Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

২০১১-র আগের সেই ভয়াবহ লক্ষণ, তৃণমূল এখন হারার আতঙ্কে ভুগছে : বেহালার ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারী

বেহালায় নজিরবিহীন রণক্ষেত্র: বিজেপির মঞ্চে অগ্নিসংযোগ, ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত শখের বাজার


নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে তপ্ত মহানগরী। এবার খোদ দক্ষিণ কলকাতার বেহালায় শখের বাজার এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল তৃণমূল ও বিজেপি। একদিকে প্রাক্তন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের উপস্থিতিতে বিজেপির সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে ঢুকে খেলোয়াড়দের মারধরের পালটা অভিযোগ— সব মিলিয়ে রবিবার রাত থেকে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ডায়মন্ড হারবার রোড সংলগ্ন এই এলাকা। সোমবার সকালেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে শখের বাজারে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত: মাইক বাজানো নিয়ে বিবাদ

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার বিকেলে। বেহালার শখের বাজারে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’র আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। অন্যদিকে, সেই সভামঞ্চ থেকে কয়েকশ মিটার দূরে বরিশা ক্লাবে চলছিল দীর্ঘ ১০ বছরের পুরনো এক ঐতিহ্যবাহী ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট। স্থানীয় সূত্রে খবর, ক্লাবের টুর্নামেন্টে বাজানো মাইকের আওয়াজ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, তাদের সভার আওয়াজকে বিঘ্নিত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উচ্চস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, বিজেপি কর্মীরা অতর্কিতে ক্লাবে ঢুকে খেলা বন্ধ করার চেষ্টা করে এবং আয়োজকদের মারধর করে।

ভিডিও বনাম ভিডিও: সোশ্যালে ‘রণক্ষেত্র’

এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ‘ভিডিও যুদ্ধ’। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছেন যে, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী বিজেপির সভামঞ্চে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির পতাকায় সাজানো মঞ্চে আগুন জ্বলছে এবং প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙা হচ্ছে। আগুনের তাপে পাশের ল্যাম্পপোস্ট এবং ট্রাফিক সিগন্যালের আলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ।

পালটা ভিডিও প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। ঘাসফুল শিবিরের দেওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে একদল যুবক বরিশা ক্লাবের ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতির নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের দাবি, “বিজেপি কর্মীরা খেলার মাঠে ঢুকে খেলোয়াড়দের ওপর আক্রমণ করেছে। আমি তো সেখানে গিয়ে জনতাকে শান্ত করেছি, না হলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।”

বিপ্লব দেবের সভায় হামলা: বিজেপির তোপ

বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যের অভিযোগ, “পুলিশের অনুমতি নিয়েই আমাদের সভা ছিল। কিন্তু সুদীপ পোল্লের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। যখন আমাদের সভা শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং ডেকোরেটররা একা কাজ করছিলেন, তখন কাপুরুষের মতো এসে মঞ্চে আগুন লাগানো হয়েছে।” বিপ্লব দেবের মতো হেভিওয়েট নেতার সভা চলাকালীন বা তার অব্যবহিত পরেই এই ধরণের হামলা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই প্রমাণ বলে মনে করছে পদ্ম শিবির।

অন্যদিকে, বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “বেহালা পূর্বের গর্ব এই ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট। বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা করেছে যাতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ওরা জানে না, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস করি আমরা, আমাদের মাথার ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন।”

শুভেন্দু অধিকারীর হুঙ্কার: “২০১১-র আগের সেই ভয়াবহ লক্ষণ”

বেহালার এই কাণ্ড নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই ঘটনাকে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগের বামফ্রন্ট সরকারের ‘মরিয়া’ আচরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। শুভেন্দুর বক্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেস এখন হারার আতঙ্কে ভুগছে। ঠিক যেমন ২০১১ সালের আগে নেতাই গণহত্যার সময় দেখা গিয়েছিল। এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দল যেভাবে আতঙ্কে রয়েছে, তারই বহিঃপ্রকাশ এই হিংসা।”

বিরোধী দলনেতা আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি ইতিমধেই ঠাকুরপুকুর থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি। তাঁর সাফ কথা, “তৃণমূল নেতারা উস্কানি দিচ্ছে, আর পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে। আমরা আগামীকাল ওখানে শান্তিপূর্ন মিছিল করব এবং আমি নিজেও পৌঁছানোর চেষ্টা করব।”

পুলিশি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঠাকুরপুকুর থানা সূত্রে খবর, দুই পক্ষের তরফেই লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখছে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দুই দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রয়েছে গোটা বেহালা। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে, বিশেষ করে ব্যস্ত ডায়মন্ড হারবার রোডে এই ধরণের সংঘর্ষে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে নিত্যযাত্রীদের।

Tags:

#BehalaClash, #ShakerBazarViolence, #BJPvsTMC, #SuvenduAdhikari, #BiplabDeb, #SudipPolley, #RatnaChatterjee, #VoterListControversy, #KolkataPoliticalWar, #ManusherBhashaReport, #DiamondHarbourRoad


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code