"একা কারোর ক্ষমতায় বাংলা জেতা সম্ভব নয়!" শুভেন্দুকে পরোক্ষ নিশানায় ফের স্বমহিমায় 'দাবাং' দিলীপ
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে বছরের শুরুতেই বড়সড় ধামাকা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সফরের পর ফের খবরের শিরোনামে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘদিনের 'ব্রাত্য' দশা কাটিয়ে শাহী সাক্ষাতের পর আজ যখন তিনি ময়দানে নামলেন, তাঁর প্রতিটি বাক্যেই ঝরল সেই পরিচিত তেজ। শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি নাম না করে বিঁধলেন তিনি, আবার স্পষ্ট করে দিলেন—বিজেপি কোনো একক ব্যক্তির ক্যারিশমায় নয়, বরং যৌথ নেতৃত্বেই বিশ্বাসী।
১. জগন্নাথের আশীর্বাদ ও ২০২৬-এর পরিবর্তন
সম্প্রতি দিঘার জগন্নাথ মন্দির দর্শনের পর তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন যে, জগন্নাথই দিলীপের ভাগ্য ফেরালেন। এর উত্তরে দিলীপ ঘোষের চিরচেনা শ্লেষ, "উনি প্রবচন দিতে থাকেন, লোকে মজা পায়। তবে ২৬-এর নির্বাচনে জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদেই রাজ্যে পরিবর্তন আসবে।"
২. শুভেন্দু বনাম দিলীপ: একার জোরে কি বাংলা জেতা সম্ভব?
রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় প্রশ্ন ছিল—একা শুভেন্দু অধিকারীকে দিয়ে কি বৈতরণী পার করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই দিলীপকে ফেরানো হলো? জবাবে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত কৌশলী কিন্তু কড়া বার্তা দিলেন। তিনি বলেন, "পার্টি কোনো একক ব্যক্তির ভরসায় চলতে পারে না। অভিজ্ঞ মুখদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কোনো একজন গোটা পশ্চিমবঙ্গ জিতিয়ে দেবে—সেটা সম্ভব নয়।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাম না নিলেও দিলীপের এই তীরের লক্ষ্য যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তা বুঝতে কারোরই অসুবিধা হয়নি।
৩. "পার্টি এক্সপেরিমেন্ট করছিল": দুর্দিন নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ
বিগত কয়েক মাসে মোদী-শাহের সভায় দিলীপ ঘোষের ডাক না পাওয়া নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। সেই ‘দুর্দিন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "হতে পারে। পার্টি মাঝে মাঝে এক্সপেরিমেন্ট করে। দল হয়তো ভেবেছিল একেকটা মুখকে একেকবার সামনে আনি, দেখি পাবলিক কীভাবে রিয়াক্ট করে।" তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন, দিলীপ ঘোষ আগেও যা ছিল, এখনও তাই আছে। তাঁর শীতঘুম ভাঙেনি, তিনি রোজ ইকো পার্কে সক্রিয় ছিলেন।
৪. হুমায়ূন কবীর প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান
সংখ্যালঘু ভোট কাটতে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ূন কবীরের নতুন দল কি বিজেপির সুবিধা করে দেবে? এই সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, "গতবার আইএসএফ নিয়েও আপনারা অনেক চর্চা করেছিলেন, রেজাল্ট কী হলো? হুমায়ূন কবীর সকালে এক বলেন, বিকেলে আর এক। ওঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। উনি স্রেফ জল মাপছেন আর নিজের দাম বাড়াচ্ছেন।" তবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, হুমায়ূন যদি সত্যিই ব্রিগেডে ১০ লাখ লোক জমাতে পারেন, তবেই বোঝা যাবে তিনি কতটা শক্তি।
৫. অভিষেকের 'ফুল অ্যাকশন' ও তৃণমূলের ভাঙন
তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে গোষ্ঠী কোন্দল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফের সক্রিয় হওয়া নিয়ে দিলীপের কটাক্ষ, "ডায়লগ দিয়ে ইলেকশন জেতা যায় না। সিপিএমকেও অজেয় ভাবা হতো, কিন্তু হারার পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তৃণমূলের ডিএনএ-তেই গোষ্ঠী কোন্দল আছে, ক্ষমতা যাওয়ার ভয় যত বাড়ছে, কোন্দল তত বাড়ছে।"
অমিত শাহের দেওয়া ‘ভোকাল টনিক’ যে কাজ করতে শুরু করেছে, তা দিলীপ ঘোষের এই চনমনে মেজাজেই স্পষ্ট। দলের অন্দরের সমীকরণ যাই হোক, দিলীপের প্রত্যাবর্তন যে তৃণমূল শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই যৌথ নেতৃত্ব বনাম একক দাপটের লড়াই ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে।
Tags- দিলীপ ঘোষের সাক্ষাৎকার, শুভেন্দু অধিকারী বনাম দিলীপ ঘোষ, ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন, অমিত শাহ দিলীপ ঘোষ বৈঠক।
0 মন্তব্যসমূহ