Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

ভারতের মাস্টার স্ট্রোক : বাংলাদেশের মুখে ছাই দিয়ে চিকেনস নেকে বসলো ১২ ফুটের স্মার্ট ফেন্সিং

 

ভারতের মাস্টার স্ট্রোক : বাংলাদেশের মুখে ছাই দিয়ে চিকেনস নেকে বসলো ১২ ফুটের স্মার্ট ফেন্সিং 


Image- The Hindu

সংক্ষেপ: মোদী সরকার শিলিগুড়ি করিডোরে ১২ ফুট উঁচু ‘অ্যান্টি-কাটিং’ ও ‘অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং’ স্মার্ট ফেঞ্চিং স্থাপন করে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে। বিএসএফ-এর এই নয়া কৌশলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

মানুষের ভাষা, নিউজ ডেস্ক : ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং কৌশলগত গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে মোদী সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন’স নেক’ (Chicken’s Neck) অঞ্চলকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলতে বিএসএফ (BSF) সেখানে ১২ ফুট উঁচু ‘স্মার্ট ফেঞ্চিং’ বা আধুনিক নকশার কাঁটাতার (NDF) স্থাপন করেছে। দেশের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে এই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চিকেন’স নেক সুরক্ষায় বিএসএফ-এর নতুন রণকৌশল

শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে সংযুক্তকারী একমাত্র স্থলপথ। এর কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে বিএসএফ প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা নতুন নকশার ১২ ফুট উঁচু কাঁটাতারে মুড়ে ফেলেছে। এই কাঁটাতারের বিশেষত্ব হলো এটি সহজে কাটা যায় না এবং এর উচ্চতার কারণে টপকানো প্রায় অসম্ভব। বিএসএফ-এর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি মুকেশ ত্যাগী জানিয়েছেন, এই আধুনিক বেড়াটি এমনভাবে তৈরি যাতে অনুপ্রবেশকারীরা কাটতে গেলেও অনেক সময়ের প্রয়োজন হবে, যা বিএসএফ জওয়ানদের দ্রুত পালটা পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নজরদারি ক্যামেরা এবং ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ (PTZ) ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা বিএসএফ-এর কমান্ড সেন্টারকে সীমান্তের প্রতি মুহূর্তের লাইভ ফিড সরবরাহ করে। শুধু তাই নয়, বিএসএফ তাদের ‘এরিয়া ডমিনেশন’ বা এলাকা দখলের পরিকল্পনায় বড় বদল এনেছে। এখন জওয়ানরা শুধু জিরো পয়েন্টে নজরদারি না রেখে ভারতীয় ভূখণ্ডের বেশ কয়েক কিলোমিটার অভ্যন্তরেও অভিযান চালাচ্ছেন যাতে চোরাচালানের আঁতুড়ঘরগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়।

চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পরিসংখ্যান

২০২৫ সালের শুরু থেকে বিএসএফ-এর তৎপরতা নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার চোরাচালান সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গবাদি পশু, সোনা, রূপো, বন্যপ্রাণীর দেহাংশ, আগ্নেয়াস্ত্র এবং মাদক। সীমান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৪৪০ জন বাংলাদেশি এবং ১৫২ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মানবিকতার খাতিরে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য যাচাইয়ের পর ১৮৭ জন বাংলাদেশিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তাঁদের আঙুলের ছাপ ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকলে তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করা যায়।

স্থানীয় জনমতের মন জয় ও সমন্বয়

কেবল সামরিক শক্তিতে নয়, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে বিএসএফ এক নতুন সামাজিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। জওয়ানরা সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিতে গিয়ে পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলছেন এবং চোরাচালানের কুফল ও আইনি পরিণাম সম্পর্কে সচেতন করছেন। এই ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার’ বা বিশ্বাস তৈরির পদক্ষেপের ফলে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে বিএসএফ-এর সমন্বয় বেড়েছে। এর পাশাপাশি সীমান্তে ৩টি নতুন সামরিক ব্যারাক বা গ্যারিসন (কিশনগঞ্জ, চোপড়া এবং বামুনি) স্থাপন করা হয়েছে যাতে দ্রুত সেনা মোতায়েন করা সম্ভব হয়।

মোদী সরকারের এই সুদূরপ্রসারী প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা চিকেন’স নেককে এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে যাতে বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কোনো আঁচ ভারতের সার্বভৌমত্বে না লাগে।


ট্যাগ: #ModiGovernment #BSF #ChickenNeck #BorderSecurity #SmartFencing #IndiaBangladeshBorder #NationalSecurity #SiliguriCorridor #StrategicDefense #AntiInfiltration

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code