Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

SIR : নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকের ওপর হামলা ! মগরাহাট কাণ্ডে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে তলব দিল্লির; ৬ জানুয়ারি চরম ডেডলাইন

পর্যবেক্ষকের গাড়িতে হামলা: ডিজি-র কাছে রিপোর্ট তলব কমিশনের, ‘পুলিশ দলদাস’ বলে তোপ শুভেন্দুর

EC seeks action taken report on attack on roll observer


Image- ABP Live - ABP News


নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে সংঘাতের আবহাওয়া যেন কিছুতেই কাটছে না। এবার খোদ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগানের ওপর হামলার ঘটনায় নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল কমিশন। গত ২৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে গিয়ে যেভাবে গ্রামবাসীদের রোষের মুখে পড়ে পর্যবেক্ষকের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাকে ‘নিরাপত্তার চূড়ান্ত গাফিলতি’ হিসেবে দেখছে দিল্লি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরাসরি রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP)-কে চিঠি পাঠিয়ে আগামী ৬ জানুয়ারির মধ্যে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে এই ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোন আধিকারিকদের গাফিলতি ছিল, তার বিশদ ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ পেশ করতে হবে।

মগরাহাটের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে পর্যবেক্ষক সি মুরুগান তাঁর রিপোর্টে জানিয়েছেন যে, সফরসূচি আগে থেকে জানানো সত্ত্বেও তাঁকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। মগরাহাট-১ ও ২ এবং কুলপি ব্লকে পরিদর্শনের সময় একদল উন্মত্ত জনতা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে এবং জানলার কাঁচ ও বনেটে সজোরে আঘাত করতে থাকে। বিক্ষোভের তীব্রতা এতটাই ছিল যে গাড়ির দরজার হ্যান্ডেল পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলার উপক্রম হয়। এই গোটা ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। দিল্লির পাঠানো চিঠিতে সাফ জানানো হয়েছে যে, এবার থেকে কোনো বিশেষ পর্যবেক্ষক ফিল্ড ভিজিটে গেলে তাঁর সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক ও পর্যাপ্ত বাহিনী থাকতে হবে।

এই ইস্যুতে শাসকদলকে কড়া আক্রমণ শানাতে দেরি করেননি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই হামলাকে ‘তৃণমূলের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কার্যত শাসকদলের শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, ভোটার তালিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম ঢোকানোর প্রক্রিয়া যাতে কেউ ধরতে না পারে, সেই কারণেই এই ধরণের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। কমিশনের এই কড়া চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসতেই তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন যে, পুলিশের একাংশ যদি নিজেদের সংশোধন না করে এবং দলদাসের মতো আচরণ বন্ধ না করে, তবে আগামীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নির্বাচন করানো ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।

অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই হামলার দায় নিতে নারাজ। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মগরাহাটে। যদিও কমিশন এই যুক্তি মানতে নারাজ। ২৯ ডিসেম্বরের ঘটনার পর অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হলেও এখনও পর্যন্ত বড় কোনো গ্রেফতারির খবর নেই। এই পরিস্থিতিতে ৬ জানুয়ারি রাজ্য পুলিশের পেশ করা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের বাধা বা হেনস্থা বরদাস্ত করা হবে না।

এই পরিস্থিতির আরও গভীর বিশ্লেষণ এবং গ্রাউন্ড জিরোর খবর জানতে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন (Do Follow) অথবা এই সংক্রান্ত পূর্ববর্তী রিপোর্টটি দেখুন (No Follow)। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকাকে কেন্দ্র করে এই আইনি ও প্রশাসনিক লড়াই যে আরও দীর্ঘ হবে, তার সংকেত ইতিমধ্যেই মিলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code