অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলা: হাইকোর্টে দোলা সেনদের আইনি অধিকার নিয়ে ইডির প্রশ্ন, 'আসল তৃণমূল' দ্বন্দ্বে নয়া মোড়
সংক্ষিপ্তসার: তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (TMC Bank Account Freeze) সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে এবার নয়া নাটকীয় মোড়। কালীঘাট নেতৃত্বের হয়ে দোলা সেন ও ডেরেক ও'ব্রায়েনের মামলা করার আইনি বৈধতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বিধানসভা নির্বাচনের পর দলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভাঙন এবং 'আসল তৃণমূল' বিতর্কের মাঝেই কেন্দ্রীয় সংস্থার এই প্রশ্ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে, অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করে কড়া শর্ত বেঁধে দিয়েছে আদালত।
মানুষের ভাষা ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলা ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে জোরালো আইনি প্রশ্নের মুখে পড়ল কালীঘাট শিবির। দলের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে কালীঘাট নেতৃত্বের পক্ষে দোলা সেন এবং ডেরেক ও'ব্রায়েন যে মামলা দায়ের করেছেন, তাঁদের সেই আইনি অধিকার (Locus Standi) আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
আদালতে ইডি-র হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী এসভি রাজু এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানান। এই আপত্তির জেরে শুনানিপর্বে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রাজ্যের কাছে জানতে চান, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দোলা সেনের এই মামলা দায়ের করার বৈধ আইনি ক্ষমতা রয়েছে কি না, তা আগে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বিচারপতির এই প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতকে জানান, দোলা সেন এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন, তাই তাঁর দলের হয়ে মামলা করার ক্ষেত্রে কোনও আইনি অসঙ্গতি নেই।
'আসল তৃণমূল' কে? নেপথ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ
এই আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে দলের চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই জোড়াফুল শিবিরে আড়াআড়ি ভাঙন ধরেছে। জয়ী বিধায়কদের একটি বড় অংশই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব সরাসরি অস্বীকার করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা শিবির গড়ে তুলেছেন। তাঁরা নিজেদের 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করে দলের প্রতীক, সাংগঠনিক অধিকার এবং অ্যাকাউন্টের বিপুল অর্থের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করেছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দলের এই ভাঙনের সুযোগ নিয়েই ইডি আদালতে দোলা সেনদের আইনি অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পেয়েছে।
বিশেষ আধিকারিকের নজরদারিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
এই ডামাডোলের মাঝেই প্রথমে রাজ্য পুলিশ এবং পরে ইডি তৃণমূলের কয়েকশো কোটি টাকা জমা থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করে দেয়। এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ মমতাপন্থী তৃণমূলকে অন্তর্বর্তী পর্যায়ে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে জানিয়েছিল, আইনি লড়াইয়ের খরচ ও অন্যান্য প্রয়োজনে অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করা যাবে। তবে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতা কালীঘাট নেতৃত্বের হাতে ছাড়া হয়নি।
আদালতের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে। তাঁকে বিশেষ আধিকারিক বা স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলতে হলে অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যে কোনও দু'জনের স্বাক্ষরের পাশাপাশি বিশেষ আধিকারিকের পাল্টা স্বাক্ষর (Counter Signature) করা বাধ্যতামূলক। তাঁর অনুমোদন ছাড়া এক পয়সাও তোলা যাবে না। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনিই এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির তত্ত্বাবধান ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন বলে অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছে আদালত।
এখন দেখার, দলে 'আসল তৃণমূল' বিতর্ক এবং ইডি-র এই নয়া আপত্তির পর কলকাতা হাইকোর্ট এই স্পর্শকাতর মামলায় পরবর্তী কী নির্দেশ দেয়।
Tags: #TMCBankAccountFreeze #CalcuttaHighCourt #EnforcementDirectorate #ED #DolaSen #MamataBanerjee #RitubrataBanerjee #WestBengalPolitics #ManusherBhasha #KalighatTMC

0 মন্তব্যসমূহ