“কষ্ট কম, ফল বেশি; জানুয়ারিতেই চূড়ান্ত হোক জোট”, শহীদ মিনার থেকে তৃণমূল-বিজেপিকে উৎখাতের ডাক নওশাদের
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে দিলেন ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বুধবার কলকাতার শহীদ মিনারের সভা থেকে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষকেই উৎখাত করার লক্ষ্যে বাম-কংগ্রেস এবং অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলিকে নিয়ে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন তিনি। নওশাদের সাফ বার্তা, কেবল রাজ্য স্তরে নয়, বুথ স্তরে জোটের প্রভাব ফেলতে হলে এই জানুয়ারি মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
Image-
মানুষের ভাষা, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। বুধবার শহীদ মিনারের জনসভা থেকে আইএসএফ বিধায়ক স্পষ্ট করে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং বিজেপি—উভয় শক্তিকেই পরাজিত করতে হলে ‘সেকুলার ফোর্স’ বা ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিকে এক ছাতার তলায় আসতে হবে। তাঁর মতে, শাসকদলকে সহজে হারাতে হলে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং অন্যান্য অসাম্প্রদায়িক দলগুলির মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা ছাড়া অন্য পথ নেই।
বুথ স্তরের জোটে জোর নওশাদের
এদিন নওশাদ সিদ্দিকী বারবার একটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন—তা হলো জোটের সময়সীমা। তিনি বলেন, “সহজেই যাতে হারানো যায় এবং কষ্ট কম করে যাতে বেশি ফল পাওয়া যায়, তার জন্য আমরা জাতীয় কংগ্রেস, লেফট ফ্রন্ট এবং সমস্ত সেকুলার ফোর্সকে জানিয়েছি। আগামীকাল থেকেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যাতে দ্রুততার সাথে এই জোট প্রক্রিয়া এই মাসের মধ্যেই সমাপ্ত করা যায়।”
নওশাদের আশঙ্কা, জোট যদি কেবল কলকাতার রাজ্যস্তরে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার কোনও প্রভাব নিচুতলায় পড়বে না। তাঁর কথায়, “জানুয়ারি মাসের মধ্যে জোট প্রক্রিয়া শেষ না করলে বুথ লেভেলে এই জোটের ইমপ্যাক্ট কিছু আসবে না। তাই আমরা বলেছি, কংগ্রেস এবং অন্যান্য শক্তির সাথে আলোচনা চলছে, আশা করছি এই মাসেই আমাদের অবস্থান ক্লিয়ার করে দেব।”
সদর্থক বাম-কংগ্রেস, উদ্ধত তৃণমূল
নওশাদের এই জোটের ডাককে স্বাগত জানিয়েছে বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে এবং পরের প্রজন্মের কর্মসংস্থান রক্ষা করতে হলে মন্দির-মসজিদের রাজনীতির বাইরে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে। তাঁদের মতে, নওশাদ যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশও মনে করছেন, ২০১৬-র ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠনগুলো এক হয়ে চললে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে আঘাত করা সম্ভব।
অন্যদিকে, নওশাদের এই উদ্যোগকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, আইএসএফ আসলে বিজেপির ‘বি-টিম, সি-টিম বা ডি-টিম’। তৃণমূলের এক মুখপাত্রের কথায়, “সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করে যারা বিবৃতি দিচ্ছেন, তারা আসলে বিজেপির হাতেই তামাক খাচ্ছেন। বিজেপিকে রুখতে পারেন কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জোটের নামে ভোট ভাগ করলে আসলে বিজেপিরই সুবিধা হবে।”
মাথা ব্যথা নেই বিজেপির
বিজেপির পক্ষ থেকে এই জোটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের দাবি, এবারের লড়াই পশ্চিমবঙ্গের ‘সভ্যতা রক্ষা’র লড়াই। নওশাদ তৃণমূলের সাথে থাকবেন নাকি আলাদা লড়বেন, তাতে বিজেপির কিছু যায় আসে না। তাঁদের মতে, যারা তৃণমূলের অপশাসন ও অরাজকতার পক্ষে থাকবেন তারা জোট বা তৃণমূলের সাথে থাকবেন, আর যারা সুশাসন চান তারা বিজেপির পাশে দাঁড়াবেন।
এক নজরে নওশাদের জোট বার্তা
লক্ষ্য: তৃণমূল ও বিজেপিকে একযোগে হারানো।
শরিক: বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ দল।
ডেডলাইন: ২০২৬-এর জানুয়ারির মধ্যেই জোট চূড়ান্ত করা।
কৌশল: নিচুতলা বা বুথ স্তরে জোটের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
ট্যাগ (Tags):
#NawshadSiddiqui #ISF #LeftCongressAlliance #BengalElection2026 #TMCvsBJP #SecularFrontBengal #ShaheedMinarRally #WestBengalPolitics #BreakingNewsBengal #ManusherBhashaReport #PoliticalAlliance #ThirdFrontBengal

0 মন্তব্যসমূহ