মোথাবাড়িতে বিচারকদের ওপর নজিরবিহীন তাণ্ডব! 'রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে', ডিজি-স্বরাষ্ট্রসচিবকে শোকজ করে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক: মালদহের মোথাবাড়িতে এসআইআর (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের (Judicial Officers) ওপর ভয়াবহ হামলা এবং চরম হেনস্থার ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নজিরবিহীনভাবে এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি, এই নক্কারজনক ঘটনার তদন্তভার কোন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে— সিবিআই (CBI) নাকি এনআইএ (NIA), সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) হাতেই ছেড়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
কলকাতা/নয়াদিল্লি: বাংলার বুকে বিচারব্যবস্থার ওপর এমন নগ্ন এবং বর্বরোচিত আক্রমণ সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুব কমই দেখা গিয়েছে। মালদহের মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিযুক্ত সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে (যাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা) যেভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তাতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্ন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (Suo Motu) মামলা গ্রহণ করে রাজ্য প্রশাসন এবং পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের আক্ষরিক অর্থেই তুলোধোনা করেছেন।
সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। শুধু তীব্র ভর্ৎসনাতেই থেমে থাকেনি শীর্ষ আদালত, রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশের মহানির্দেশক বা ডিজি-কে সরাসরি শোকজ (Show-cause) নোটিশ ধরানো হয়েছে। এই তাণ্ডবের নেপথ্যে কারা রয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট যে সে বিষয়ে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল, ভরা এজলাসে সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন মাননীয় প্রধান বিচারপতি।
মোথাবাড়ির সেই ভয়াল রাত: ঘেরাও, পাথর বৃষ্টি এবং চরম অসহায়তা
আদালতে পেশ করা তথ্য এবং সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মোথাবাড়ির এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল না, বরং এটি ছিল বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত ছক। ঘটনার সূত্রপাত হয় বিকেল আনুমানিক চারটে নাগাদ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision)-এর কাজ চলছিল। আচমকাই বিপুল সংখ্যক মানুষের একটি জমায়েত ওই দপ্তরটি ঘিরে ফেলে।
বিচারপতিরা যখন কাজ শেষ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। উন্মত্ত জনতা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘিরে ধরে। তাঁদের গালিগালাজ করা হয়, রীতিমতো ভয় দেখানো হয়। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামে, কিন্তু ঘেরাও তোলা হয়নি। মাননীয় প্রধান বিচারপতি এজলাসে অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, এই আটকে পড়া সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারের মধ্যে তিনজন ছিলেন মহিলা। এই আধিকারিকদের সামান্য পানীয় জল এবং খাবার পর্যন্ত পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি জানান, একজন মহিলা জুডিশিয়াল অফিসারের পাঁচ বছরের এক ছোট্ট শিশু বাড়িতে মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। সেই মায়ের কাছে জল বা খাবারটুকুও পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যায়নি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে, বিচারকদের লক্ষ্য করে ইট এবং পাথর ছোড়া হয়। তাঁদের গাড়িতে লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়। রাত প্রায় বারোটা পর্যন্ত এই তাণ্ডবলীলা চলতে থাকে। মাননীয় প্রধান বিচারপতি নিজে রাত দুটো পর্যন্ত সজাগ থেকে এই গোটা পরিস্থিতির ওপর প্রতি মুহূর্তে নজরদারি চালিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে যখন ওই আধিকারিকদের উদ্ধার করা হচ্ছিল, তখনও তাঁদের ওপর চরম আক্রমণ শানানো হয়েছে।
প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা
এই গোটা ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে কতটা বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ, তা এদিনের শুনানিতে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যখন বিকেল চারটে নাগাদ এই ঘেরাও এবং গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয়, তখন কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্টার জেনারেল নিজে উদ্যোগী হয়ে এ রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তা এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তিনি রাজ্যের বর্তমান ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গেও যোগাযোগ করে গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের অবগত করেন।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিকেল চারটে থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো রকম পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি নিজে যখন যোগাযোগ করেন, তখন তাঁকে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের তরফ থেকে কেবল একটি মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, 'দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে'। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সেই 'দ্রুত'-এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছে, যখন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুলিশ প্রশাসনে রদবদল হয়েছে, তখন এক আপৎকালীন পরিস্থিতিতে নতুন আধিকারিকদের হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নম্বর পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছিল না।
প্রশাসনের এই চূড়ান্ত শিথিলতা এবং নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করার মানসিকতাকে সুপ্রিম কোর্ট চরম নিন্দনীয় বলে আখ্যা দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, যখন কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্টার জেনারেল নিজে যোগাযোগ করছেন, তখন কেন প্রশাসন দ্রুত সক্রিয় হলো না? কেন সুপ্রিম কোর্টকে দিল্লি থেকে হস্তক্ষেপ করে বাংলার মাটিতে আটকে থাকা বিচারকদের উদ্ধার করার নির্দেশ দিতে হলো? এই প্রশ্নগুলিই রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সিবিআই না এনআইএ? তদন্তের রাশ নির্বাচন কমিশনের হাতে
এই নজিরবিহীন তাণ্ডবের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক এবং কড়া নির্দেশ দিয়েছে তদন্ত প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল যে তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চায়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এদিনের শুনানিতে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মোথাবাড়ির এই ঘটনার তদন্ত কোনোভাবেই রাজ্য পুলিশের হাতে থাকবে না। এই ঘটনার তদন্ত করবে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
তবে কোন কেন্দ্রীয় এজেন্সি এই ঘটনার তদন্ত করবে— সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) নাকি ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA), সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হাতেই ন্যস্ত করেছে সর্বোচ্চ আদালত। অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনই পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয়তা বিচার করে ঠিক করবে যে, এই তাণ্ডবের পিছনে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা জাতীয় নিরাপত্তার কোনো দিক রয়েছে কি না, যার জন্য এনআইএ তদন্ত প্রয়োজন, নাকি সিবিআই এই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশটি হলো রিপোর্টিং সংক্রান্ত। সাধারণত, এই ধরনের তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টে জমা দেওয়ার রীতি থাকে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যেহেতু এই ঘটনা সরাসরি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর আক্রমণ এবং সর্বোচ্চ আদালত নিজে এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, তাই তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই বা এনআইএ, যারা দায়িত্ব পাবে) তাদের তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের কাছেই পেশ করবে। অর্থাৎ, এই গোটা তদন্ত প্রক্রিয়াটি কলকাতা হাইকোর্ট নয়, সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারিতে বা মনিটরিংয়ে পরিচালিত হবে।
শীর্ষ কর্তাদের শোকজ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা প্রদান
রাজ্য প্রশাসনের চরম গাফিলতির কারণে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের তিন শীর্ষ আমলা— মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে কড়া ভাষায় শোকজ করেছে। সর্বোচ্চ আদালত জানতে চেয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা এবং সুস্পষ্ট তথ্য প্রদান করার পরেও কেন তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না? আগামী শুনানির দিন এই তিন শীর্ষ আধিকারিককে ভার্চুয়ালি সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারকদের নিরাপত্তার বিষয়ে একগুচ্ছ রুলিং দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যে সমস্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা এসআইআর-এর কাজ করছেন, অবিলম্বে তাঁদের কর্মক্ষেত্র (অফিস) এবং তাঁদের বাসস্থানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Forces) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ, রাজ্য পুলিশের ওপর আর কোনোভাবেই ভরসা রাখতে পারছে না শীর্ষ আদালত।
পাশাপাশি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার কাজে বাধা সৃষ্টি রুখতে অবিলম্বে ১৪৪ ধারার মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, রাজ্যের যে সমস্ত বিডিও (BDO) বা এসডিও (SDO) অফিসে এসআইআর-এর শুনানি বা কাজ চলছে, তার আশেপাশে কোনোভাবেই একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। এই নির্দেশিকা আজ থেকেই রাজ্যের সর্বত্র কড়াভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
'আমরা জানি কারা এর পেছনে আছে': প্রধান বিচারপতির কড়া বার্তা
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বা রাজনৈতিক দলের আইনজীবীদের তরফ থেকে এই গোটা ঘটনাটিকে একটি 'অরাজনৈতিক' ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে সুপ্রিম কোর্টে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ সেই তত্ত্বকে কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, "আপনাদের রাজ্যে সমস্ত কিছু নিয়ে রাজনীতিকরণ হয়। এখানকার প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল রাজনৈতিক ভাষায় (Political language) কথা বলেন। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সুপ্রিম কোর্ট যখন কোনো নির্দেশ দেয়, সেই নির্দেশ মানার ক্ষেত্রেও পলিটিক্যাল কারণ দেখানো হয়।"
সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, গতকালের এই তাণ্ডব কারা ঘটিয়েছে, এর নেপথ্যে কোন শক্তি কাজ করছে এবং কারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, সেই সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সম্পূর্ণ অবগত। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, "রাজ্যের আইনজীবীদের এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে আমরা অজ্ঞ। আমরা জানি এই ঘটনার পেছনে কে বা কারা আছে।"
বিচারকদের আত্মবিশ্বাস ভাঙার চক্রান্ত রুখে দিল আদালত
এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সাধারণত রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকরাই করে থাকেন। কিন্তু রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের বিস্তর অভিযোগ ওঠায় এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ রাখার স্বার্থেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই কাজের দায়িত্ব জুডিশিয়াল অফিসারদের দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, এই বিচারকরা সুপ্রিম কোর্টের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। তাঁদের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সমতুল্য।
তাই বিচারকদের ওপর এই আক্রমণ আদতে সুপ্রিম কোর্টের ওপরই আক্রমণ বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত। বিচারকদের কার্যত আটকে রেখে হেনস্থা করে এটা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল যে, তাঁরা যে স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন, সেই সিস্টেমটাকে ভেঙে দেওয়া হবে। এই হাড়হিম করা প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা করেছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, বিচারকদের জীবন, সম্পত্তি এবং তাঁদের পরিবারকে রক্ষা করা এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ আদালতের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
এই রায় রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এক বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি এবার স্বয়ং সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করল, তাতে রাজ্য সরকার যে চরম অস্বস্তিতে পড়ল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন তদন্তভার সিবিআই-কে দেয় নাকি এনআইএ-কে, এবং সেই তদন্তে আগামী দিনে কী চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
Tags (ট্যাগস):
#SupremeCourtOfIndia #CJI #MothabariIncident #MaldaViolence #JudicialOfficersAttacked #WestBengalElections2026 #SIRProcess #ElectionCommission #CBIProbe #NIAInvestigation #WestBengalLawAndOrder #Nabanna #ManusherBhashaNews #BengaliNews #DGPShowcaused







0 মন্তব্যসমূহ