Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

মানুষের পর এবার যুদ্ধেও ভয় দেখাচ্ছে এআই? এক ভুল রিপোর্টে মুখোমুখি আমেরিকা-চিন

মানুষের পর এবার যুদ্ধেও ভয় দেখাচ্ছে এআই? এক ভুল রিপোর্টে মুখোমুখি আমেরিকা-চিন



মানুষের ভাষা (ওয়েব ডেস্ক): এআই বা কৃত্রিম মেধার মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বমঞ্চে ঘটতে পারত বড়সড় বিপর্যয়! কেবল একটি ভুল রিপোর্টের জেরে দুই পরাশক্তি—আমেরিকা এবং চিনের মধ্যে সরাসরি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দেওয়া এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই এক শিউরে ওঠার মতো তথ্য।


সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে পশ্চিম এশিয়ায় একটি চিনা জাহাজে তল্লাশি চালাতে এবং সেটি আটকে দিতে প্রায় প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনী। কারণ, মার্কিন বাহিনীর কাছে পৌঁছানো একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ওই চিনা জাহাজে পরমাণু অস্ত্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পাচার করা হচ্ছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফাঁস হয় আসল তথ্য। দেখা যায়, এক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক যে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছিলেন, সেটি সম্পূর্ণ ভুল ভাবে জাহাজের সামগ্রী শনাক্ত করেছিল!

এক সূত্রের কথায়, এআই-নির্মিত সেই গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছিল ‘সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা’। আর সেই অসত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চিন ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সময়মতো ভুল ধরা পড়ায় মার্কিন বাহিনী শেষ পর্যন্ত অভিযান বাতিল করে। তবে চিনা জাহাজটিতে আসলে কী ছিল বা সেটির গন্তব্য কোথায় ছিল, সে বিষয়ে সেনা সূত্রে নির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব জুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এআই-এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে। যেখানে এমনিতেই কৃত্রিম মেধার দৌরাত্ম্যে কাজ হারানোর ভয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সাধারণ কর্মীরা, সেখানে এই ধরনের সামরিক ঝুঁকি নতুন আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক ও গুগ্‌ল ডিপমাইন্ডের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রথম সারির গবেষক এআই-এর লাগামহীন বিকাশ এবং এর অনিয়ন্ত্রিত গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইস্তফা দিয়েছেন। গবেষকদের একাংশের আশঙ্কা, দ্রুত স্ব-উন্নয়ন ঘটানোর ক্ষমতাসম্পন্ন (রিকারসিভ সেল্‌ফ ইমপ্রুভমেন্ট) কৃত্রিম মেধা যদি সঠিক মানুষের নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে তা মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্যই বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার পর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন—প্রযুক্তির এই অনিয়ন্ত্রিত বাড়বাড়ন্তে কি এখনই শক্ত হাতে লাগাম টানা উচিত নয়? নাকি এআই-এর অন্ধ অনুকরণ মানবজাতিকে আরও বড় ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code