Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

DGCA অনুমতি নেই- উড়লো না অভিষেকের কপ্টার : কেন্দ্রীয় স্বরযন্ত্রের অভিযোগ টিএমসির ; সড়কপথেই বীরভূম রওনা

অভিষেকের কপ্টার ‘কাঁটা’! বীরভূম সফরের আগে অনুমতি দিল না কেন্দ্র; বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সড়কপথেই রওনা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আকাশে শুরু হয়ে গেল এক নতুন ‘যুদ্ধ’। এবার সংঘাতের কেন্দ্রে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার। মঙ্গলবার বীরভূম সফরের কথা থাকলেও দীর্ঘক্ষণ বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে আটকে রইলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। অভিযোগের তির সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দিকে। তৃণমূলের দাবি, বীরভূমের জনসভা বানচাল করতে চক্রান্ত করে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক (DGCA) কপ্টার ওড়ানোর অনুমতি দিচ্ছে না।


Image- TV9 Bangla News

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বীরভূমের মাটিতে পা রাখার আগেই বাধার মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে হেলিকপ্টারে করে রামপুরহাটের বিনোদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তরফ থেকে মেলেনি ওড়ার ছাড়পত্র (Clearance)। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ কপ্টারের ভেতরেই বসে থাকতে হয় তাঁকে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ এবং বিজেপির ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

কেন মিলল না অনুমতি? তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

তৃণমূল সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার সময়ও যখন কপ্টার ওড়ানোর অনুমতি মেলেনি, তখন ক্ষোভে ফেটে পড়ে ঘাসফুল শিবির। বীরভূম জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রামপুরহাটের সভা আটকাতেই এই কৌশল নিয়েছে বিজেপি। তবে কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, প্রযুক্তিগত কোনো ত্রুটি বা আকাশপথের ট্রাফিক সংক্রান্ত কোনো সমস্যার কারণেই হয়তো এই বিলম্ব। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বনগাঁ সফরের সময়ও একই ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেবার কপ্টার সংস্থার লাইসেন্স নিয়ে সমস্যার কথা বলা হয়েছিল, যার জেরে সড়কপথেই বনগাঁ যেতে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে।

‘বিজেপি ভয় পেয়েছে’, সড়কপথেই বীরভূম চললেন অভিষেক

হেলিকপ্টারের জন্য আর অপেক্ষা না করে বিকেল নাগাদ সড়কপথেই বীরভূমের উদ্দেশ্যে রওনা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূম তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য মহিউদ্দিনের মতে, "বিজেপি বুঝে গেছে বীরভূমে অভিষেকের সভা মানেই জনজোয়ার। সেই ভয় থেকেই এই অগণতান্ত্রিক বাধা।" অভিষেক মঙ্গলবার রাতে তারাপীঠের একটি হোটেলে রাত্রিবাস করবেন এবং পরদিন সকালে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী খাতুনের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানা গেছে। বীরভূমের এই সফর ২০২৬-এর সংগঠন গোছানোর কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

মমতার সেই হুঁশিয়ারি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

বনগাঁর জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, "ওরে আমার সঙ্গে খেলতে যাস না। আমি যেটা খেলব, তাতে আমার নাগাল পাবে না।" অভিষেকের ক্ষেত্রেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় তৃণমূল মনে করছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি বা নির্বাচন কমিশন ছাড়াও এবার বিমান মন্ত্রককেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে দিল্লি। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা এবং নিয়ম মেনেই ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) কাজ করে, এতে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।

নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি এবং ভোটার তালিকা নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই অভিষেকের কপ্টার বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন ঘি ঢেলে দিল। বিকেল গড়িয়ে গেলেও যখন কপ্টার ওড়েনি, তখন সড়কপথে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার যাত্রা করে বীরভূম পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিষেক। বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে রামপুরহাটের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কী পাল্টা আক্রমণ শানান, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলার মানুষ।


অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপ্টার বিতর্ক, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূম সফর ২০২৬, বেহালা ফ্লাইং ক্লাব নিউজ, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক ও তৃণমূল সংঘাত।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code