Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

রাহুল হিন্দু নন, রাম মন্দিরে ওঁর প্রবেশ নিষিদ্ধ হোক! শঙ্করাচার্যের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি

‘রাহুল হিন্দু নন, রাম মন্দিরে ওঁর প্রবেশ নিষিদ্ধ হোক!’ শঙ্করাচার্যের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি

অযোধ্যার রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত জাতীয় রাজনীতিতে এবার নয়া মোড়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর রাম মন্দির দর্শনের সম্ভাবনা তৈরি হতেই ফুঁসে উঠলেন জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী। সরাসরি তোপ দেগে তিনি দাবি করেছেন, রাহুল গান্ধী আদৌ হিন্দু নন এবং তাঁকে রাম মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়। রাজনীতির আঙিনায় এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি ও অযোধ্যা: ধর্ম এবং রাজনীতির দীর্ঘকালীন টানাপড়েনে নতুন ঘৃতাহুতি দিলেন জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী। তাঁর স্পষ্ট নিদান— কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে যেন কোনওভাবেই অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়। কেন এই চরম অবস্থান? শঙ্করাচার্যের দাবি, রাহুল গান্ধী বারবার হিন্দুত্ব এবং সনাতন ধর্মগ্রন্থকে অপমান করেছেন, তাই মন্দিরের গর্ভগৃহে পা রাখার যোগ্যতা তাঁর নেই।

বিতর্কের সূত্রপাত: রাহুলের অযোধ্যা সফর

সম্প্রতি বারাবাঁকির কংগ্রেস সাংসদ তনুজ পুনিয়া এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধী শীঘ্রই অযোধ্যায় রামলালার দর্শন করতে পারেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের পাশাপাশি সরব হয়েছেন সাধু-সন্তদের একাংশ। কিন্তু সবথেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এল শঙ্করাচার্যের পক্ষ থেকে। তিনি সাফ বলেন, “রাহুল গান্ধী যদি অযোধ্যায় পৌঁছান, তাহলেও তাঁকে মন্দিরে ঢোকানো উচিত নয়। উনি হিন্দুত্বকে ক্রমাগত অপমান করেন।”

কেন ক্ষুব্ধ শঙ্করাচার্য?

অবিমুক্তেশ্বরানন্দের এই অভিযোগের নেপথ্যে মূলত দু’টি কারণ উঠে আসছে। প্রথমত, ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান বয়কট করেছিল কংগ্রেস। সেই সময় রাহুল গান্ধী ও তাঁর দল এই অনুষ্ঠানকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ এবং বিজেপির নির্বাচনি কৌশল বলে কটাক্ষ করেছিল। শঙ্করাচার্যের যুক্তি, যিনি রামলালার শুভ প্রতিষ্ঠাকে অসম্মান করেছেন, আজ রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁর সেই মন্দিরে প্রবেশের কোনও নৈতিক অধিকার নেই।

দ্বিতীয়ত, মনুস্মৃতি নিয়ে রাহুলের মন্তব্য। গত বছর সংসদে রাহুল গান্ধী মনুস্মৃতিকে ‘নারীবিদ্বেষী’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। শঙ্করাচার্যের মতে, এটি হিন্দু ধর্মগ্রন্থের অপমান। এই কারণেই তিনি রাহুলকে ‘হিন্দুত্ব থেকে বহিষ্কৃত’ বলে গণ্য করেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন যাতে রাহুলের মন্দিরে প্রবেশ বন্ধ করা হয়। অযোধ্যার বেশ কিছু প্রভাবশালী সাধু-সন্তও এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন।

এক সময় পাশে ছিলেন, এখন কেন বিমুখ?

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সেই শঙ্করাচার্য যিনি এক সময় রাম মন্দিরের অসম্পূর্ণ অবস্থায় উদ্বোধন নিয়ে বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি রাহুলের ‘হিংসাত্মক হিন্দু’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের সময় তিনি রাহুলের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, রাহুল বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন, হিন্দুধর্মকে নয়। কিন্তু হঠাৎ কেন এই ভোলবদল? রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, তবে কি কোনও বিশেষ চাপে পড়ে শঙ্করাচার্য আজ রাহুলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন?

কংগ্রেসের পাল্টা জবাব

কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগকে পুরোপুরি ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, “শঙ্করাচার্যের বক্তব্য বিজেপির রাজনৈতিক চিত্রনাট্যের অংশ। রাহুল গান্ধী সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী এবং তিনি কোনওদিন হিন্দুত্বকে অপমান করেননি। তিনি কেদারনাথ থেকে বৈষ্ণোদেবী— সব জায়গাতেই শ্রদ্ধার সাথে মাথা নত করেছেন।”

ভোটের অঙ্ক ও মন্দির রাজনীতি

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাহুল গান্ধী মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। হিন্দু বিরোধী তকমা মুছতে তিনি কেদারনাথ বা বৈষ্ণোদেবী সফর করলেও অযোধ্যা এতদিন এড়িয়ে গিয়েছিলেন। এখন যদি তিনি সত্যিই রাম মন্দিরে যান এবং সেখানে কোনও বাধার সম্মুখীন হন, তবে তা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশজুড়ে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দেবে।

সব মিলিয়ে, রামলালার আঙিনায় রাহুল গান্ধীর প্রবেশাধিকার এখন কেবল ধর্মীয় ইস্যু নয়, বরং এক বিশাল রাজনৈতিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। মন্দির ট্রাস্ট এখন এই ‘নিষিদ্ধকরণ’ দাবি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

ট্যাগ (Tags):

#RahulGandhi #RamMandir #Shankaracharya #Avimukteshwaranand #AyodhyaNews #CongressVsBJP #HindutvaDebate #NationalPolitics #BreakingNewsIndia #ManusherBhashaReport #RahulGandhiAyodhyaVisit #HinduismPolitics

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code