শাহি ‘টনিক’-এ স্বমহিমায় দিলীপ! ২০২৬-এর আগে শাহের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ও নয়া সমীকরণ; বঙ্গ বিজেপিতে কতটা অপরিহার্য তিনি?
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে গত কয়েক মাস ধরে যে গুঞ্জনটি সবথেকে বেশি ডালপালা মেলছিল, তা হলো— "দিলীপ ঘোষ কি ব্রাত্য হয়ে যাচ্ছেন?" কিন্তু মঙ্গলবার কলকাতার নিউটাউনে অমিত শাহের বঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ। কেবল দলীয় বৈঠকে ডাক পাওয়াই নয়, সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক টেবিলে বসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজও সারলেন দিলীপ ঘোষ। এই ঘটনাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, ২০২৬-এর কঠিন লড়াইয়ে দিলীপকে ছাড়া এক পা-ও এগোতে চাইছে না দিল্লি।
১. মুখে আঙুল দিয়ে ‘শাহি অনুশাসন’ পালন
গেরুয়া পাঞ্জাবি আর জহর কোটে এদিন বেশ চনমনে মেজাজে দেখা গেছে দিলীপ ঘোষকে। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও অবশ্য স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কোনো ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য করেননি তিনি। বরং হাসিমুখে মুখে আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন— এখন কেবলই অনুশাসনের সময়। দিলীপ বলেন, "আজ কেবল শুনতে ডাকা হয়েছিল। যা বলা হয়েছে তা শুনেছি। দল যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে, আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করব।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহর কড়া বার্তার পর দিলীপের এই সংযত আচরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর আলিপুরদুয়ারের সভা বা শাহের মে মাসের সফরে তাঁকে দেখা না যাওয়ায় ‘চক্রান্ত’ ও ‘অপমান’-এর যে সুর উঠেছিল, আজ তা কার্যত ধামাচাপা পড়ে গেল।
২. বঙ্গ বিজেপিতে দিলীপ ঘোষের অনস্বীকার্য অবদান
দিলীপ ঘোষকে ছাড়া বঙ্গ বিজেপির ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়। কেন তিনি ২০২৬-এর আগে দলের জন্য অপরিহার্য, তা বুঝতে তাঁর অবদানগুলো দেখে নেওয়া জরুরি:
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: ২০১৪ সালে বিজেপি যখন বাংলায় ৪ শতাংশের দল ছিল, তখন আরএসএস থেকে এসে দিলীপ ঘোষই দলের হাল ধরেন। তাঁর ‘ঘর চলো’ অভিযানের মাধ্যমেই বিজেপি বাংলার গ্রামে গ্রামে পৌঁছাতে শুরু করে।
২০১৯-এর রেকর্ড সাফল্য: দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি থাকাকালীনই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৮টি আসন জিতে তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল। তাঁর ধারালো ও সোজাসাপটা ভাষাই কর্মীদের রক্তে নাচন ধরিয়েছিল।
সংগঠন ও বুথ স্তর: লবি-রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে জেলা থেকে ব্লক স্তরে বিজেপিকে একটি সঙ্ঘবদ্ধ শক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন দিলীপ। তাঁর আমলেই বিজেপি রাজ্যে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে।
কর্মী-বান্ধব নেতা: দিলীপ ঘোষ মানেই ‘মর্নিং ওয়াক’ আর চায়ের আড্ডায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে বুক চিতিয়ে লড়াই করার মানসিকতা বঙ্গ বিজেপিতে তিনিই প্রথম আমদানি করেন।
৩. ২০২৬-এ কি বড় দায়িত্ব?
শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরই বলেছিলেন, "আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সঙ্ঘবদ্ধ বিজেপিকে দেখতে পাবেন।" শাহের সঙ্গে দিলীপের এই ‘লাঞ্চ ডিপ্লোম্যাসি’র পর স্পষ্ট যে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে ফের সামনের সারিতে দেখা যাবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে দিলীপের যে জনপ্রিয়তা, তাকে কাজে লাগিয়েই মমতার ‘ফাটাফাটি’ খেলার মোকাবিলা করতে চাইছে পদ্ম শিবির।
অমিত শাহের দেওয়া ‘টনিক’ কি সত্যিই বঙ্গ বিজেপির কোন্দল মিটিয়ে এককাট্টা লড়াই নিশ্চিত করবে? শুভেন্দু-সুকান্ত-দিলীপ—এই তিন শক্তির রসায়ন যদি ২০২৬-এ মিলেমিশে যায়, তবে বাংলার ক্ষমতায় বদল আসার সম্ভাবনা যে প্রবল, তা আজ শাহি বৈঠকের পর স্পষ্ট হয়ে গেল।
Tags : দিলীপ ঘোষ অমিত শাহ বৈঠক, বঙ্গ বিজেপি ২০২৬ রণকৌশল, Dilip Ghosh contribution to Bengal BJP, সুকান্ত শুভেন্দু দিলীপ ঐক্য।
0 মন্তব্যসমূহ