Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

আরশোলার পিঠে চড়ে চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা এক উন্মাদের পতন | ২০২৭ ও ২০২৯ এর আগে জাতীয় রাজনীতির যুগসন্ধিক্ষণ

আরশোলার পিঠে চড়ে চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা উন্মাদের পতন

সম্পাদকীয় — প্রবীর রায়চৌধুরী


What is the debate on Vande Mataram?
Which lines of Vande Mataram are controversial?
Why is the BJP protesting?
When was Vande Mataram banned?
Why Congress will sing only the first two stanzas of Vande Mataram ?

রাহুল গান্ধীর মাঝেমধ্যেই হঠাৎ কিছু না কিছু শখ জাগে, ইচ্ছা হয়, আর তিনি নিজের থিওরি অনুযায়ী বেশ কিছু পরিকল্পনা নিজের মতো করেই সাজিয়ে ফেলেন। অনেক সময় সে সব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিজেই ঠিকঠাক পেরে ওঠেন না। যেমন, পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি একসময় বলেছিলেন 'তপ' বা 'তপস্যা'র অর্থ শরীরে তাপ উৎপাদন করা। ঠিক এমনই তিনি সীমা ছাড়িয়ে যান কখনো কখনো — যখন 'চৌকিদার চোর হ্যায়' বলেন, যখন নরেন্দ্র মোদির জাত তুলে কথা বলেন, আর পরে আদালতে গিয়ে তাঁকে ক্ষমাও চাইতে হয়। ঠিক এমনই একদিন তাঁর হঠাৎ শখ জেগে উঠেছিল।

গত লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি কতটা হিন্দু। মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে কপালে তিলক এঁকে ছবি তুলে দেখাতে চেয়েছিলেন তাঁর হিন্দুপ্রেম। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি, ফলও মেলেনি ঠিকঠাক। তাঁর সাম্প্রতিকতম সংযোজন হলো — হঠাৎ তাঁর মনে হলো, দেশের নবীন প্রজন্মের একটা ইস্যু আছে, অথচ সেই ইস্যুর সময় তিনি ছিলেন বিদেশে। দিল্লির রাস্তায় যখন আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে, তখন বিদেশ থেকে ফিরে তিনি ভাবলেন — না, এবার এখানে আমার কিছু একটা করার আছে, এবার নিজেকে দেশপ্রেমিক প্রমাণ করতে হবে।



সেই চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি যা যা করলেন, তা থেকেই উঠে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। এবার কি সত্যিই সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী ফাঁসতে চলেছেন? আন্দোলন-পরবর্তী এই এক মাসে কংগ্রেস এবং তার সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলো — যে নামেই হোক, যেভাবেই হোক — ভেবেছিল একটা রাজনৈতিক ডিভিডেন্ড তুলবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর, পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় কীভাবে গুড়ে বালি পড়ল, আর কীভাবেই বা তার বদলে তৈরি হয়ে গেল দেশের আইন ভঙ্গ করে ফেঁসে যাওয়ার মতো একটা বড় সম্ভাবনা — সেই কথাই এই লেখায় তুলে ধরব।

অতীতকে অস্বীকার করে কেউ চলতে পারে না, আর কর্মফল একদিন চোকাতেই হয়। যাঁরা সনাতনপন্থী, যাঁরা শাস্ত্রে বিশ্বাস রাখেন, তাঁরা এই দুটি সত্যই মানেন। গীতাতেও তো কর্মফলের কথা স্পষ্টভাবেই বলা আছে।

তারা ভেবেছিল, এই আন্দোলন দিয়ে দেখানো যাবে — কেন্দ্রীয় সরকার পিছু হটেছে, পার্লামেন্ট চালাতে দেওয়া হয়নি, বেশ কিছু বিল পাস করতে দেওয়া হয়নি। কোন কোন বিল? ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন। অথচ দেশের প্রতিটি নির্বাচনের পিছনে যে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়, তা কমানোর লক্ষ্যেই একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে বিলটি আনা হচ্ছিল। আলোচনা হতে পারত, পক্ষে-বিপক্ষে মত উঠতে পারত, তারপর সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োগ হতে পারত। দেশের মানুষ ভোট দিয়ে যে সাংসদদের লোকসভা-রাজ্যসভায় পাঠান, তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মত দিতেন — বিলটি হেরে গেলেও যেত। এমন তো আগেও হয়েছে; আগের অধিবেশনে নারীশক্তি বিল অর্থাৎ উইমেন রিজার্ভেশন সংশোধনীও পাস হয়নি, তাতে অসুবিধা তো কিছু হয়নি। কিন্তু এবার তারা সেই গণতান্ত্রিক পথে গেলেন না।

কারণ তাঁরা বুঝেছিলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা এবার এনডিএ-র হাতে মজুত আছে — লোকসভাতেও, রাজ্যসভাতেও। পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন, আর যাদের আমি বা আমরা বলি 'টুকরে টুকরে গ্যাং' — যাদের মূল এজেন্ডাই দেশকে টুকরো করা — সেই এজেন্ডাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে গিয়ে দেশের সামাজিক কাঠামো থেকে শুরু করে শিক্ষা-স্বাস্থ্য, সবকিছুকে টুকরো করার চেষ্টায় তাদের নিজেদের দলগুলোই আজ টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। সে অবশ্য আলাদা আলোচনার বিষয়।

তাহলে আর কী পাস করতে দেওয়া হলো না? ডিলিমিটেশন পাস করতে দেওয়া হলো না। কী গর্বের কথা, তাই না — যেখানে একটি লোকসভা কেন্দ্রে হয়তো দু'লাখ ভোটার, আর অন্যটিতে ত্রিশ লক্ষ! এই বৈষম্য দূর করে সাম্য আনার প্রক্রিয়া নতুন কিছু নয়, তবু সেটাও আটকে দেওয়া হলো। এরপর যে উইমেন রিজার্ভেশনের কথা ছিল, যেটি ডিলিমিটেশনের সঙ্গেই কার্যকর হওয়ার কথা, সেটিও আটকানো হলো। এত কিছু করে তিনি কী পেলেন? গর্বের সঙ্গে ঘোষণা দিলেন। আর একটি বিষয়ে তিনি এবং তাঁর দল অনড় থাকলেন — রাহুল গান্ধী বললেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা যথেষ্ট নয়।

আমরা 'মানুষের ভাষা' থেকে আগেই বলেছিলাম, এদের স্বভাবই এমন — খেতে পেলে শুতে চায়, আর শুতে পেলে আরও চায়। কী কী তারা চাইতে পারে, সেটাই এবার দেখা যাক। রাহুল গান্ধী উঠেপড়ে লাগলেন এই বলে যে, ধর্মেন্দ্র প্রধানই শেষ কথা নয়, পরের লক্ষ্য অমিত শাহ হয়ে নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত পৌঁছবে — এ কথাও আমরা আগেই বলেছিলাম। নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত পৌঁছনোর আগে অবশ্য অমিত শাহকে টপকাতে হবে। তাই তিনি অভিযোগ তুললেন — গুলি চালানো হয়েছে, আর সেই নির্দেশ দিয়েছে সিআইএসএফ-এর মাধ্যমে অমিত শাহর দপ্তর। অতএব অমিত শাহকে পদত্যাগ করতে হবে।

শুধু দাবি তুলেই থামলেন না, এই দাবি নিয়ে সরগরম করে তুললেন গোটা পার্লামেন্ট, একে অচল করে দিলেন। আরও অদ্ভুত একটি যুক্তি দিলেন — অমিত শাহ যদি সত্যিই গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তবে তাঁর ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করা উচিত; আর যদি না দিয়ে থাকেন, তাহলেও তিনি অপদার্থ প্রমাণিত হন, ফলে তাঁরও পদত্যাগ করা উচিত। ভারতীয় রাজনীতিতে এমন প্রহেলিকাময় যুক্তি বিরল। এই গোটা কৌশলের পেছনে ছিল এক হিসেব — মোদি সরকার পিছু হটেছে, পার্লামেন্ট অচল করা গেছে — এই বার্তা দিয়ে সামনে থাকা ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব নির্বাচনে সুবিধা তোলা যাবে। কিন্তু ঠিক সেখানেই তারা করে বসলেন সবচেয়ে বড় ভুলটি।

কারণ, সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এগোলে বারবার একটার পর একটা বিষয় চাপা দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। গুলি চালনার প্রসঙ্গ যখন উঠল, প্রথমে বলা হয়েছিল প্যালেট ব্যবহারের কথা, যা সুপ্রিম কোর্টেও স্বীকৃত হয়েছিল। এরপর যখন এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি বারবার তোলা হচ্ছিল, তখন সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে ফৌজদারি রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর সেভাবে তুলে নেওয়া যাবে না। তা সত্ত্বেও তারা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকল, আর রাহুল গান্ধীও সেই সুরেই গলা মেলালেন। ফলে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো। ঠিক তার উল্টো দিকে, ঝাড়খণ্ডে পেপার লিক ইস্যুতে যে আন্দোলন হচ্ছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, এবং সেই আন্দোলন সফল হলো, কোনো অরাজকতা ছাড়াই।

এবার একটু ভাবা যাক — গুলি চালনার প্রসঙ্গ উঠলে ইতিহাসে পিছিয়ে যেতেই হয়। অরাজকতা, কুশাসন কিংবা একনায়কতন্ত্রের প্রসঙ্গ উঠলেও পিছনে তাকাতে হয় — রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী থেকে শুরু করে অন্তত ইন্দিরা গান্ধী পর্যন্ত। ইন্দিরা গান্ধীর হাতে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত একুশ মাস ধরে জারি ছিল জরুরি অবস্থা, মিসা আইনে অর্থাৎ মেনটেনেন্স অফ ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এর অধীনে। "ভাইয়ো ঔর বহনো, রাষ্ট্রপতিজি নে আজ সুবহ ইয়ে ঘোষণা কি হ্যায়... ঘবরানে কি কোই বাত নহি হ্যায়" — এই ভাষণ দিয়ে যে জরুরি অবস্থা শুরু হয়েছিল, তার ইতিহাস আজও ইন্টারনেটে, বিভিন্ন বইয়ে সহজলভ্য।


আমাদের রাজনীতিতে সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি বরাবরই প্রকট। সরকারি তথ্য এক কথা বলে, বেসরকারি হিসেবে আবার কিছু অন্তর্ভুক্তি-বর্জনের প্রশ্ন থেকে যায়। তবু মোটামুটিভাবে ধরে নেওয়া যায়, বিনা কারণে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন প্রায় এক লক্ষ আটচল্লিশ হাজারেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে একুশ হাজার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মিসা আইনে, আর প্রায় চৌষট্টি হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল শান্তিপূর্ণ অবস্থান-বিক্ষোভ করার অভিযোগে। এই দুইয়ে মিলিয়েই দাঁড়ায় প্রায় চুরাশি-পঁচাশি হাজার।



অর্থাৎ সেই সময়কার গ্রেপ্তারের প্রায় নব্বই শতাংশই ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। সাংবাদিক থেকে সমাজের নানা স্তরের মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা যেভাবে হরণ করা হয়েছিল, তা পশ্চিমবঙ্গের বহু প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীও স্বীকার করেন যে সেটাই ছিল জরুরি অবস্থার প্রকৃত কলঙ্ক। তাহলে সেই জরুরি অবস্থা কার হাতে হয়েছিল, তার উত্তর নিজেরাই খুঁজে দেখুন। আর যাঁরা এক হাতে লাল ঝান্ডা, অন্য হাতে তেরঙ্গা নিয়ে আজ পরস্পরের বন্ধু হয়ে গেছেন, তাঁরা সম্ভবত ভুলে গেছেন তাঁদের তৎকালীন কমরেডরা ইন্দিরা গান্ধীর হাতে এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেই কীভাবে নিষ্পেষিত ও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক, না হলে আজকের এই বন্ধুত্ব সম্ভব হতো না।

আরেকটি ঘটনার কথাও এখানে বলা প্রয়োজন। সম্ভবত ১৯৬৬ সালের ৭ নভেম্বর, গোকুল একাদশীর দিনে, গোহত্যা বন্ধের দাবিতে নাগা সন্ন্যাসী ও অন্যান্য হিন্দু সাধু-সন্ন্যাসীরা দিল্লির সংসদ ভবন অভিমুখে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে গিয়েছিলেন।

 সেখানে গুলি চালিয়েছিল ইন্দিরা গান্ধীর সরকার। সরকারি হিসেবে সাতজন নিহত হয়েছিলেন বলে জানানো হলেও বেসরকারি সূত্র বলে, দিল্লির রাজপথ সেদিন ভিজে গিয়েছিল হিন্দু সন্ন্যাসীদের রক্তে। তাহলে গুলি চালনার প্রসঙ্গ ঠিক কার মুখে মানায়? এরপরেও কংগ্রেসের বিভিন্ন সরকারের আমলে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, গুলি চালনা আর নানা কেলেঙ্কারির ইতিহাস খুঁজে দেখলে তা বইয়ের পর বই পূর্ণ হয়ে যাবে। এই ইতিহাস অনুসন্ধানের জন্য লাইব্রেরিতে যাওয়ারও দরকার নেই, সামান্য অনুসন্ধানই যথেষ্ট।

তারপর যা ঘটল, তা যেন বলে দিচ্ছিল — জল এবার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের একটি প্রস্তাব ছিল বন্দে মাতরম গানকে দুই ভাগে বিভক্ত করার। আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশবাসীর দৃষ্টি সেই দিকেই ঘুরিয়ে দিয়েছেন। কী ছিল সেই প্রস্তাবের পিছনের কারণ? প্রস্তাবটি এসেছিল মহম্মদ আলি জিন্না ও মুসলিম লীগের তরফ থেকে। কিন্তু তা কি শুধুই একটি সাধারণ প্রস্তাব ছিল, নাকি তার পিছনে ছিল আরও অনেক শর্ত?

আজ সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী নিজে দাঁড়িয়ে বন্দে মাতরম গাওয়া বন্ধ করেছেন, গোটা দেশ তা প্রত্যক্ষ করেছে। অথচ বন্দে মাতরম আজ দেশের দুই কক্ষে পাস হওয়া একটি আইন, রাষ্ট্রগীত হিসেবে স্বীকৃত। তাহলে "গাইব না" বলার অর্থ আসলে কী? 

এর অর্থ, প্রথমত দেশের সংবিধানকে অগ্রাহ্য করা — যে সংবিধানের কথা রাহুল গান্ধী নিজে হাতে লাল রঙের কপি নিয়ে ঘুরে বেড়ান আর বিজেপির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন, সেই সংবিধান এবং পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন তিনি নিজেই মানছেন না। সোনিয়া গান্ধীর প্রসঙ্গ আলাদা — তিনি বিদেশি বংশোদ্ভূত, ইতালীয়, ফলে তাঁর বন্দে মাতরম না গাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তার সঙ্গে এফসিআরএ সংক্রান্ত পুরনো ক্ষোভও নিশ্চয়ই যুক্ত। কিন্তু আসল কারণ লুকিয়ে আছে ১৯৩৭ সালে — যেখানে মহম্মদ আলি জিন্নার আপত্তির ফলে গানের দুটি পঙক্তি বাদ দেওয়া হয়েছিল।




আরও কী কী আপত্তি ছিল তাঁর? তেরঙ্গা পতাকা থেকে গেরুয়া রং বাদ দেওয়া, কিংবা তেরঙ্গা ও মুসলিম লীগের পতাকাকে সমান মর্যাদা দেওয়ার দাবি। এমনকি গোহত্যা বা গোবলিদানের ওপর যেন কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে, এমন শর্তও যুক্ত ছিল সেই প্রস্তাবের সঙ্গে। প্রশ্ন হলো, কংগ্রেস কি সেই শর্তগুলো মেনে নিয়েছিল?



তাহলে কি এবার জাতীয় পতাকার রংও বদলানোর দাবি উঠবে? অমিত শাহের পদত্যাগের দাবির পর যেমন প্রস্তুতি চলছিল নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করার, ঠিক তেমনই এই দাবিরও কোনো শেষ নেই। দেশবিরোধী এই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র আর কতদিন সহ্য করা হবে?

এই আইন তাঁরা লঙ্ঘন করেছেন কি না, তার বিচার দেশের মানুষের হাতে। বন্দে মাতরম গাইব না বলাটা কতটা আইন লঙ্ঘনের শামিল? দেশের এই আইন অনুযায়ী তা জামিন-অযোগ্য অপরাধ, যার শাস্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, এবং যে কোনো নাগরিকই এর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পারেন। প্রশ্ন হলো, সেই এফআইআর এখন কোথায়, আর কেনই বা তাঁদের গ্রেপ্তার হচ্ছে না? যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দেশকে লুট করেছেন বলে অভিযোগ, তাঁরা কেন আবার নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন?


ইতিহাস বলছে, জরুরি অবস্থার নেপথ্যেও ছিল প্রায় একই রকম প্রেক্ষাপট। ১৯৭৫ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়ে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, এবং তাঁকে পদ থেকে সরে যেতে হতে পারে এমন পরিস্থিতিতেই তিনি মুদ্রাস্ফীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অজুহাতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। ইতিহাসকে ভুলে গেলে চলবে না — কর্মফল একদিন না একদিন শোধ করতেই হয়।

এই প্রেক্ষাপটেই এবার মাঠে নেমেছেন অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গ সফরে গিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ও স্লিপার সেলের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন। এখনো পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুইশো তিপ্পান্ন জন আটকের মধ্যে প্রায় দুইশো জন সন্দেহভাজন পাক জঙ্গি বা পাক তথ্যদাতা হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন সারা দেশ জুড়ে — যা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক। পশ্চিমবঙ্গ হোক বা দেশের অন্য যে কোনো প্রান্ত, যারা এই ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ও আইনব্যবস্থা এবার ঠিক কী পদক্ষেপ নেয়, তার দিকেই নজর থাকবে।

শেষে একটি কথাই বলার — একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তুষ্ট করার যে প্রবণতা কংগ্রেসের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, তা এবার আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। আন্দোলন থেকে যে রাজনৈতিক সুবিধা রাহুল গান্ধীরা তুলতে চেয়েছিলেন, বন্দে মাতরম না গাওয়ার সিদ্ধান্তেই তা ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে। এই বিতর্কের জল আরও কতদূর গড়ায়, তার দিকেই থাকবে নজর।

বন্দে মাতরম। জয় হিন্দ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code