নিউটাউনের হোটেলে সেলিম-হুমায়ুন রুদ্ধদ্বার বৈঠক, বামেদের সঙ্গে জোটের সলতে পাকানো কি শুরু?
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার অনেক আগেই কি রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম হতে চলেছে? মঙ্গলবার রাতে নিউটাউনের এক বিলাসবহুল হোটেলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে এখন এমনই জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল এবং বিজেপি-বিরোধী এক শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ বা মহাজোট গড়ার লক্ষ্যেই এই ‘গোপন’ তৎপরতা।
নিউটাউনের হোটেলে ঘণ্টাভর ‘গোপন’ বৈঠক
মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটা থেকে প্রায় ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত— অর্থাৎ টানা ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট নিউটাউনের ওয়েস্ট ইন হোটেলে বৈঠকে বসেন মহম্মদ সেলিম এবং হুমায়ুন কবির। সূত্রের খবর, মিশন ২০২৬-কে সামনে রেখেই এই দুই নেতার মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের কথাবার্তা হয়েছে। জনতা উন্নয়ন পার্টির পক্ষ থেকে বামেদের সঙ্গে জোট করার একটি প্রস্তাব যে আগেই ছিল, এদিনের বৈঠক তাকে আরও এক কদম এগিয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।
সেলিমের ‘মন বোঝার’ চেষ্টা, হুমায়ুনের ‘ডেডলাইন’
বৈঠক শেষে মহম্মদ সেলিম অবশ্য কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সরাসরি জোটের কথা স্বীকার না করলেও জানিয়েছেন, “জনতা উন্নয়ন পার্টি কেন তৈরি হয়েছে, তাদের লক্ষ্য কী— সেটা বোঝার জন্যই এই বৈঠক। সরাসরি কথা না বললে অনেক সময় সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে সবটা বোঝা যায় না।” সেলিমের কথায়, জোট বা আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনই চূড়ান্ত নয়। আগে বামফ্রন্টের অন্দরে আলোচনা হবে, তারপর বাম মনোভাবাপন্ন অন্যান্য দল এবং আইএসএফ-এর সঙ্গে কথা বলে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো জোট করার আগে তাঁরা দলকে ‘পরখ’ করে নিতে চান।
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবির কিন্তু অনেক বেশি আশাবাদী। তিনি জানিয়েছেন, মহম্মদ সেলিমের মতো বর্ষীয়ান নেতার সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। তিনি সেলিমকে অনুরোধ করেছেন যাতে আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে জোট প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। হুমায়ুনের কথায়, “আমি ওঁর (সেলিমের) ওপরেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি। আইএসএফ-এর সঙ্গে যেহেতু ২০২১-এ বামেদের জোট ছিল, তাই নওশাদদের মনোভাব বোঝার দায়িত্বও সেলিম সাহেবকেই নিতে হবে।”
কংগ্রেসকে নিয়ে অনাগ্রহ, নজরে ‘মিম’
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সম্ভাব্য জোটে কংগ্রেসকে নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখাননি হুমায়ুন কবির। তাঁর দাবি, রাজ্য কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিল্লিতে বন্দি এবং তাঁদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। ফলে কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই মূলত বাম ও আইএসএফ-এর সঙ্গে হাত মেলাতে চাইছেন তিনি। পাশাপাশি আসাদউদ্দিন ওয়েসির দল মিম (AIMIM)-এর সঙ্গেও আলোচনার রাস্তা খোলা রাখছেন তিনি। যদিও সেই আলোচনা এখনও ফলপ্রসূ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
কী হতে চলেছে ২০২৬-এর সমীকরণ?
সিপিএম তথা বামফ্রন্ট যখন নতুন মুখ এবং নতুন শক্তির খোঁজে মরিয়া, তখন হুমায়ুন কবিরের মতো পোড়খাওয়া নেতার ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে বামেদের বড় অস্ত্র হতে পারে। তবে এই জোট আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নির্ভর করছে আলিমুদ্দিনের সবুজ সংকেত এবং আইএসএফ-এর অবস্থানের ওপর। ১৫ই ফেব্রুয়ারির সেই ‘ডেডলাইন’ কি মানতে পারবে বামফ্রন্ট? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে বাংলার রাজনৈতিক মহল।
ট্যাগসমূহ (Tags):
#Mission2026Bengal, #MohammedSalim, #HumayunKabir, #LeftFrontISFAlliance, #WestBengalAssemblyElection2026, #JanataUnnayanParty, #NewTownMeeting, #TMCvsBJP, #ThirdFrontBengal, #BreakingNewsBengal, #ManusherBhashaReport


0 মন্তব্যসমূহ