মানুষের ভাষা । নিউজ ডেস্ক
গোসাবা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পর থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন লাগোয়া গোসাবা বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। প্রচারের ময়দানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাল্লাপাল্টি কর্মসূচির মাঝেই এবার ভয়াবহ সহিংসতার অভিযোগ উঠল। বিজেপির এক নির্বাচনী মিছিলে ব্যবহৃত অটোরিকশায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে।
ঘটনার সূত্রপাত
জানা গেছে, গত শনিবার গোসাবা বিধানসভা এলাকার বালি ১ ও বালি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির পক্ষ থেকে একটি বড় আকারের মিছিল ও পদসভার আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ওই মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি অটো ভাড়া করা হয়েছিল। প্রচারের কাজ শেষ হওয়ার পর গভীর রাতে যখন অটোচালকরা গাড়ি নিয়ে ফিরছিলেন, তখনই অতর্কিতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দুষ্কৃতীরা অতর্কিতে ওই অটো দুটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। একটি অটো সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং অন্য একটি অটোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় অটো মালিক ও চালকদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তাদের দলের জনপ্রিয়তা ও মিছিলের জনজোয়ার দেখে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ভয়ে এই কাপুরুষিত কাণ্ড ঘটিয়েছে। বিজেপি প্রার্থী এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের প্রচার কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিচ্ছেন। বিরোধী দল সেই জনসমর্থন সহ্য করতে না পেরে এখন সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু করেছে।"
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা দাবি করা হয়েছে যে, বিজেপির নিজেদের মধ্যেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকতে পারে, অথবা সহানুভূতি পাওয়ার জন্য খোদ বিজেপি কর্মীরাই এই ঘটনার পেছনে থাকতে পারে। শাসকদলের এক মুখপাত্র জানান, "তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় সুস্থ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কোনো রাজনৈতিক দলের মিছিলে গাড়ি দেওয়া অটোচালকদের ব্যক্তিগত অধিকার। এর সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা চাই পুলিশ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করুক এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিক।"
নির্বাচনী আবহে নিরাপত্তার প্রশ্ন
গোসাবার মতো এলাকায় এই ধরনের সহিংসতা আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষও এই পরিস্থিতির জেরে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, স্থানীয় থানার পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনোভাবেই আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে দেওয়া হবে না।
উপসংহার
গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালানোর অধিকার রয়েছে। সেখানে অটোচালকদের মতো সাধারণ মানুষ, যারা জীবিকার প্রয়োজনে গাড়ি ভাড়া দেন, তাদের লক্ষ্যবস্তু করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি। মানুষ চাইছেন, ভোটকেন্দ্রিক এই অশান্তি কাটিয়ে গোসাবা যেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সাক্ষী থাকে।

0 মন্তব্যসমূহ