Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনার বিরাট পদক্ষেপ , সেনার ইস্টার্ন কমান্ড রাজ্যপালের দরবারে

সেনার নিরপেক্ষতা নিয়ে মমতার মন্তব্যে নজিরবিহীন সংঘাত: রাজ্যপালের দ্বারস্থ ইস্টার্ন কমান্ড, উত্তাল রাজ্য রাজনীতি



Image- NEWS9 Live

মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবার রাজ্য প্রশাসন বনাম সেনাবাহিনীর মধ্যে এক নজিরবিহীন সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হলো। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। ফোর্ট উইলিয়ামের এক উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিককে ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতে’র অভিযোগে সেনার মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করে সরাসরি রাজভবনে পৌঁছে গেলেন দুই শীর্ষ সেনা জেনারেল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে এক নতুন ও গভীর সাংবিধানিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

ঘটনার সূত্রপাত: মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ

গত ১৩ জানুয়ারি নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, ফোর্ট উইলিয়ামের একজন কমান্ড্যান্ট বিজেপির নির্দেশে SIR-এর কাজে লিপ্ত রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেছিলেন, “আমার কাছে তথ্য আছে যে, ফোর্ট উইলিয়ামের একজন কমান্ড্যান্ট বিজেপির সমর্থনে SIR-এর কাজ করছেন। তিনি সেখানে বসে বিজেপির পার্টি অফিসের কাজ করছেন। আমি হাত জোড় করে অনুরোধ করছি, আপনারা এই ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন।”

রাজভবনে সেনা জেনারেলরা: নালিশ ও নথিপত্র

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে ভারতীয় সেনাবাহিনী যে চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ, তা স্পষ্ট হয়ে যায় গত সপ্তাহের এক গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে। লোক ভবন ও ফোর্ট উইলিয়াম সূত্রে জানা গিয়েছে, সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তর থেকে দুজন জেনারেল পদমর্যাদার আধিকারিক রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে একটি লিখিত প্রতিবাদপত্র জমা দেন। সেনাবাহিনীর শীর্ষস্তরের দাবি, কোনও তথ্য বা প্রমাণ ছাড়া কর্মরত সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা সেনার নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করার সামিল। তাঁরা রাজ্যপালকে জানান, এই ধরনের মন্তব্য সেনাবাহিনীর সাংবিধানিক অবস্থানের পরিপন্থী এবং এর ফলে সেনার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

রাজ্যপাল ও কেন্দ্রের ভূমিকা

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই অভিযোগটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন। লোক ভবন সূত্রে খবর, তিনি ইতিমধ্যেই বিষয়টি প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন। রাজ্যপাল এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কী বলেছেন তা তিনি নিজে যাচাই করবেন এবং যদি কোনও সাংবিধানিক ঔচিত্য লঙ্ঘন হয়ে থাকে, তবে তিনি অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। সেনার পক্ষ থেকে রাজ্যপালের আশ্বাসে আপাতত সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিরোধীদের সুর ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ব্যঙ্গাত্মক সুরে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে পশ্চিমবঙ্গের রাষ্ট্রপতি মনে করেন বলেই হয়তো যা খুশি তাই বলতে পারেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের একটি রাজ্য মনে করেন না, বরং বাংলাকে একটি সার্বভৌম দেশ মনে করেন।” তিনি মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগকে সম্পূর্ণ “ভিত্তিহীন” বলে খারিজ করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বিষয়টিকে ‘গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কাছে চিঠি লেখা দরকার এবং তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ দেওয়া উচিত। এই অভিযোগের পেছনের সত্য আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।” কংগ্রেস ও বামেদের মতে, সেনাবাহিনীর মতো একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক তর্জায় টেনে আনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনের SIR প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন সেনাবাহিনীকে এই বিতর্কে জড়িয়ে ফেলা নজিরবিহীন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অকাট্য প্রমাণ থাকে, তবে তা যথাযথ সাংবিধানিক পথে জানানো উচিত ছিল। নবান্ন বনাম রাজভবনের পুরনো লড়াইয়ে এবার ফোর্ট উইলিয়ামের সংযুক্তি বাংলার প্রশাসনিক জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিল। সেনাবাহিনীর মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এই ধরণের রাজনৈতিক চাপানউতর আগামী দিনে দিল্লি বনাম নবান্ন সংঘাতকে আরও তীব্র করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগ (Tags):

#MamataBanerjee #EasternCommand #IndianArmy #GovernorCVAnandaBose #FortWilliam #SIRControversy #BengalPolitics2026 #DefenseMinistry #ConstitutionalCrisis #TMCvsArmy #ShamikBhattacharya #MohammedSalim #BreakingNewsBengal #ManusherBhashaReport


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code