ব্রিগেড নয়, বেলডাঙাতেই সভা হুমায়ুনের! জোটের দরজা চিরতরে বন্ধ?
মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদ রাজনীতির ‘রবিনহুড’ হতে চাওয়া হুমায়ুন কবীরের ব্রিগেডের স্বপ্ন আপাতত বিশ বাঁও জলে। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বড়সড় সমাবেশের পরিকল্পনা থাকলেও সেনার অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত নিজের ‘হোম টার্ফ’ বেলডাঙাতেই ফিরে যেতে হচ্ছে জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানকে। আগামী ৩১ জানুয়ারি বেলডাঙার এক মার্বেল দোকানের পাশের মেঠো জমিতেই ১০ লাখ মানুষের জমায়েত করার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তিনি। আর এই সভাকে ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। হুমায়ুনের সাফ ঘোষণা, ৩১ জানুয়ারির পর আর কোনও জোট নয়, একাই ১৮২ আসনে প্রার্থী দেবে তাঁর দল।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও ব্রিগেডের বিকল্প
ব্রিগেড সভার অনুমতি না মেলায় এর পিছনে বিজেপি ও তৃণমূলের গোপন আঁতাত এবং ষড়যন্ত্র দেখছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, তাঁকে কলকাতায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সেনার পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে সভা করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ছোট মাঠে সভা করতে নারাজ তিনি। হুমায়ুন বলেন, “যে মাঠে জনতা উন্নয়ন পার্টির জন্ম হয়েছিল, সেখানেই ৩১ জানুয়ারি শনিবার দুপুর ১টায় সভা করব। ওখান থেকেই তৃণমূল আর বিজেপির মৃত্যুঘণ্টা বাজাব।” তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ব্রিগেডের বিকল্প কি সত্যিই বেলডাঙার এই মেঠো জমি হতে পারে?
জোটের দরজা বন্ধ ও নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ
হুমায়ুন কবীর এদিন এক বিস্ফোরক ঘোষণা করে জানিয়েছেন যে, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্তই তিনি অন্যান্য দলের সঙ্গে জোটের জন্য অপেক্ষা করবেন। তারপরই জোটের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। পরের দিন অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই তিনি রাজ্যের ১৮২টি আসনে একতরফা প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেবেন। মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনেই তাঁর দল নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে বলে তাঁর দাবি।
বেলডাঙা সংঘর্ষ ও দুষ্কৃতী যোগের নিন্দা
সাম্প্রতিক বেলডাঙা সংঘর্ষ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ভরতপুরের এই বিতর্কিত বিধায়ক। গত দুদিনের ঘটনার জন্য মুর্শিদাবাদবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “আন্দোলন বা অবরোধ করা অধিকার, কিন্তু সাধারণ মানুষের অসুবিধা করা ঠিক নয়। সেদিন কিছু মানুষ মাদক সেবন করে পথ অবরোধ করেছিল। আমি কোনওদিন দুষ্কৃতীদের নিয়ে রাজনীতি করিনি এবং করবও না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গদ্দার’ ও ‘দাঙ্গাবাজ’ তকমার পাল্টা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
হুমায়ুনের ‘বড় সংলাপ’ বনাম ‘বাস্তব’
হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক জীবন বরাবরই বড় বড় প্রতিশ্রুতি আর শেষ মুহূর্তে ‘ব্যাকফুট’-এ চলে যাওয়ার ইতিহাসে ঠাসা। কখনও সৌদি আরবের ধর্মগুরু আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁশকুড়ার ইমামদের আনা, কখনও হায়দরাবাদের বাউন্সারের বদলে কাঁচরাপাড়ার লোকাল লোক নিয়ে আসা, কিংবা এক বছরের জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া নেওয়ার গল্প— হুমায়ুনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এমন ঘটনার অভাব নেই। গত ডিসেম্বরে বেলডাঙার মাঠে ১০ লাখ লোকের কথা বললেও বড়জোর ২৫ হাজার লোকের জমায়েত হয়েছিল বলে জেলা প্রশাসনের দাবি। এবারও ১০ লাখের সেই চেনা ‘ডায়লগ’ শোনা যাচ্ছে। ৩১ জানুয়ারি বেলডাঙার সেই মেঠো জমিতে হুমায়ুন কতদূর সফল হন, এখন সেটাই দেখার।
ট্যাগ (Tags):
#HumayunKabir #JanataUnnayanParty #BeldangaRally #MurshidabadPolitics #BengalElection2026 #TMCvsHumayun #BrigadeParadeGround #PoliticalWarfareBengal #ThirdFrontWestBengal #BreakingNewsMurshidabad #ManusherBhashaReport #HumayunKabirLive

0 মন্তব্যসমূহ