Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

হিন্দুদের এক হতে হবে ... না হলে : হাওড়ায় বিশাল জনসভায় হিন্দু বিপ্লবের ডাক শুভেন্দু অধিকারীর

‘ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে সব অবৈধ নাম’, হিন্দু ঐক্যের ডাক দিয়ে তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি বিজেপি নেতার



নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পারদ চড়ালেন প্রথম সারির এক বিজেপি নেতা। নাম না করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশি মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের ওপর ভিত্তি করেই এ রাজ্যে ‘ছাপ্পা’ ভোট হয়। তবে এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সেই ‘বদরক্ত’ ছেঁটে ফেলার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।

‘হিন্দুরা এক হলেই বিপ্লব’

এদিন নন্দীগ্রাম ও উত্তর মালদহের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “তৃণমূল জেতে মুসলিম ভোট আর ভোট চুরির ওপর ভর করে। কিন্তু যেখানে হিন্দুরা একজোট হয়েছে, সেখানেই পদ্ম ফুটেছে।” তাঁর দাবি, মালদহ উত্তরে ৫৮ শতাংশ হিন্দু থাকা সত্ত্বেও ৮৫ শতাংশ হিন্দু ভোট পদ্মফুলে পড়ায় খগেন মুর্মু জয়ী হয়েছেন। একইভাবে নন্দীগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেখানে ৭৪ শতাংশ হিন্দুর মধ্যে ৬৫ শতাংশ হিন্দু নিজের স্বার্থ রক্ষায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল বলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো সম্ভব হয়েছে।” তাঁর স্পষ্ট বার্তা— জাতপাত বা ভাষার নামে বিভক্ত না হয়ে হিন্দুরা একজোট হলে রাজ্যে ‘বিপ্লব’ ঘটবে।

ভোটার তালিকা নিয়ে বড় ঘোষণা

ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা ফেরানোই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য বলে জানান ওই নেতা। তাঁর মতে, চার ধরনের ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে:

১. মৃত ভোটার: যাঁরা মারা গিয়েছেন কিন্তু তালিকায় নাম রয়ে গিয়েছে।

২. ভুয়ো ভোটার: জাল পরিচয়পত্র ব্যবহারকারী।

৩. ট্রিপল এন্ট্রি: যাঁরা একইসঙ্গে হাওড়া, মেদিনীপুর বা কলকাতায় অর্থাৎ একাধিক জায়গায় ভোট দেন।

৪. অবৈধ অনুপ্রবেশকারী: ভারতবিরোধী শক্তি বা রোহিঙ্গা।

তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুরা শরণার্থী, তাঁরা নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার পাবেন। কিন্তু অবৈধভাবে আসা অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার লিস্টে থাকবে না। এটা পরিষ্কার কথা।”

দুর্নীতির পাহাড় ও ‘চোরামুল’ কটাক্ষ

রাজ্য সরকারকে ‘চোরামুল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি কয়লা, পাথর, বালি এবং গরু পাচারের প্রসঙ্গ তোলেন। ২৬ হাজার চাকরি চুরির পাশাপাশি বারাসাতের মর্গে মৃতদেহের চোখ চুরির নারকীয় ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এ রাজ্যে মরে গিয়েও শান্তি নেই।”

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, গ্রামে গ্রামে গিয়ে বেকার যুবক ও বঞ্চিতদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদেরও পাশে টানার কথা বলেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো নাম বাদ গেলে তৃণমূল আর নির্বাচনে লড়ার সাহস পাবে না।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code