Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

শ্রী কনকধারা স্তোত্রম: দেবী মহালক্ষ্মীর কৃপা, করুণা ও ঐশ্বর্যের স্তব | সম্পূর্ণ সংস্কৃত পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ | Kanakadhara Stotram

শ্রী কনকধারা স্তোত্রম: দেবী মহালক্ষ্মীর কৃপা, করুণা ও ঐশ্বর্যের স্তব | সম্পূর্ণ সংস্কৃত পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ


মানুষের ভাষা , প্রবীর রায় চৌধুরী : 

একটিমাত্র আমলকী ফল এবং দেবী লক্ষ্মীর কৃপা

দীপাবলি বা দীপোৎসবের কথা উঠলেই আমাদের মনে প্রথমেই আসে প্রদীপের আলো, ঘর সাজানো, আনন্দ, মঙ্গল এবং দেবী মহালক্ষ্মীর আরাধনা। হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরায় দেবী লক্ষ্মীকে ঐশ্বর্য, সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি, সৌন্দর্য ও মঙ্গলের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে পূজা করা হয়।

দেবী মহালক্ষ্মীর উদ্দেশে রচিত বহু স্তোত্রের মধ্যে শ্রী কনকধারা স্তোত্রম বিশেষভাবে পরিচিত। এই স্তোত্রটি আদি শঙ্করাচার্যের নামে প্রচলিত। এর প্রতিটি শ্লোকে দেবী লক্ষ্মীর সৌন্দর্য, করুণা, মহিমা এবং তাঁর কৃপাদৃষ্টির কাছে ভক্তের প্রার্থনা প্রকাশ পেয়েছে।

কনকধারা স্তোত্রের বিশেষত্ব হলো, এখানে কেবল ধনসম্পদের প্রার্থনা করা হয়নি। দেবীর দয়া, পবিত্রতা, মঙ্গল এবং মানুষের প্রতি তাঁর করুণার কথাও অত্যন্ত সুন্দর কাব্যিক ভাষায় বর্ণিত হয়েছে।

কনকধারা স্তোত্রের নামের অর্থ কী?

‘কনকধারা’ শব্দটি দুটি সংস্কৃত শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।

  • কনক: সোনা বা স্বর্ণ।

  • ধারা: প্রবাহ, ধারা বা বর্ষণ।

অর্থাৎ কনকধারা বলতে বোঝায় স্বর্ণের ধারা বা সোনার প্রবাহ।

প্রচলিত ভক্তিমূলক কাহিনি অনুসারে, শঙ্করাচার্যের প্রার্থনায় দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় এক দরিদ্র পরিবারের ঘরে স্বর্ণের আমলকী বর্ষিত হয়েছিল। সেই কাহিনির সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই স্তোত্রটির নাম হয়েছে কনকধারা স্তোত্রম।

শ্রী কনকধারা স্তোত্রের পেছনের প্রচলিত কাহিনি

ভারতীয় ভক্তিপরম্পরায় কনকধারা স্তোত্রের সঙ্গে একটি হৃদয়স্পর্শী কাহিনি প্রচলিত রয়েছে।

কথিত আছে, বালক শঙ্করাচার্য একদিন ব্রহ্মচারী হিসেবে ভিক্ষা সংগ্রহ করতে একটি দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের বাড়িতে উপস্থিত হন। সেই পরিবারের অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। বাড়িতে প্রায় কোনও খাদ্যসামগ্রী ছিল না।

বালক শঙ্করকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে না পেরে গৃহিণী ঘরের মধ্যে খুঁজে একটি মাত্র আমলকী ফল পান। সেটিই ছিল তাঁর কাছে দেওয়ার মতো একমাত্র সামগ্রী। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে সেই ফলটি শঙ্করাচার্যকে দান করেন।

গৃহিণীর এই নিঃস্বার্থ দান ও আন্তরিকতায় শঙ্করাচার্য গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হন। প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, তিনি দেবী মহালক্ষ্মীর উদ্দেশে স্তব রচনা করে প্রার্থনা করেন, যেন দেবী সেই দরিদ্র পরিবারের দুঃখ দূর করেন।

দেবী লক্ষ্মী তাঁর প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়ে সেই বাড়িতে স্বর্ণের আমলকী বর্ষণ করেন—এমনটাই এই কাহিনির ভক্তিমূলক বর্ণনা।

এই গল্পের গভীর তাৎপর্য কেবল অলৌকিক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে রয়েছে নিঃস্বার্থ দান, আন্তরিকতা, সহমর্মিতা এবং অন্যের দুঃখ উপলব্ধি করার শিক্ষা।

এটি একটি প্রচলিত ধর্মীয় কিংবদন্তি। একে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো স্বাধীন ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।

কনকধারা স্তোত্রের রচয়িতা ও শ্লোকসংখ্যা

প্রচলিত ধর্মীয় পরম্পরায় শ্রী কনকধারা স্তোত্রমের রচয়িতা হিসেবে আদি শঙ্করাচার্যকে মান্য করা হয়।

আদি শঙ্করাচার্য ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। অদ্বৈত বেদান্তের বিকাশ ও প্রচারে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

কনকধারা স্তোত্রের প্রচলিত পাঠে শ্লোকসংখ্যা নিয়ে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। শঙ্করাচার্যের রচনাবলির একটি বহুল উদ্ধৃত পাঠে মূল স্তোত্রটি ১৮টি শ্লোকের। আবার বিভিন্ন মুদ্রিত ও প্রচলিত সংস্করণে অতিরিক্ত কয়েকটি শ্লোক যুক্ত হয়ে ২১ বা ২২টি শ্লোকও দেখা যায়।

এই প্রবন্ধে মূল ১৮টি শ্লোকের পাঠ অনুসরণ করা হয়েছে। শুরুতে প্রচলিত গণেশ বন্দনাটি আলাদা করে দেওয়া হয়েছে, যাতে পাঠক পরিচিত পাঠরীতির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন।

শ্রী কনকধারা স্তোত্রম: সম্পূর্ণ সংস্কৃত পাঠ ও বাংলা উচ্চারণ

নিচে স্তোত্রটির প্রচলিত প্রারম্ভিক বন্দনা এবং মূল ১৮টি শ্লোক দেওয়া হলো। বাংলা উচ্চারণ সংস্কৃত পাঠ অনুসরণ করে সহজভাবে লেখা হয়েছে। আঞ্চলিক উচ্চারণ ও পাঠপরম্পরায় সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।


প্রারম্ভিক বন্দনা

সংস্কৃত:

वन्दे वन्दारुमन्दारम्
इन्दिरानन्दकन्दलम् ।
अमन्दानन्दसन्दोह-
बन्धुरं सिन्धुराननम् ॥

বাংলা উচ্চারণ:

বন্দে বন্দারুমন্দারম্
ইন্দিরানন্দকন্দলম্।
অমন্দানন্দসন্দোহ-
বন্ধুরং সিন্ধুরাননম্॥

সহজ বাংলা অর্থ:

আমি সেই গণেশকে প্রণাম করি, যিনি ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূরণকারী কল্পবৃক্ষের মতো এবং দেবী ইন্দিরার আনন্দের উৎস। যিনি অপরিসীম আনন্দের আধার, সেই গজানন ভগবানকে আমি বন্দনা করি।

শ্লোক ১

সংস্কৃত:

अङ्गं हरेः पुलकभूषणमाश्रयन्ती
भृङ्गाङ्गनेव मुकुलाभरणं तमालम् ।
अङ्गीकृताखिलविभूतिरपाङ्गलीला
माङ्गल्यदास्तु मम मङ्गलदेवतायाः ॥ १॥

বাংলা উচ্চারণ:

অঙ্গং হরেঃ পুলকভূষণমাশ্রয়ন্তী
ভৃঙ্গাঙ্গনেব মুকুলাভরণং তমালম্।
অঙ্গীকৃতাখিলবিভূতিরপাঙ্গলীলা
মাঙ্গল্যদাস্তু মম মঙ্গলদেবতায়াঃ॥

বাংলা অর্থ:

যেমন একটি ভ্রমর কুঁড়িতে সজ্জিত তমালবৃক্ষের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তেমনই দেবী মহালক্ষ্মীর দৃষ্টি ভগবান হরির অঙ্গে নিবদ্ধ থাকে। সেই মঙ্গলময়ী দেবীর শুভ কটাক্ষ আমার জীবনে মঙ্গল ও কল্যাণ বয়ে আনুক।

শ্লোক ২

সংস্কৃত:

मुग्धा मुहुर्विदधती वदने मुरारेः
प्रेमत्रपाप्रणिहितानि गतागतानि ।
माला दृशोर्मधुकरीव महोत्पले या
सा मे श्रियं दिशतु सागरसम्भवायाः ॥ २॥

বাংলা উচ্চারণ:

মুগ্ধা মুহুর্বিদধতী বদনে মুরারেঃ
প্রেমত্রপাপ্রণিহিতানি গতাগতানি।
মালা দৃশোর্মধুকরীব মহোৎপলে যা
সা মে শ্রিয়ং দিশতু সাগরসম্ভবায়াঃ॥

বাংলা অর্থ:

সমুদ্রকন্যা দেবী লক্ষ্মীর স্নিগ্ধ দৃষ্টি বারবার প্রেম ও লজ্জায় ভগবান মুরারির মুখমণ্ডলের দিকে ফিরে যায়। যেমন ভ্রমর বারবার প্রস্ফুটিত পদ্মফুলের কাছে ফিরে আসে, তেমনই দেবীর সেই প্রেমময় দৃষ্টি আমার জীবনে শ্রী ও মঙ্গল বর্ষণ করুক।

শ্লোক ৩

সংস্কৃত:

विश्वामरेन्द्रपदविभ्रमदानदक्षं
आनन्दहेतुरधिकं मुरविद्विषोऽपि ।
ईषन्निषीदतु मयि क्षणमीक्षणार्धम्
इन्दीवरोदरसहोदरमिन्दिरायाः ॥ ३॥

বাংলা উচ্চারণ:

বিশ্বামরেন্দ্রপদবিভ্রমদানদক্ষং
আনন্দহেতুরধিকং মুরবিদ্বিষোऽপি।
ঈষন্নিষীদতু ময়ি ক্ষণমীক্ষণার্ধম্
ইন্দীবরোদরসহোদরমিন্দিরায়াঃ॥

বাংলা অর্থ:

দেবী লক্ষ্মীর কৃপাদৃষ্টি এমনই শক্তিশালী যে তা সাধারণ মানুষকে উচ্চ মর্যাদা ও সৌভাগ্য দান করতে পারে। সেই দৃষ্টি ভগবান বিষ্ণুর কাছেও অপরিসীম আনন্দের কারণ। দেবী ইন্দিরার নীলপদ্মের মতো সুন্দর সেই দৃষ্টির সামান্য অংশও যেন আমার ওপর বর্ষিত হয়।

শ্লোক ৪

সংস্কৃত:

आमीलिताक्षमधिगम्य मुदा मुकुन्दं
आनन्दकन्दमनिमेषमनङ्गतन्त्रम् ।
आकेकरस्थितकनीनिकपक्ष्मनेत्रं
भूत्यै भवेन्मम भुजङ्गशयाङ्गनायाः ॥ ४॥

বাংলা উচ্চারণ:

আমীলিতাক্ষমধিগম্য মুদা মুকুন্দং
আনন্দকন্দমনিমেষমনঙ্গতন্ত্রম্।
আকেকরস্থিতকনীনিকপক্ষ্মনেত্রং
ভূত্যৈ ভবেন্মম ভুজঙ্গশয়াঙ্গনায়াঃ॥

বাংলা অর্থ:

ভগবান মুকুন্দের আনন্দময় রূপের দিকে দেবী লক্ষ্মী প্রেম ও মুগ্ধতায় তাকিয়ে রয়েছেন। ভগবান অনন্তশয্যায় শয়ন করেন, আর তাঁর সহধর্মিণী দেবীর সেই স্নেহময় দৃষ্টি আমার জীবনেও কল্যাণ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক।

শ্লোক ৫

সংস্কৃত:

बाह्वन्तरे मधुजितः श्रितकौस्तुभे या
हारावलीव हरिनीलमयी विभाति ।
कामप्रदा भगवतोऽपि कटाक्षमाला
कल्याणमावहतु मे कमलालयायाः ॥ ५॥

বাংলা উচ্চারণ:

বাহ্বন্তরে মধুজিতঃ শ্রিতকৌস্তুভে যা
হারাবলীব হরিনীলময়ী বিভাতি।
কামপ্রদা ভগবতোऽপি কটাক্ষমালা
কল্যাণমাবহতু মে কমলালয়ায়াঃ॥

বাংলা অর্থ:

ভগবান বিষ্ণুর বক্ষে কৌস্তুভমণি শোভা পায়। সেখানে দেবী লক্ষ্মীর কটাক্ষমালা যেন নীলমণির হার হয়ে বিরাজ করছে। সেই কমলালয়া দেবীর মঙ্গলময় দৃষ্টি আমার জীবনেও কল্যাণ ও শুভতা নিয়ে আসুক।

শ্লোক ৬

সংস্কৃত:

कालाम्बुदालिललितोरसि कैटभारेः
धाराधरे स्फुरति या तडिदङ्गनेव ।
मातुस्समस्तजगतां महनीयमूर्तिः
भद्राणि मे दिशतु भार्गवनन्दनायाः ॥ ६॥

বাংলা উচ্চারণ:

কালাম্বুদালিললিতোরসি কৈটভারের্
ধারাধরে স্ফুরতি যা তড়িদঙ্গনেব।
মাতুঃ সমস্তজগতাং মহনীয়মূর্তিঃ
ভদ্রাণি মে দিশতু ভার্গবনন্দনায়াঃ॥

বাংলা অর্থ:

যেমন ঘন কালো মেঘের বুকে বিদ্যুৎরেখা ঝলমল করে, তেমনই ভগবান বিষ্ণুর শ্যামবর্ণ বক্ষে দেবী লক্ষ্মী শোভা পান। সমগ্র জগতের সেই পূজনীয়া জননী আমার জীবনে মঙ্গল ও শুভতা দান করুন।

শ্লোক ৭

সংস্কৃত:

प्राप्तं पदं प्रथमतः खलु यत्प्रभावात्
माङ्गल्यभाजि मधुमाथिनि मन्मथेन ।
मय्यापतेत्तदिह मन्थरमीक्षणार्धं
मन्दालसं च मकरालयकन्यकायाः ॥ ७॥

বাংলা উচ্চারণ:

প্রাপ্তং পদং প্রথমতঃ খলু যৎপ্রভাবাৎ
মাঙ্গল্যভাজি মধুমাথিনি মন্মথেন।
ময়্যাপতেত্তদিহ মন্থরমীক্ষণার্ধং
মন্দালসং চ মকরালয়কন্যকায়াঃ॥

বাংলা অর্থ:

দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় কামদেবও ভগবান মধুসূদনের সান্নিধ্য লাভের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন—এমন কাব্যিক ইঙ্গিত এখানে রয়েছে। সমুদ্রকন্যা দেবীর সেই কোমল ও মঙ্গলময় দৃষ্টির সামান্য অংশ যেন আমার ওপরও বর্ষিত হয়।

শ্লোক ৮

সংস্কৃত:

दद्याद्दयानुपवनो द्रविणाम्बुधारां
अस्मिन्नकिञ्चनविहङ्गशिशौ विषण्णे ।
दुष्कर्मघर्ममपनीय चिराय दूरं
नारायणप्रणयिनीनयनाम्बुवाहः ॥ ८॥

বাংলা উচ্চারণ:

দদ্যাদ্দয়ানুপবনো দ্রবিণাম্বুধারাং
অস্মিন্নকিঞ্চনবিহঙ্গশিশৌ বিষণ্ণে।
দুষ্কর্মঘর্মমপনীয় চিরায় দূরং
নারায়ণপ্রণয়িনীনয়নাম্বুবাহঃ॥

বাংলা অর্থ:

যেমন করুণার বাতাসে চালিত মেঘ তৃষ্ণার্ত পৃথিবীতে বৃষ্টিধারা বর্ষণ করে, তেমনই নারায়ণের প্রিয়তমা দেবী লক্ষ্মীর করুণাময় নয়নমেঘ যেন এই অসহায় ভক্তের ওপর কৃপাধারা বর্ষণ করে। জীবনের পাপ, দুঃখ ও দুর্দশা দূর করে তিনি মঙ্গল দান করুন।

শ্লোক ৯

সংস্কৃত:

इष्टाविशिष्टमतयोऽपि यया दयार्द्र-
दृष्ट्या त्रिविष्टपपदं सुलभं लभन्ते ।
दृष्टिः प्रहृष्टकमलोदरदीप्तिरिष्टां
पुष्टिं कृषीष्ट मम पुष्करविष्टरायाः ॥ ९॥

বাংলা উচ্চারণ:

ইষ্টাবিশিষ্টমতয়োऽপি যয়া দয়ার্দ্র-
দৃষ্ট্যা ত্রিবিষ্টপপদং সুলভং লভন্তে।
দৃষ্টিঃ প্রহৃষ্টকমলোদরদীপ্তিরিষ্টাং
পুষ্টিং কৃষীষ্ট মম পুষ্করবিষ্টরায়াঃ॥

বাংলা অর্থ:

দেবী লক্ষ্মীর করুণাময় দৃষ্টির ফলে কঠিন প্রাপ্তিও সহজ হয়ে উঠতে পারে—এমন বিশ্বাস এই শ্লোকে প্রকাশিত হয়েছে। পদ্মাসনা দেবীর উজ্জ্বল দৃষ্টি আমার জীবনেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল নিয়ে আসুক।

শ্লোক ১০

সংস্কৃত:

गीर्देवतेति गरुडध्वजसुन्दरीति
शाकम्भरीति शशिशेखरवल्लभेति ।
सृष्टिस्थितिप्रलयकेलिषु संस्थितायै
तस्यै नमस्त्रिभुवनैकगुरोस्तरुण्यै ॥ १०॥

বাংলা উচ্চারণ:

গীর্‌দেবতেতি গরুড়ধ্বজসুন্দরীতি
শাকম্ভরীতি শশিশেখরবল্লভেতি।
সৃষ্টিস্থিতিপ্রলয়কেলিষু সংস্থিতায়ৈ
তস্যৈ নমস্ত্রিভুবনৈকগুরোস্তরুণ্যৈ॥

বাংলা অর্থ:

যিনি সরস্বতী, যিনি নারায়ণের প্রিয়া, যিনি শাকম্ভরী এবং যিনি শশিশেখর শিবের প্রিয়তমা—সেই দেবীশক্তিকে প্রণাম জানাই। সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের মহাজাগতিক কার্যধারায় যিনি শক্তিরূপে বিরাজমান, তাঁকে আমার প্রণাম।

শ্লোক ১১

সংস্কৃত:

श्रुत्यै नमोऽस्तु शुभकर्मफलप्रसूत्यै
रत्यै नमोऽस्तु रमणीयगुणार्णवायै ।
शक्त्यै नमोऽस्तु शतपत्रनिकेतनायै
पुष्ट्यै नमोऽस्तु पुरुषोत्तमवल्लभायै ॥ ११॥

বাংলা উচ্চারণ:

শ্রুত্যৈ নমোऽস্তু শুভকর্মফলপ্রসূত্যৈ
রত্যৈ নমোऽস্তু রমণীয়গুণার্ণবায়ৈ।
শক্ত্যৈ নমোऽস্তু শতপত্রনিকেতনায়ৈ
পুষ্ট্যৈ নমোऽস্তু পুরুষোত্তমবল্লভায়ৈ॥

বাংলা অর্থ:

যিনি বেদীয় জ্ঞানের স্বরূপ, শুভকর্মের ফলপ্রদায়িনী এবং অসংখ্য সুন্দর গুণের আধার, তাঁকে প্রণাম। যিনি শক্তিরূপে পদ্মে বিরাজ করেন এবং পুরুষোত্তম ভগবানের প্রিয়তমা, সেই দেবীকে বারবার প্রণাম জানাই।

শ্লোক ১২

সংস্কৃত:

नमोऽस्तु नालीकनिभाननायै
नमोऽस्तु दुग्धोदधिजन्मभूम्यै ।
नमोऽस्तु सोमामृतसोदरायै
नमोऽस्तु नारायणवल्लभायै ॥ १२॥

বাংলা উচ্চারণ:

নমোऽস্তু নালীকনিভাননায়ৈ
নমোऽস্তু দুগ্ধোদধিজন্মভূম্যৈ।
নমোऽস্তু সোমামৃতসোদরায়ৈ
নমোऽস্তু নারায়ণবল্লভায়ৈ॥

বাংলা অর্থ:

যাঁর মুখ পদ্মের মতো সুন্দর, যিনি ক্ষীরসাগর থেকে আবির্ভূতা এবং চন্দ্র ও অমৃতের সহোদরা হিসেবে বর্ণিত, সেই দেবী লক্ষ্মীকে প্রণাম। নারায়ণের প্রিয়তমা দেবীর চরণে আমার বারবার প্রণাম।

শ্লোক ১৩

সংস্কৃত:

सम्पत्कराणि सकलेन्द्रियनन्दनानि
साम्राज्यदानविभवानि सरोरुहाक्षि ।
त्वद्वन्दनानि दुरितोद्धरणोद्यतानि
मामेव मातरनिशं कलयन्तु मान्ये ॥ १३॥

বাংলা উচ্চারণ:

সম্পৎকরাণি সকলেন্দ্রিয়নন্দনানি
সাম্রাজ্যদানবিভবানী সরোরুহাক্ষি।
ত্বদ্বন্দনানি দুরিতোদ্ধরণোদ্যতানি
মামেব মাতরনিশং কলয়ন্তু মান্যে॥

বাংলা অর্থ:

হে পদ্মলোচনা দেবী! তোমার বন্দনা মানুষের জীবনে মঙ্গল, কল্যাণ ও আনন্দের পথ উন্মুক্ত করে। হে পূজনীয়া জননী, তোমার প্রতি আমার প্রণাম ও ভক্তি যেন সর্বদা অটুট থাকে এবং আমাকে দুঃখ ও অকল্যাণ থেকে উত্তরণের শক্তি দেয়।

শ্লোক ১৪

সংস্কৃত:

यत्कटाक्षसमुपासनाविधिः
सेवकस्य सकलार्थसम्पदः ।
सन्तनोति वचनाङ्गमानसैः
त्वां मुरारिहृदयेश्वरीं भजे ॥ १४॥

বাংলা উচ্চারণ:

যৎকটাক্ষসমুপাসনাবিধিঃ
সেবকস্য সকলার্থসম্পদঃ।
সন্তনোতি বচনাঙ্গমানসৈঃ
ত্বাং মুরারিহৃদয়েশ্বরীং ভজে॥

বাংলা অর্থ:

যিনি ভগবান মুরারির হৃদয়ের অধিষ্ঠাত্রী, সেই দেবীকে আমি বাক্য, শরীর ও মন দিয়ে বন্দনা করি। ভক্তের আন্তরিক উপাসনা তাঁর জীবনে কল্যাণ ও সমৃদ্ধির প্রার্থনাকে প্রকাশ করে।

শ্লোক ১৫

সংস্কৃত:

सरसिजनिलये सरोजहस्ते
धवलतमांशुकगन्धमाल्यशोभे ।
भगवति हरिवल्लभे मनोज्ञे
त्रिभुवनभूतिकरि प्रसीद मह्यम् ॥ १५॥

বাংলা উচ্চারণ:

সরসিজনিলয়ে সরোজহস্তে
ধবলতমাংশুকগন্ধমাল্যশোভে।
ভগবতি হরিবল্লভে মনোজ্ঞে
ত্রিভুবনভূতিকরি প্রসীদ মহ্যম্॥

বাংলা অর্থ:

হে পদ্মনিবাসিনী দেবী! তোমার হাতে পদ্ম, শুভ্র বস্ত্র, সুগন্ধ ও পুষ্পমালায় তুমি সুশোভিতা। হে ভগবতী, হরির প্রিয়তমা, তিন ভুবনের মঙ্গলদায়িনী দেবী, আমার প্রতি প্রসন্ন হও।

শ্লোক ১৬

সংস্কৃত:

दिग्हस्तिभिः कनककुम्भमुखावसृष्ट-
स्वर्वाहिनीविमलचारुजलप्लुताङ्गीम् ।
प्रातर्नमामि जगतां जननीमशेष-
लोकाधिनाथगृहिणीममृताब्धिपुत्रीम् ॥ १६॥

বাংলা উচ্চারণ:

দিগ্হস্তিভিঃ কনককুম্ভমুখাবসৃষ্ট-
স্বর্ভাহিনী বিমলচারুজলপ্লুতাঙ্গীম্।
প্রাতর্নমামি জগতাং জননীমশেষ-
লোকাধিনাথগৃহিণীমমৃতাব্ধিপুত্রীম্॥

বাংলা অর্থ:

দিক্‌পালদের ঐশ্বরিক হস্তীরা স্বর্ণকলস থেকে পবিত্র জল বর্ষণ করে যাঁকে অভিষিক্ত করছে, সেই জগৎজননী দেবীকে আমি প্রাতঃকালে প্রণাম জানাই। তিনি সমগ্র জগতের অধিষ্ঠাত্রী এবং অমৃতসমুদ্রের কন্যা।

শ্লোক ১৭

সংস্কৃত:

कमले कमलाक्षवल्लभे त्वं
करुणापूरतरङ्गितैरपाङ्गैः ।
अवलोकय मामकिञ्चनानां
प्रथमं पात्रमकृत्रिमं दयायाः ॥ १७॥

বাংলা উচ্চারণ:

কমলে কমলাক্ষবল্লভে ত্বং
করুণাপূরতরঙ্গিতৈরপাঙ্গৈঃ।
অবলোকয় মামকিঞ্চনানাং
প্রথমং পাত্রমকৃত্রিমং দয়ায়াঃ॥

বাংলা অর্থ:

হে কমলনয়ন ভগবানের প্রিয়তমা দেবী লক্ষ্মী! তোমার করুণায় পূর্ণ কটাক্ষ আমার দিকে নিক্ষেপ করো। আমি অসহায় ও অক্ষম ভক্ত; তোমার অকৃত্রিম দয়ার একজন আশ্রয়প্রার্থী হতে চাই।

শ্লোক ১৮

সংস্কৃত:

स्तुवन्ति ये स्तुतिभिरमीभिरन्वहं
त्रयीमयीं त्रिभुवनमातरं रमाम् ।
गुणाधिका गुरुतरभाग्यभागिनो
भवन्ति ते भुवि बुधभाविताशयाः ॥ १८॥

বাংলা উচ্চারণ:

স্তুবন্তি যে স্তুতিভিরমীভিরন্বহং
ত্রয়ীময়ীং ত্রিভুবনমাতরং রমাম্।
গুণাধিকা গুরুতরভাগ্যভাগিনো
ভবন্তি তে ভুবি বুধভাবিতাশয়াঃ॥

বাংলা অর্থ:

যাঁরা প্রতিদিন এই স্তোত্রের মাধ্যমে তিন ভুবনের জননী দেবী রমার বন্দনা করেন, তাঁরা জীবনে উত্তম গুণ, সৌভাগ্য ও জ্ঞান অর্জনের পথে অগ্রসর হন। তাঁদের চরিত্র ও চিন্তাভাবনা জ্ঞানী ব্যক্তিদের কাছেও সম্মান লাভ করে।

ইতি শ্রী কনকধারা স্তোত্রম সম্পূর্ণম।

কনকধারা স্তোত্রের মূল ভাব ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

শ্রী কনকধারা স্তোত্রের প্রতিটি শ্লোকে দেবী লক্ষ্মীর কৃপাদৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। এখানে দেবীকে কেবল ধনসম্পদের অধিষ্ঠাত্রী হিসেবে নয়, বরং সমগ্র জগতের জননী, শক্তি, সৌন্দর্য ও মঙ্গলের উৎস হিসেবে বন্দনা করা হয়েছে।

এই স্তোত্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাব হলো:

করুণা: দেবীর কাছে ভক্তের প্রধান প্রার্থনা তাঁর দয়াময় দৃষ্টির আশ্রয় লাভ করা।

ঐশ্বর্য ও সমৃদ্ধি: ঐশ্বর্য বলতে শুধু অর্থসম্পদ নয়, জীবনের মঙ্গল, সুস্থতা, জ্ঞান, গুণ ও শান্তিকেও বোঝানো যেতে পারে।

ভক্তি ও আত্মসমর্পণ: স্তোত্রের শেষের দিকের শ্লোকগুলিতে ভক্তের বিনয়, শ্রদ্ধা ও দেবীর প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভরতার ভাব প্রকাশিত হয়েছে।

শক্তির ঐক্য: দশম শ্লোকে দেবীকে সরস্বতী, লক্ষ্মী ও পার্বতীর বিভিন্ন রূপের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বন্দনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেবীশক্তির বিস্তৃত ধারণা প্রকাশ পেয়েছে।

দীপাবলিতে কনকধারা স্তোত্র পাঠের তাৎপর্য

দীপাবলি হিন্দু ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। বিভিন্ন অঞ্চলে এই উৎসবের আচার ও তাৎপর্য ভিন্ন হলেও বহু পরম্পরায় এই দিনে দেবী মহালক্ষ্মীর পূজা করা হয়।

দীপাবলির সময় ঘর পরিষ্কার করা, প্রদীপ জ্বালানো, পূজার আয়োজন এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করার প্রচলন রয়েছে। এই পবিত্র সময়ে ভক্তরা দেবী লক্ষ্মীর বিভিন্ন স্তোত্র ও মন্ত্র পাঠ করেন।

কনকধারা স্তোত্রও দেবী লক্ষ্মীর বন্দনার একটি সুন্দর মাধ্যম হতে পারে। এর মাধ্যমে ভক্তরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন যেন তাঁদের জীবনে শান্তি, মঙ্গল, সৎকর্মের শক্তি ও সমৃদ্ধি আসে।

তবে মনে রাখা উচিত, কোনও স্তোত্র পাঠ করলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ নিশ্চিতভাবে লাভ হবে—এমন দাবি করা যায় না। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভক্তি, প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি এবং দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।

কনকধারা স্তোত্র কীভাবে পাঠ করবেন?

স্তোত্র পাঠের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবার, গুরুপরম্পরা ও আঞ্চলিক রীতিতে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। সাধারণ ভক্তিমূলক পাঠের জন্য কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে।

১. স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করুন।

২. পূজার স্থান পরিষ্কার করে দেবী মহালক্ষ্মীর ছবি বা মূর্তি স্থাপন করতে পারেন।

৩. একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে ভক্তিভরে দেবীকে প্রণাম করুন।

৪. প্রথমে গণেশ বন্দনা, তারপর কনকধারা স্তোত্র পাঠ করতে পারেন।

৫. সংস্কৃত উচ্চারণ যতটা সম্ভব শুদ্ধ রাখার চেষ্টা করুন।

৬. প্রতিটি শ্লোকের অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন; কেবল দ্রুত পাঠ শেষ করাই উদ্দেশ্য নয়।

৭. পাঠ শেষে নিজের, পরিবারের এবং সমগ্র সমাজের মঙ্গল কামনা করুন।

দীপাবলি ছাড়াও অনেকে শুক্রবার বা লক্ষ্মীপূজার দিনে এই স্তোত্র পাঠ করেন। তবে নির্দিষ্ট দিন বা সময়কে সকলের জন্য বাধ্যতামূলক বলা যায় না।

কনকধারা স্তোত্র সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

প্রশ্ন: কনকধারা স্তোত্রের রচয়িতা কে?

উত্তর: প্রচলিত ধর্মীয় পরম্পরায় এই স্তোত্রটি আদি শঙ্করাচার্যের রচনা বলে মান্য করা হয়।

প্রশ্ন: কনকধারা স্তোত্রে কতগুলি শ্লোক রয়েছে?

উত্তর: একটি বহুল উদ্ধৃত মূল পাঠে ১৮টি শ্লোক রয়েছে। বিভিন্ন প্রচলিত সংস্করণে অতিরিক্ত শ্লোক যুক্ত হয়ে ২১ বা ২২টি শ্লোকও দেখা যায়।

প্রশ্ন: কনকধারা শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: কনক অর্থ সোনা এবং ধারা অর্থ প্রবাহ বা বর্ষণ। অর্থাৎ স্বর্ণের ধারা।

প্রশ্ন: কনকধারা স্তোত্র কাকে উদ্দেশ করে রচিত?

উত্তর: এটি দেবী মহালক্ষ্মীর উদ্দেশে রচিত একটি স্তোত্র।

প্রশ্ন: দীপাবলিতে কি কনকধারা স্তোত্র পাঠ করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। দীপাবলিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার সময় এই স্তোত্র পাঠ করা যেতে পারে। এটি একটি ভক্তিমূলক স্তব।

প্রশ্ন: কনকধারা স্তোত্র পাঠের জন্য সংস্কৃত জানা কি বাধ্যতামূলক?

উত্তর: না। সংস্কৃত না জানলেও বাংলা উচ্চারণ ও অর্থের সাহায্যে পাঠ শেখা যায়। তবে সঠিক উচ্চারণের জন্য নির্ভরযোগ্য পাঠ অনুসরণ করা ভালো।

প্রকৃত ঐশ্বর্য শুধু স্বর্ণে নয়, করুণা ও মঙ্গলেও

শ্রী কনকধারা স্তোত্রমের সৌন্দর্য তার কাব্যিক ভাষা, দেবী লক্ষ্মীর অপূর্ব বর্ণনা এবং ভক্তের আন্তরিক প্রার্থনার মধ্যে নিহিত। এখানে ধনসম্পদের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও তার সঙ্গে রয়েছে করুণা, বিনয়, পবিত্রতা এবং জীবনের মঙ্গলের প্রার্থনা।

দীপাবলির আলোয় যখন আমরা নিজেদের ঘর আলোকিত করি, তখন আমাদের মন ও চিন্তাকেও আলোকিত করার চেষ্টা করা উচিত। অন্যের দুঃখে সহমর্মী হওয়া, সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা, সৎপথে উপার্জন করা এবং পরিবার ও সমাজের মঙ্গল কামনা করাও এই উৎসবের সুন্দর শিক্ষা হতে পারে।

প্রচলিত কাহিনির সেই দরিদ্র গৃহিণীর একটি মাত্র আমলকী ফল আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দান করার মূল্য তার পরিমাণে নয়, তার আন্তরিকতায়।

দেবী মহালক্ষ্মীর কাছে আমাদের প্রার্থনা হোক, তিনি যেন সকলের জীবনে শান্তি, জ্ঞান, সৎকর্ম, করুণা ও মঙ্গল প্রতিষ্ঠা করেন।

শুভ দীপাবলি।

শ্রীমহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ।

MANUSHER BHASHA — প্রাচীন জ্ঞানের আলোয়, ঐতিহ্যের সন্ধানে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code