু করে দিতে চাইছে।”
এক নজরে কমিশনের নির্দেশিকা:
প্রশিক্ষণের তারিখ: ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি।
মোট অফিসার: ২৫ জন (১৫ জন আইএএস, ১০ জন আইপিএস)।
প্রক্রিয়া: পাঁচ রাজ্যের (পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ু, অসম ও পুদুচেরি) নির্বাচনী নজরদারির জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ।
প্যানেল বিতর্ক: চারবার চিঠি দিলেও রাজ্যের তরফ থেকে কোনও তালিকা মেলেনি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাজ্য সরকার কি শেষ পর্যন্ত এই ২৫ জন অফিসারকে প্রশিক্ষণে পাঠাবে? না কি এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আবারও আইনি বা প্রশাসনিক লড়াই শুরু হবে? কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, রাজ্য চাইলে এখনও নতুন কোনও তালিকা পাঠাতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে।
ট্যাগসমূহ (Tags):
#ECIAction, #WestBengalHomeSecretary, #PravinTripathi, #ElectionObserverTraining, #IASIPSWestBengal, #Election2026, #NabannaVsECI, #KolkataNews, #BreakingNewsBengal, #ManusherBhashaReport

0 মন্তব্যসমূহ