"আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত!" দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সপাটে জবাব অভিষেকের, তুঙ্গে ইভিএম বনাম ভোটার তালিকা বিতর্ক
- মুখোমুখি সংঘাতে অভিষেক ও নির্বাচন কমিশন! 'ভোটার তালিকা এখন খু*নের অস্ত্র'—দিল্লিতে দাঁড়িয়ে চরম হুঁশিয়ারি তৃণমূল সেনাপতির।
- দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তপ্ত বাক্যবিনিময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কেন তিনি বললেন 'আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত'? ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ নিয়ে পড়ুন বিস্তারিত।
নিজস্ব প্রতিবেদন, দিল্লি ও কলকাতা: ২০২৬-এর মহড়া কি শুরু হয়ে গেল দিল্লির দরবারে? মঙ্গলবার দিল্লির নির্বাচন সদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক ঘিরে তৈরি হলো নজিরবিহীন উত্তেজনা। বৈঠকের ভেতরে বাগবিতণ্ডা এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে মনে করিয়ে দেন তাঁর সাংবিধানিক অবস্থান। অভিষেকের কথায়, "আপনি সরকার দ্বারা মনোনীত, আর আমি মানুষের দ্বারা নির্বাচিত।"
১. "চুরি ইভিএমে নয়, হচ্ছে ভোটার তালিকায়"
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি বলেন, এতদিন সবাই ইভিএম (EVM) নিয়ে দুশ্চিন্তা করত, কিন্তু আসল ‘ভোট চুরি’ হচ্ছে ভোটার তালিকায়। তাঁর অভিযোগ, "ওপেক বা অস্বচ্ছ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেছে বেছে ভোটারদের নাম কাটা হচ্ছে বা তাঁদের ‘সন্দিগ্ধ’ তালিকায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে।" তিনি সাফ জানান, আগেকার ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ‘সাসপিশাস’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (তর্কমূলক অসঙ্গতি)-র মতো কোনো শব্দ ছিল না। এবার এই শব্দগুলো ব্যবহার করে ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করার ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে কমিশন।
২. উত্তপ্ত বৈঠক ও ‘আঙুল উঁচিয়ে’ কথা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। তিনি অভিযোগ করেন, যখন তৃণমূল প্রতিনিধি দল তাঁদের উদ্বেগের কথা জানাচ্ছিলেন, তখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মেজাজ হারিয়ে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলছিলেন এবং বারবার বাধা দিচ্ছিলেন। তখনই অভিষেক তাঁকে পালটা দিয়ে বলেন, "আপনার নিয়োগ হয়েছে একটি বিশেষ মিশনের জন্য—এই প্রতিষ্ঠান এবং দেশকে ধ্বংস করতে। মনে রাখবেন, আপনি মনোনীত আর আমি নির্বাচিত।" অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, কমিশন যদি সাহস পায় তবে ওই বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে আনুক।
৩. বিরোধী দলগুলোকে বিশেষ বার্তা
অভিষেক এই লড়াইকে কেবল বাংলার লড়াই হিসেবে দেখছেন না। তিনি কংগ্রেস ও আপ (AAP)-এর মতো দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, "মহারাষ্ট্র, দিল্লি বা হরিয়ানায় বিরোধীরা এই ভোটার তালিকার কারচুপি ধরতে পারেনি বলেই বিজেপি সেখানে সুবিধা পেয়েছে। সব বিরোধী দলের উচিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে হওয়া এই ভোট চুরি ধরা।"
৪. কমিশনের কড়া পালটা ও হুঁশিয়ারি
তৃণমূলের এই পাহাড়প্রমাণ অভিযোগের বিপরীতে নির্বাচন কমিশনও কিন্তু দমে যায়নি। কমিশন সাফ জানিয়েছে:
আধিকারিকদের নিরাপত্তা: বুথ লেভেল অফিসার (BLO) বা নির্বাচনী আধিকারিকদের কোনোভাবেই হুমকি বা ভয় দেখানো বরদাস্ত করা হবে না। তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএলও-দের সাম্মানিক: পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অবিলম্বে বিএলও-দের বর্ধিত সাম্মানিক (Honorarium) মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
নতুন বুথ: বস্তি এলাকা এবং বড় আবাসনগুলোতে (High-rise) আরও বেশি পোলিং স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা জানানো হয়েছে।
৫. প্রতিনিধি দলে কারা ছিলেন?
অভিষেকের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডেরেক ও'ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, নাদিমুল হক, সাকেত গোখলে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং মানস ভুঁইয়ার মতো হেভিওয়েট নেতারা।

0 মন্তব্যসমূহ