Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

সংস্কারের এক্সপ্রেস গতিতে ভারত ! ২০২৫-কে কেন ঐতিহাসিক বছর বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী? জানুন বড় ঘোষণাগুলো।PM Modi's Reform Express

২০২৫ হলো সংস্কারের ‘ল্যান্ডমার্ক ইয়ার’, বিশ্বের নজরে এখন ভারত: লিঙ্কডইন নিবন্ধে লিখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

Image- NEWS9 Live 

নয়াদিল্লি, ৩০ ডিসেম্বর: দেশবাসীর উদ্ভাবনী শক্তি এবং অদম্য উৎসাহে ভর করে ভারত আজ বিশ্ববাসীর মনোযোগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার একটি বিশেষ নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন, আজ সারা বিশ্ব ভারতের দিকে আশা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাকিয়ে আছে। পেশাদারদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিঙ্কডইন-এ (LinkedIn) পোস্ট করা একটি নিবন্ধে তিনি ২০২৫ সালকে ভারতের সংস্কার যাত্রার একটি 'ল্যান্ডমার্ক বছর' বা মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১১ বছরের ধারাবাহিক অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই ২০২৫ সালে এই আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি অনেককেই বলে আসছি যে ভারত এখন 'রিফর্ম এক্সপ্রেস'-এ (Reform Express) চড়েছে। আর এই এক্সপ্রেসের প্রধান ইঞ্জিন হলো আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং দেশবাসীর অদম্য মানসিকতা।”

মোদী সরকারের ২০২৫-এর মূল সংস্কারসমূহ: একনজরে

প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিবন্ধে ২০২৫ সালের বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন:

১. জিএসটি (GST) ও আয়করে বিশাল স্বস্তি:

পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি-তে আমূল পরিবর্তন এনে একে মাত্র দুটি স্ল্যাবে (৫ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ) নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং কৃষকদের ওপর করের বোঝা কমেছে। পাশাপাশি, বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর এখন আর কোনো আয়কর দিতে হচ্ছে না। ১৯ can-এর পুরনো আয়কর আইনের বদলে প্রযুক্তিনির্ভর 'আয়কর আইন ২০২৫' চালু করা হয়েছে।

২. বিমা ও ব্যবসা ক্ষেত্রে উদারীকরণ:

বিমা ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা এই শিল্পে প্রতিযোগিতা বাড়াবে। এছাড়া ক্ষুদ্র সংস্থার (Small Companies) বার্ষিক টার্নওভারের সীমা ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে হাজার হাজার সংস্থাকে আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

৩. ঔপনিবেশিক আইনের অবসান:

প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯০৮ সালের মতো পুরনো ব্রিটিশ আমলের আইন বাতিল করে ৫টি নতুন সামুদ্রিক ও ব্লু-ইকোনমি আইন পাশ করা হয়েছে। এছাড়া 'বাতিল ও সংশোধন বিল ২০২৫'-এর মাধ্যমে ৭১টি অপ্রাসঙ্গিক আইন সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে।

৪. শ্রম ও কর্মসংস্থান সংস্কার:

২৯টি জটিল শ্রম আইনকে একীভূত করে ৪টি লেবার কোড বা শ্রম সংহিতা তৈরি করা হয়েছে। এটি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়াবে। এছাড়া গ্রাম রোজগার গ্যারান্টি যোজনার অধীনে কাজের দিন ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে।

৫. বিশ্ব বাণিজ্য ও এফটিএ (FTA):

২০২৫ সালে ভারত নিউজিল্যান্ড, ওমান এবং ব্রিটেনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারিত করেছে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ড এবং লিচেনস্টাইন-এর মতো উন্নত ইউরোপীয় দেশগুলোর (EFTA) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) কার্যকর করা ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক জয়।

৬. জ্বালানি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে রূপান্তর:

পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ সম্প্রসারণের জন্য 'শান্তি' (SHANTI) আইন পাশ করা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার বদলে একটি একক উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

মোদীর বার্তা: "নিয়ন্ত্রণ নয়, সহযোগিতা"

প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিবন্ধের শেষে উল্লেখ করেন যে, ২০২৫ সালের এই সংস্কারের মূল দর্শন হলো— নিয়ন্ত্রণের বদলে সহযোগিতা এবং কঠোর আইনি মারপ্যাঁচের বদলে সাহায্য করা। তিনি বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী এবং উদ্ভাবকদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভারতের প্রবৃদ্ধির গল্পের ওপর ভরসা রাখুন এবং আমাদের দেশের মানুষের ওপর বিনিয়োগ জারি রাখুন।”


২০২৫-এ সাধারণ মানুষের ৫টি বড় লাভ

১. ২০২৫-এর নতুন অর্থনৈতিক ও শ্রম সংস্কার

বিষয়পুরাতন নিয়ম (পুরনো আইন)নতুন নিয়ম (আয়কর আইন ২০২৫)
আয়কর মুক্ত সীমা৭ লক্ষ টাকা (নতুন কাঠামোতে)১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত
আইনি ভিত্তি১৯৬১ সালের আয়কর আইনপ্রযুক্তি-চালিত আয়কর আইন ২০২৫
প্রক্রিয়াজটিল ও দীর্ঘসূত্রিতাসরলীকৃত এবং প্রযুক্তি-নির্ভর পদ্ধতি

২. জিএসটি (GST) কাঠামোর সরলীকরণ

জিএসটির একাধিক স্ল্যাব কমিয়ে আনার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে এবং ছোট ব্যবসায়ীদের সুবিধা হবে।

  • পূর্বের ব্যবস্থা: ৫%, ১২%, ১৮% এবং ২৮% এর জটিল স্ল্যাব।

  • ২০২৫-এর নতুন কাঠামো: মাত্র ২টি প্রধান স্ল্যাব— ৫% এবং ১৮%

  • সুবিধাভোগী: সাধারণ পরিবার, MSME (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প), কৃষক এবং শ্রমনির্ভর ক্ষেত্র।


৩. নতুন শ্রম সংহিতা (The 4 Labour Codes)

২৯টি বিচ্ছিন্ন আইনকে একীভূত করে মাত্র ৪টি কোডে নিয়ে আসা হয়েছে, যা ব্যবসা করা সহজ করবে এবং শ্রমিকের সুরক্ষা দেবে।

নতুন লেবার কোডমূল উদ্দেশ্য ও পরিবর্তন
বেতন সংহিতা (Wage Code)দেশের সমস্ত শ্রমিকের জন্য ন্যূনতম বেতন এবং সময়মতো মজুরি নিশ্চিত করা।
সামাজিক সুরক্ষা (Social Security)অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্যও বিমা, পেনশন এবং চিকিৎসার সুযোগ।
শিল্প সম্পর্ক (Industrial Relations)ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মালিক-শ্রমিক বিবাদ দ্রুত মেটানো।
পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকাজের জায়গায় উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নারী কর্মীদের বিশেষ সুরক্ষা।

৪. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের হাইলাইটস

  • গ্রামীণ কর্মসংস্থান (MGNREGA): গ্যারান্টিযুক্ত কাজের দিন ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে।

  • বিমা ক্ষেত্র: ১০০% সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) অনুমতি।

  • ব্যবসায়িক সুবিধা: ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থাকা সংস্থাকে ‘ক্ষুদ্র সংস্থা’ হিসেবে গণ্য করা হবে, ফলে আইনি ঝক্কি কমবে।

Tags: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৫ সংস্কার, জিএসটি স্ল্যাব পরিবর্তন, আয়কর আইন ২০২৫, ইন্ডিয়া রিফর্ম এক্সপ্রেস, মোদী লিঙ্কডইন নিবন্ধ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code