অমিত শাহকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে কুরুচিকর মন্তব্য! মালদহে গ্রেফতার কনটেন্ট ক্রিয়েটর, নেপথ্যে কি তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের দেখানো পথ?
সংক্ষিপ্তসার: দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর ও কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে মালদহের চাঁচল থেকে মুসু ইয়াসমিন নামে এক মহিলা কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার চাঁচল মহিলা বিজেপি মোর্চার অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাঁকে ৩ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণের এই সংস্কৃতি রাজ্যে আনকোরা নতুন কিছু নয়। অতীতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বও শীর্ষ বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে বারবার শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে কটূক্তি করেছেন। চাঁচলের এই ঘটনা শীর্ষ নেতৃত্বের তৈরি করে দেওয়া সেই কুরুচিকর রাজনীতিরই এক নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ: দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর ও কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগে মালদহের চাঁচলের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত ওই তরুণীর নাম মুসু ইয়াসমিন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার চাঁচল মহিলা বিজেপি মোর্চার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৎপরতা দেখিয়ে শনিবার চাঁচল থানার পুলিশ ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেফতার করে।
বিজেপির অভিযোগ, 'মুসু ইয়াসমিন অফিশিয়াল' (Mushu Yasmin Official) নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কুরুচিকর, অবমাননাকর এবং আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ধৃত তরুণীর কঠোর শাস্তির দাবিতে শনিবার যখন তাঁকে চাঁচল মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন থানার সামনে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা। শনিবারই ধৃত কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে চাঁচল মহকুমা আদালতে হাজির করা হলে, বিচারক তাঁকে ৩ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। তবে সমাজমাধ্যমে করা নিজের মন্তব্য বা গ্রেফতার হওয়া প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত ওই তরুণীর কোনও প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সমাজমাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি এই ধরনের কুরুচিকর আক্রমণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর শেকড় লুকিয়ে রয়েছে রাজ্যের বিগত শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যেই। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে প্রকাশ্য জনসভা থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেন, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নিচুতলার কর্মী বা রাজ্যের কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে।
অতীতের পাতা উল্টোলে দেখা যায়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা থেকে অমিত শাহকে 'গুণ্ডা', 'হোতকা' বা 'দাঙ্গাবাজ'-এর মতো শব্দবন্ধে আক্রমণ করেছেন। কখনও বা শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ করে শালীনতার গণ্ডি পেরিয়েছেন। আবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অমিত শাহের ছবি দেওয়া টি-শার্ট পরে তাঁকে 'ইন্ডিয়াজ বিগেস্ট পাপ্পু' (India's Biggest Pappu) বলে সর্বসমক্ষে উপহাস করার এক নজিরবিহীন প্রচার চালিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও বিভিন্ন সময়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা তুই-তোকারি করা থেকে শুরু করে কদর্য ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যখন কোনও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব—বিশেষ করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বা দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড—দেশের শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এহেন কটূক্তি ও অসম্মানজনক ভাষা প্রয়োগকে সাধারণ বিষয় করে তোলেন, তখন দলের নিচুতলার সমর্থক বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররাও সেই পথেই হাঁটতে উৎসাহিত হন। তাঁদের মনে হয়, শীর্ষ নেতৃত্ব যখন এমন ভাষায় কথা বলছেন, তখন সমাজমাধ্যমে এই ধরনের মন্তব্য করাটাই বোধহয় স্বাভাবিক। চাঁচলের কনটেন্ট ক্রিয়েটর মুসু ইয়াসমিনের ঘটনাটি আসলে উপরতলা থেকে শুরু হওয়া সেই অপসংস্কৃতিরই এক চূড়ান্ত পরিণতি।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমালোচনা একটি অপরিহার্য অধিকার হলেও, রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করা যে কোনও মতেই কাম্য নয়, তা চাঁচলের এই ঘটনা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
ট্যাগ: #অমিত_শাহ #মালদহ #চাঁচল #সোশ্যাল_মিডিয়া #গ্রেফতার #মমতা_বন্দ্যোপাধ্যায় #অভিষেক_বন্দ্যোপাধ্যায় #বিজেপি #তৃণমূল_কংগ্রেস #মানুষের_ভাষা #পশ্চিমবঙ্গ

0 মন্তব্যসমূহ