Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

SIR : জালিয়াতি রুখতে কড়া কমিশন! ৪ ERO, AERO আধিকারিকের বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ

ভোটার তালিকায় ব্যাপক জালিয়াতি: ৫ সরকারি কর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর-এর নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের


Image- 
NDTV

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজ্যে চলা টানাপোড়েনের মধ্যেই এক বিস্ফোরক পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় ভুল নাম অন্তর্ভুক্ত করা এবং তথ্য সুরক্ষার বিধি লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের ৫ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) এই মর্মে কড়া চিঠি পাঠানো হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩২ নম্বর ধারা, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী এই মামলা রুজু করতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের আগস্ট মাসে। সেই সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকজন নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, তাঁরা নিজেদের লগ-ইন আইডি এবং পাসওয়ার্ডের মতো অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য বাইরের অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এর ফলে ভোটার তালিকার তথ্যভাণ্ডারে বড়সড় গরমিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে কমিশন সেই সময়েই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ইআরও (ERO) দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, এইআরও (AERO) তথাগত মণ্ডল এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের ইআরও বিপ্লব সরকার এবং ইইআরও সুদীপ্ত দাসকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল। রাজ্য সরকার তাঁদের গত ২০ আগস্ট সাসপেন্ড করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও পর্যন্ত পালিত হয়নি।

শনিবারের চিঠিতে নির্বাচন কমিশন এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শুধুমাত্র সাসপেনশনই যথেষ্ট নয়; যে ধরণের অপরাধ এই আধিকারিকরা করেছেন, তা সরাসরি নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় এই সংস্থা সাফ জানিয়েছে, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) মাধ্যমে এই ৫ কর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে। নির্দেশ পালন না করলে বা এফআইআর দায়ের করতে দেরি হলে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা হবে এবং প্রয়োজনে আরও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকায় ‘ভুতুড়ে ভোটার’ বা ‘ভুল নাম’ ঢোকানো নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে সরব। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে সরকারি আধিকারিকদের এই ধরণের গাফিলতি সামনে আসায় কমিশনের এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন বারবার বলছে যে, ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের আপস করা হবে না। ৫ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ আসলে রাজ্যের বাকি নির্বাচনী কর্মীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, ৬ জানুয়ারির সময়সীমার মধ্যেই পুলিশকে এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত এই ৫ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী কী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং এর ফলে ভোটার তালিকার গরমিল কতটা সংশোধন করা সম্ভব হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

কাদের বিরুদ্ধে এই চরম পদক্ষেপ?

কমিশন যে চারজন ডব্লিউবিসিএস (WBCS) পদমর্যাদার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর নির্দেশ দিয়েছে, তাঁরা হলেন:

  • দেবোত্তম দত্তচৌধুরী: বারুইপুর পূর্বের তৎকালীন ইআরও (ERO)।

  • তথাগত মণ্ডল: বারুইপুর পূর্বের এইআরও (AERO)।

  • বিপ্লব সরকার: ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও (ERO)।

  • সুদীপ্ত দাস: ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও (AERO)। এঁদের পাশাপাশি সুরজিৎ হালদার নামে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করতে বলা হয়েছে। 


অভিযোগ, এঁরা সরকারি তথ্যভাণ্ডারের লগ-ইন ডিটেইলস বাইরের অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code