Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

আসামে নৃশংসতা: ডাইনি সন্দেহে দম্পতিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারল গ্রামবাসীরা

আসামে নৃশংসতা: ডাইনি সন্দেহে দম্পতিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারল গ্রামবাসীরা




নিজস্ব প্রতিবেদন: আসামের কার্বি আংলং জেলায় কুসংস্কারের বলি হলেন আরও দুই জন। ডাইনি বিদ্যা চর্চার সন্দেহে গ্রামবাসীরা প্রথমে এক দম্পতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে এবং পরে তাঁদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মঙ্গলবার রাতের এই ভয়াবহ হামলায় দম্পতি জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান।

নিহতদের নাম ৪৩ বছর বয়সী গার্দি বিরোভা এবং তাঁর স্ত্রী ৩৩ বছর বয়সী মীরা বিরোভা। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়াঘাট এলাকার অন্তর্গত ১ নম্বর বেলগুড়ি মুন্ডা গ্রামে। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস ছিল যে, এই দম্পতি কালো জাদু চর্চা করছিলেন এবং এর মাধ্যমে আশেপাশের মানুষের ক্ষতি করছিলেন।

পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেফতার

আক্রমণকারীরা প্রথমে দম্পতির ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয়। এরপর তারা বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে ওই দম্পতি ভেতরেই আটকা পড়েন এবং পুড়ে মারা যান। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে। এই অপরাধের সাথে জড়িত সমস্ত অভিযুক্তকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।


একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ওই এলাকাটি কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। মানুষ গুজব বিশ্বাস করার প্রবণতা রাখে, যার ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই ধরণের হঠকারী সিদ্ধান্ত কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা ওই কর্মকর্তা গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন।

গভীর কুসংস্কার

কার্বি আংলংয়ের মতো দুর্গম এলাকাগুলোতে কুসংস্কার আজও গভীরভাবে শিকড় গেড়ে আছে। অসুস্থতা বা কোনো দুর্ভাগ্যের সম্মুখীন হলে স্থানীয়রা প্রায়শই তার কারণ হিসেবে ডাইনি বিদ্যা বা কালো জাদুকে দায়ী করেন। ফলস্বরূপ, নিরপরাধ মানুষগুলো নিশানায় পরিণত হয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় আসাম সরকার ২০১৫ সালে 'আসাম উইচ হান্টিং (প্রনিষিদ্ধকরণ, প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন' কার্যকর করেছিল।

কঠোর আইনি বিধান

এই আইনটি অত্যন্ত কঠোর। কাউকে ডাইনি তকমা দিয়ে হত্যা বা নির্যাতন করলে এই আইনে চরম শাস্তি এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। এটি একটি অ-জামিনযোগ্য এবং কগনিজেবল (আমলযোগ্য) অপরাধ, যার অর্থ পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করতে পারে। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো কুসংস্কার নির্মূল করা এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দেওয়া।

দশ বছরে ১০০-র বেশি মৃত্যু

এই আইন থাকা সত্ত্বেও আসামে ডাইনি সন্দেহে হত্যার ঘটনা থামেনি। গত দশ বছরে এই ধরণের ঘটনায় ১০০-র বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। অধিকাংশ ভুক্তভোগীই দরিদ্র এবং কম শিক্ষিত এলাকা থেকে আসেন যেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব রয়েছে। এর ফলে মানুষ সঠিক চিকিৎসার অভাব বা রোগকে জাদুর প্রভাব বলে ভুল করেন।

In Assam Shocker, Couple Burnt Alive Over Witchcraft Suspicion

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code