‘তদন্তের নামে বিপর্যয় মোকাবিলা’, আরজি কর মামলায় সিবিআই-এর স্টেটাস রিপোর্ট নিয়ে তোপ নির্যাতিতার পরিবারের
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে কি তবে জল মাপছে সিবিআই? শিয়ালদহ আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা অষ্টম স্টেটাস রিপোর্ট ঘিরে এমনই গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল নির্যাতিতার পরিবার। শনিবার আদালতের শুনানিতে কার্যত ক্ষোভ উগরে দিয়ে পরিবারের আইনজীবী দাবি করেন, এই তদন্তে অভিযুক্ত থেকে পরিজন— কেউই সন্তুষ্ট নন। তদন্তের নামে আসলে ‘বিপর্যয় মোকাবিলা’র চেষ্টা চলছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এক রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা বজায় রাখছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
আদালতে সিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক তদন্তে আরজি করের চিকিৎসক, কর্মী ও পুলিশকর্মী মিলিয়ে মোট ১২ জনকে জেরা করা হয়েছে। খতিয়ে দেখা হয়েছে কল ডিটেইলস রেকর্ড বা সিডিআর। কিন্তু এই তথ্যে বিন্দুমাত্র আশ্বস্ত হতে পারছে না নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের আইনজীবীর যুক্তি, গত এক বছরে একাধিকবার স্টেটাস রিপোর্ট জমা পড়লেও তাতে কোনো ফলপ্রসূ অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। কখনও ২৪ জন, কখনও ৭ জন, আবার কখনও ১২ জনকে জেরার কথা বলা হলেও মূল রহস্যের জট খোলেনি। উল্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেন নির্যাতিতার মাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে না? ঘটনার দিন তাঁর কাছে আসা ফোন বা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি যা দেখেছেন, তা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে দাবি পরিবারের। তবুও সিবিআই কেন বিষয়টি ‘বিবেচনাধীন’ বলে ফেলে রেখেছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
শুনানি চলাকালীন পরিবারের আইনজীবী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, টালা থানার তৎকালীন আধিকারিক বা আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষের বাইরেও কি কাউকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে? পরিবারের তরফে কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য সিবিআই-এর হাতে দেওয়ার কথা বলা হলেও কেন সেই তত্ত্ব যাচাই করা হচ্ছে না, তা নিয়েও শোরগোল পড়ে যায়। অন্যদিকে, সিবিআই-এর আইনজীবী পালটা সওয়ালে জানান যে, তদন্তকারী সংস্থা কার নির্দেশে চলবে না। কাকে কখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, সেটি সম্পূর্ণ তদন্তকারীদের পেশাদার সিদ্ধান্ত। এ দিন আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীর সওয়ালেও নতুন মাত্রা যোগ হয়। তাঁর দাবি, বর্তমান রিপোর্টে যে ধারাগুলোর উল্লেখ রয়েছে, তার অধিকাংশই জামিনযোগ্য। ফলে কেন তাঁর মক্কেলকে আটকে রাখা হয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পুরো বিষয়টি শোনার পর আদালত জানায়, স্টেটাস রিপোর্টের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া তাদের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী স্টেটাস রিপোর্ট পেশের দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে শুনানি শেষে বিচারক সাবধান করে দেন, আদালতের ভেতরে বা বাইরে যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। এর আগের শুনানিতে তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে নির্যাতিতার মায়ের বাদানুবাদ এবং কান্নার ঘটনাকে মাথায় রেখেই এই সতর্কতা জারি করা হয়। দিনের শেষে আরজি কর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে মৃতার পরিবারের এই সংশয় ফের একবার প্রশাসনের ওপর চাপের সৃষ্টি করল।
ট্যাগসমূহ (Tags):
আরজি কর মামলা, সিবিআই তদন্ত, আরজি কর স্টেটাস রিপোর্ট, শিয়ালদহ আদালত, সন্দীপ ঘোষ, কলকাতা পুলিশ, আরজি কর ধর্ষণ ও খুন, পশ্চিমবঙ্গ সংবাদ ২০২৬, বিচারপ্রক্রিয়া, RG Kar Case, CBI Investigation, Status Report, Sandip Ghosh, Sealdah Court, Justice For Abhaya, West Bengal News 2026

0 মন্তব্যসমূহ