ধর্মপালনে বাধা নেই, তবে গাইতে হবে 'বন্দে মাতরম'! মেচেদা থেকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, ১৬ অগাস্ট 'আয়ুষ্মান দিবস'
সংক্ষিপ্তসার: রাজ্যে নিজের ধর্মপালনে কোনও বাধা নেই, তবে 'বন্দে মাতরম' গাইতেই হবে। মেচেদায় বিজেপির এক সাংগঠনিক সভা থেকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বন্দে মাতরম গাওয়ার সময় কেবল ঠোঁট নাড়ালে চলবে না, এর ওপর কড়া নজরদারিও চলছে। পাশাপাশি, দমদম বিমানবন্দরের বাঁকড়া মসজিদ স্থানান্তর ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের 'খেলা হবে দিবস'-এর পাল্টা হিসেবে আগামী ১৬ অগাস্ট রাজ্যে নতুন সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে 'আয়ুষ্মান দিবস' পালনের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মানুষের ভাষা ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে প্রত্যেক নাগরিকের নিজের নিজের ধর্মপালনে পূর্ণ অধিকার ও স্বাধীনতা রয়েছে, তাতে সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। কিন্তু দেশের বন্দনা করে 'বন্দে মাতরম' সকলকেই গাইতে হবে। রবিবার মেচেদায় বিজেপির এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভার পর এমনই কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন জাতীয় স্তোত্র গাওয়া নিয়ে রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে প্রশাসনিক প্রধান বলেন, "বন্দে মাতরম গাইতেই হবে। গাওয়ার সময় শুধু ঠোঁট নাড়ালে হবে না। আমরা কিন্তু এই বিষয়ে নজরদারি রাখছি।"
সদ্যসমাপ্ত ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভুল বুঝিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস মিথ্যা প্রচার করেছিল বলে এদিন অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, "তৃণমূল প্রচার করেছিল যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুসলিমদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে, নমাজ পড়তে দেওয়া হবে না বলে অযথা বিতর্ক তৈরি করেছিল। কিন্তু বিজেপি সরকার কাউকে ধর্মপালনে বাধা দেয়নি।" মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে সদ্যই বকরি ইদ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। মহরমে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন অস্ত্র বাড়িতে রেখেই রাস্তায় বেরিয়েছিলেন, প্রশাসন কাউকে বাধা দেয়নি। এদিন সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বার্তা, "ডিজে থেকে দূরে থাকবেন, নিজের ধর্ম নিজে শান্তিতে পালন করবেন। আইন মেনে চলবেন, তাহলেই সব ঠিক থাকবে। কিন্তু বন্দে মাতরম গাইতেই হবে।"
এদিন দমদম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিতর থেকে ১৩৬ বছরের প্রাচীন বাঁকড়া মসজিদ সরানোর বিতর্কিত ইস্যু নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, এই ক্ষেত্রে জাতীয় সুরক্ষা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, "কলকাতা বিমানবন্দর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এর ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত স্পর্শকাতর, কারণ কাছেই রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত। তাই জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করা হবে না।"
মসজিদ স্থানান্তর প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এখন অনেক নরম সুরে কথা বলছেন সিদ্দিকুল্লা। শুভেন্দু বলেন, "আগের সরকার থাকলে এরা ধমকাত। বলত, আমাদের ভোটে সরকার তৈরি হয়েছে। আর এখন নরম নরম কথা বলছেন।" এদিন নাম না করে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে 'রেজিনগরের লোকটা' বলে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, "রেজিনগরের লোকটাও আগে খুব ধমকাত, এখন আর ধমকায় না।"
মেচেদার সভা থেকে এদিন আরও একটি বড় রাজনৈতিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ১৬ অগাস্ট গোটা রাজ্য জুড়ে ঘটা করে 'আয়ুষ্মান দিবস' পালিত হবে। উল্লেখ্য, বাংলার ইতিহাসে এই ১৬ অগাস্ট দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিতর্কিত। ১৯৪৬ সালের এই দিনেই হোসেন শাহিদ সোহরাওয়ার্দির নেতৃত্বে কলকাতায় কুখ্যাত 'দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং' (The Great Calcutta Killing) সংঘটিত হয়েছিল। পূর্বতন তৃণমূল সরকার প্রতি বছর এই ১৬ অগাস্ট দিনটিতেই 'খেলা হবে দিবস' পালন করত, যা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রবল আপত্তি ছিল বিজেপির। সেই প্রথা ভেঙে আগামী ১৬ অগাস্ট রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ১০০ দিন পূরণ করবে বিজেপি সরকার। আর সেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই রাজ্যজুড়ে 'আয়ুষ্মান দিবস' পালনের এই মেগা পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।
Tags: #SuvenduAdhikari #VandeMataram #WestBengalPolitics #BankraMosque #AyushmanDiwas #BJPWestBengal #Mecheda #ManusherBhasha #KolkataAirport

0 মন্তব্যসমূহ