পরীক্ষার প্রস্তুতিতে রিভিশনের জাদুকরী টেকনিক: চ্যাপ্টার ওয়াইজ ও সেকশন স্টাডি
- প্রবীর রায় চৌধুরী
পরীক্ষা সামনে এলেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একটা সাধারণ প্রশ্ন দেখা দেয়— "সব তো পড়লাম, কিন্তু মনে রাখব কী করে?" বা "এত বড় সিলেবাস রিভিশন দেব কীভাবে?" রিভিশন মানে কেবল বইয়ের পাতা উল্টানো নয়, বরং এটি একটি শিল্প। সঠিক পদ্ধতিতে রিভিশন দিলে আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়ে, তেমনই পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখা অনেক সহজ হয়ে যায়। আজকের প্রতিবেদনে আমরা প্রবীর রায় চৌধুরীর আলোচিত রিভিশনের দুটি সেরা টেকনিক নিয়ে আলোচনা করব।
১. চ্যাপ্টার ওয়াইজ রিভিশন (Chapter-wise Revision)
রিভিশন শুরু করার আগে একজন ব্যাটসম্যানের মতো পুরো মাঠ (সিলেবাস) দেখে নিতে হবে। এই ধাপের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
দ্রুত রিডিং: প্রথমে পুরো চ্যাপ্টারটি একবার বা দুবার দ্রুত পড়ে নিন যাতে বিষয়বস্তু মাথায় গেঁথে যায়।
নোটস ব্যবহার: পড়ার সময় আপনার তৈরি করা শর্ট কোশ্চেন, লং কোশ্চেনের পয়েন্ট এবং 'ডাউট' বা সমস্যার খাতাটি পাশে রাখুন।
লেয়ারিং: চ্যাপ্টার পড়ার সাথে সাথেই ওই অধ্যায়ের ছোট প্রশ্ন এবং বড় প্রশ্নের পয়েন্টগুলো ঝালিয়ে নিন। এতে ওই চ্যাপ্টারে আর কোনো অজানা অংশ থাকবে না।
Watch Full Video
এই ভিডিওতে আলোচনা করা হয়েছে কীভাবে চ্যাপ্টার ওয়াইজ এবং সেকশন স্টাডি করে আপনি যেকোনো পরীক্ষার প্রস্তুতিকে মজবুত করতে পারেন। টেস্ট পেপার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।
২. সেকশন স্টাডি বা স্মার্ট রিভিশন (Section Study)
সবকিছু একসাথে মিশিয়ে পড়লে পড়া বোরিং বা কঠিন মনে হতে পারে। তাই রিভিশনকে কয়েকটি সেকশনে ভাগ করে নিন। এক্ষেত্রে টেস্ট পেপার বা কোশ্চেন ব্যাঙ্ক দারুণ কার্যকরী:
প্রশ্ন ধরে পড়া: টেস্ট পেপারের একটি পেজ খুলুন। ওই নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার থেকে কী কী ১ নম্বরের প্রশ্ন এসেছে তা বইতে খুঁজে বের করুন। এরপর ২ নম্বর, তারপর ৩ বা ৪ এবং সবশেষে লং কোশ্চেন।
টার্গেট হিট: যখন বড় প্রশ্ন পড়বেন, তখন পুরোটা না পড়ে কেবল আপনার খাতায় লেখা 'পয়েন্ট' এবং বইয়ের নির্দিষ্ট প্যারাগ্রাফটি দেখুন।
সময় সাশ্রয়: এই পদ্ধতিতে একটি চ্যাপ্টার রিভিশন দিতে সর্বোচ্চ ১৫-২০ মিনিট সময় লাগবে। এভাবে কয়েক বছরের প্রশ্ন সলভ করলে আপনি বুঝে যাবেন ঠিক কোন প্রশ্নগুলো পরীক্ষায় আসতে পারে।
সাত দিনে সাতটি বিষয়: আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়
যাদের কোর্স শেষ হয়েছে, তারা সাত দিনের একটি চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য বরাদ্দ রাখুন।
গণিত ও ভৌতবিজ্ঞান: এই দুটি বিষয় প্রতিদিন প্র্যাকটিস করতে হবে। বিশেষ করে গাণিতিক সমস্যাগুলো প্রতিদিন চর্চায় রাখা জরুরি।
ইংরেজি: টেন্স (Tense) এবং ভার্ব লিস্ট (Verb List) নিয়মিত দেখুন।
কঠিন অংশে লাল কালি: রিভিশনের সময় যে জায়গাগুলো মনে থাকছে না, সেখানে লাল কালি দিয়ে দাগ দিন এবং আপনার সমস্যার খাতায় (Doubt Diary) তুলে রাখুন।
পড়াশোনাকে ভয় না পেয়ে আনন্দের সাথে গ্রহণ করুন। আপনি বইকে সময় দিলে বইও আপনাকে ভালো রেজাল্ট উপহার দেবে। এই বিজ্ঞানসম্মত রিভিশন পদ্ধতি অনুসরণ করলে পরীক্ষার হলে প্রশ্ন দেখে ঘাবড়ানোর ভয় থাকবে না, বরং বাড়বে প্রবল আত্মবিশ্বাস।
মনে রাখবেন, কঠোর পরিশ্রমের চেয়ে সঠিক পদ্ধতিতে পরিশ্রম (Smart Work) বেশি ফলদায়ক।
Tags:
"পরীক্ষায় ১০০% সাফল্যের চাবিকাঠি: সেরা রিভিশন টিপস" বা "কীভাবে মাত্র ৭ দিনে পুরো সিলেবাস রিভিশন দেবেন?"
কি-ওয়ার্ডস (Keywords):
Exam Revision Tips,Madhyamik Revision Guide,Smart Study Techniques,Test Paper Solving Strategy,Prabir Ray Chaudhury,Manusher Bhasha.#examtips , #exammotivation , #madhyamikmotivation , #fastrevision , #madhyamik_suggestion_2026 , #madhyamik2026 ,#bengali, #english, ##physicalscience, #lifescience, #history, #geography, #mathmatics, #englishgrammar, #learnenglish, #motivation, #exam, #student_motivation, #online_class,#mentor, #prabirraichaudhuri, madhyamik 2026 latest news, madhyamik latest news, #topperstask

0 মন্তব্যসমূহ