ভোপালে আয়োজিত ২০২৬ সালের রিজিওনাল এআই ইমপ্যাক্ট কনফারেন্সে আইআইটি ইন্দোরের বিজ্ঞানীদের তৈরি এক বিস্ময়কর আবিষ্কার সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে। মানুষের মতো দেখতে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত হুবহু প্রতিকৃতি (Replica) এখন মানবদেহের রোগ নির্ণয়ে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে।
মধ্যপ্রদেশ: মানবদেহের রোগ শনাক্ত করতে মানুষের মতো দেখতে এআই চালিত প্রতিকৃতি তৈরি করল আইআইটি ইন্দোর
ভোপাল (মধ্যপ্রদেশ) [ভারত], ১৬ জানুয়ারি (Source- এএনআই): ANI সংবাদ সংস্থার একটি খবরে জানা যাচ্ছে ১৫ জানুয়ারি ভোপালে অনুষ্ঠিত ‘মধ্যপ্রদেশ রিজিওনাল এআই ইমপ্যাক্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত একটি মানবদেহের প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়েছে যা রোগ শনাক্ত করতে সক্ষম। এটি গবেষক, চিকিৎসা পেশাদার এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) ইন্দোর মানুষের মতো দেখতে এই এআই-চালিত প্রতিকৃতিটি তৈরি করেছে যা মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া এবং চোখের পলক ফেলার মতো মৌলিক কাজগুলো অনুকরণ করতে সক্ষম। সেই সঙ্গে এটি মানবদেহের ভেতরে বিভিন্ন রোগের ধরণ শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। মানবদেহের একটি ‘ডিজিটাল টুইন’ (Digital Twin) হিসেবে ডিজাইন করা এই এআই রোবটটির লক্ষ্য হলো— রোগ কীভাবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে প্রভাবিত করে তার সিমুলেশন তৈরি করে ডাক্তারদের প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করা।
আইআইটি ইন্দোরের 'দৃষ্টি সিপিএস' (Drishti CPS)-এর বৈভব জৈন এএনআই-কে জানিয়েছেন যে, ‘দৃষ্টি সিপিএস’ হলো আইআইটি ইন্দোরের একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন কেন্দ্র। ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ‘ন্যাশনাল মিশন অন ইন্টারডিসিপ্লিনারি সাইবার-ফিজিক্যাল সিস্টেমস’ (NM-ICPS)-এর অধীনে তারা সহায়তা পেয়ে থাকেন।
জৈন বলেন, “দৃষ্টি সিপিএস-এ আমরা ফ্যাকাল্টি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তি উন্নয়ন কর্মসূচির মতো বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছি। আমরা বিভিন্ন ধরণের স্টার্টআপ সাপোর্টও দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ৮৯টি স্টার্টআপকে অর্থায়ন করেছি। সম্প্রতি, ‘চরক ডিটি’ (Charak DT - Digital Twin) প্ল্যাটফর্ম নামে একটি নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রযুক্তির রূপান্তরের স্তরে উন্নীত হয়েছি। আমরা মানুষের একটি ডিজিটাল টুইন তৈরি করছি যার লক্ষ্য হলো মানবদেহে রোগের প্রতিরোধমূলক নির্ণয় (Preventive diagnosis) প্রদান করা।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, “যে কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আগে আমরা এই মানব রোগীর (প্রতিকৃতি) ডিজিটাল টুইন মডেলে তা প্রয়োগ করে দেখি। এই রোগীটি দেখতে একদম আসল মানুষের মতো, যা মানুষের মতোই শ্বাস নিতে পারে এবং চোখের পলক ফেলতে পারে। আমরা এর ওপর বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারি, যেমন ওষুধ দেওয়া এবং চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ প্রয়োগ করা। যাতে একটি সঠিক প্রতিরোধমূলক রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এটি মানুষের একটি ডিজিটাল টুইন মডেল, যা একটি এআই (AI) মডেল প্রয়োগ করে এবং এটি মানুষের বিভিন্ন প্যারামিটারের ওপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যা নির্দিষ্ট রোগের কারণ হয়। তাই যখনই এই প্যারামিটারগুলি কোনও নির্দিষ্ট সীমায় (Threshold) পৌঁছায়, আমরা বিভিন্ন প্রযুক্তির সাহায্যে রোগ নির্ণয় করতে পারি। আমরা আপাতত ফুসফুসের জন্য ডিজিটাল টুইন মডেল তৈরি করেছি এবং ভবিষ্যতে আমরা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম (হৃদপিণ্ড সংক্রান্ত) এবং অন্যান্য অঙ্গের মডেল তৈরি করব। সুতরাং, আসন্ন ‘চরক ডিটি’ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ডিজিটাল টুইন তৈরি করা হবে।”
এছাড়াও জৈন উল্লেখ করেছেন যে, তারা ক্লিনিকাল ভ্যালিডেশন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পণ্যের জন্য তিনটি এইমস (AIIMS)— ভোপাল, দিল্লি এবং রায়পুর এইমস-এর সহায়তা পাচ্ছেন।
Source -ANI
স্বাস্থ্য খাতে বিপ্লব: এইমস দিল্লি ও ভোপাল ইতিমধ্যেই এই প্রতিকৃতিটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার শুরু করেছে। ২০২৬ সালের শেষের দিকে এটি জেলা হাসপাতালগুলোতেও পৌঁছে যেতে পারে।
ট্যাগ (Tags):
#IITIndore #AIHealthcare #DigitalTwin #CharakDT #DiseaseDetection #MedicalInnovation #BhopalAIConference #ScienceAndTechnology #IndiaInnovation #ArtificialIntelligence2026 #FutureOfMedicine #ANIUpdates #ManusherBhashaNews

0 মন্তব্যসমূহ