জাপানকে টপকে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এখন ভারত, পরবর্তী লক্ষ্য কি ?
ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি! জাপানকে টপকে ৪.১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে নতুন উচ্চতায় ভারত। পরবর্তী লক্ষ্য জার্মানি। জানুন বিস্তারিত।
নিজস্ব প্রতিবেদন, নয়াদিল্লি: বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন ইতিহাস লিখল ভারত। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাপানকে টপকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি (4th Largest Economy) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল আমাদের দেশ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের জিডিপি (GDP) এখন প্রায় ৪.১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৫-এর শেষে এই খবর দেশবাসীর জন্য এক বড় উপহার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
১. কেন এই উত্থান? জিডিপি-র ম্যাজিক ফিগার
চলতি অর্থবর্ষের (২০২৫-২৬) দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.২ শতাংশ হারে। আগের ত্রৈমাসিকে যা ছিল ৭.৮ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে যেখানে অর্থনৈতিক মন্দার মেঘ ঘনিয়ে আসছে, সেখানে ভারতের এই ধারাবাহিক ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিবিদদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে। শক্তিশালী ঘরোয়া চাহিদা এবং পরিকাঠামোগত সংস্কারই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
Image- Poniak Times২. পরবর্তী টার্গেট জার্মানি: ২০৩০-এর ব্লু-প্রিন্ট
জাপানকে হারানোর পর ভারতের পরবর্তী লক্ষ্য এখন জার্মানি। বর্তমানে আমেরিকা ও চিনের পর জার্মানি তৃতীয় স্থানে থাকলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে গতিতে ভারত এগোচ্ছে, তাতে ২০৩০ সালের মধ্যেই জার্মানিকে সরিয়ে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। সরকারি অনুমান অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি ৭.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
৩. বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস: ভারতই সেরা
শুধুমাত্র ভারত সরকার নয়, বিশ্বব্যাঙ্ক (World Bank) এবং আইএমএফ (IMF)-এর মতো সংস্থাও ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী।
মুডি’স (Moody's): ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ভারত যথাক্রমে ৬.৪% ও ৬.৫% হারে বৃদ্ধি পাবে, যা হবে G-20 দেশগুলোর মধ্যে দ্রুততম।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (ADB): ২০২৫ সালের জন্য ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.২% করেছে।
ফিচ (Fitch): গ্রাহকদের কেনাকাটার ঝোঁক বাড়ায় ২০২৬ অর্থবর্ষে ৭.৪% বৃদ্ধির আশা করছে তারা।
৪. সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাব কী?
অর্থনীতির এই উন্নতির ফলে দেশের আর্থিক বুনিয়াদ আরও মজবুত হয়েছে। সরকারের দাবি:
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে: জিনিসপত্রের দাম আগের চেয়ে স্থিতিশীল।
বেকারত্ব হ্রাস: শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
রপ্তানিতে উন্নতি: ভারতীয় পণ্য বিশ্ববাজারে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে।
২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি 'উচ্চ-মধ্যবিত্ত আয়ের দেশ' (High-Middle-Income Nation) হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন, জাপানকে টপকানো সেই লক্ষ্যের দিকেই এক বড় পদক্ষেপ।
ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান এবং চীনের বর্তমান ধীরগতির প্রেক্ষাপটে একটি তুলনামূলক প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো। এটি আপনার ব্লগের জন্য অত্যন্ত তথ্যবহুল এবং আকর্ষণীয় হবে।
ভারতের জয়যাত্রা বনাম চীনের ধীরগতি: একটি বিশেষ বিশ্লেষণ
নিজস্ব প্রতিবেদন
বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে এক বড়সড় পট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ লগ্নে এসে দেখা যাচ্ছে, একসময়ের ‘বিশ্বের কারখানা’ বলে পরিচিত চীন যেখানে ধুঁকছে, সেখানে ভারত নিজের অর্থনৈতিক গতি বাড়িয়ে একের পর এক মাইলফলক স্পর্শ করছে। জাপানকে সরিয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া ভারতের কেবল শুরু মাত্র।
কেন চীন পিছিয়ে পড়ছে আর ভারত কেন অপ্রতিরোধ্য? আসুন এই দুই এশীয় মহাশক্তির বর্তমান অবস্থার একটি তুলনামূলক ব্যবচ্ছেদ করা যাক।
১. প্রবৃদ্ধির হার: ভারত বনাম চীন
আইএমএফ (IMF) এবং বিশ্বব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার ৮.২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। অন্যদিকে, চীনের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমে ৪.৫ থেকে ৪.৮ শতাংশে ঘোরাফেরা করছে। দশকের পর দশক ধরে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেখা চীনের জন্য এই ৪ শতাংশের ঘর অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
২. কেন ধীর হচ্ছে চীনের গতি?
চীনের এই অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গভীর কারণ:
রিয়েল এস্টেট সংকট: চীনের জিডিপির প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ আসত আবাসন শিল্প থেকে। এভারগ্রান্ডে-র মতো বিশালাকার কোম্পানিগুলোর পতন চীনের সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
বৃদ্ধ জনসংখ্যা: চীনে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে শ্রমবাজার সংকুচিত হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া: 'জিরো কোভিড' পলিসি এবং সরকারের কড়া নিয়ন্ত্রণের কারণে বহু বহুজাতিক সংস্থা চীন থেকে তাদের কারখানা সরিয়ে ভারত বা ভিয়েতনামের মতো দেশে নিয়ে আসছে (যাকে বলা হচ্ছে China Plus One স্ট্র্যাটেজি)।
৩. ভারতের সাফল্যের চাবিকাঠি
চীনের বিপরীতে ভারতের এই উত্থানের প্রধান কারণগুলো হলো:
ঘরোয়া চাহিদা: ভারতের অর্থনীতির প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ চালিত হয় অভ্যন্তরীণ ভোগ বা কেনাকাটার ওপর ভিত্তি করে। ফলে বিশ্ববাজারে মন্দা থাকলেও ভারতের ওপর তার প্রভাব পড়ে কম।
তরুণ প্রজন্ম: ভারতের বিশাল অংশ এখন কর্মক্ষম যুবক, যা চীন বা জাপানের নেই। এই 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড' ভারতকে আগামী ২০ বছর অক্সিজেন দেবে।
পরিকাঠামো ও সংস্কার: জিএসটি সরলীকরণ, আয়করে ছাড় এবং পিএলআই (PLI) প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন শিল্পে উৎসাহ দেওয়া ভারতের জিডিপি-কে বুস্ট করছে।
৪. তুলনামূলক পরিসংখ্যান একনজরে
| বিষয়ের নাম | ভারত (২০২৫) | চীন (২০২৫) |
| অর্থনীতির আকার | ৪.১৮ ট্রিলিয়ন ডলার (৪র্থ) | ১৯.২৩ ট্রিলিয়ন ডলার (২য়) |
| জিডিপি প্রবৃদ্ধি | ৮.২% (বিশ্বের দ্রুততম) | ৪.৫% - ৪.৮% (ধীরগতি) |
| মূল শক্তি | অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও তরুণ সমাজ | রপ্তানি ও ভারী শিল্প |
| প্রধান সমস্যা | কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধি | আবাসন সংকট ও বৃদ্ধ জনসংখ্যা |
৫. আগামীর লড়াই
চীনের অর্থনীতির আকার ভারতের চেয়ে প্রায় ৪.৫ গুণ বড় হলেও, বৃদ্ধির 'গতি' এখন ভারতের দিকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন এখন একটি 'পরিণত' কিন্তু 'স্থবির' অর্থনীতির দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত এখন 'উঠতি' এবং 'চঞ্চল'। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত যদি জার্মানিকে টপকে তৃতীয় স্থানে পৌঁছাতে পারে, তবে এশিয়ার প্রকৃত নেতা হিসেবে ভারতের দাবি আরও জোরালো হবে।
Tags :ভারত বনাম চীন অর্থনীতি ২০২৫, চীনের জিডিপি ধীরগতি, ভারতের অর্থনৈতিক সাফল্য, China vs India Economy Comparison 2025.
ইন্ডিয়া ফোর্থ লার্জেস্ট ইকোনমি, জাপান বনাম ভারত জিডিপি, ইন্ডিয়া জিডিপি ২০৩০ টার্গেট, জিডিপি গ্রোথ রেট ২০২৫।
0 মন্তব্যসমূহ