২০২৬ সালের শুরুতে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সে দেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার ও তাঁদের ওপর নির্ভরশীলদের অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। ঢাকার বর্তমান অস্থিরতা এবং সংখ্যালঘু হিন্দু নিধনের যে ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে, তার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে নিরাপত্তা সংকট: কূটনীতিকদের পরিবার ফেরাল দিল্লি, ঢাকাকে ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং ঘোষণা ভারতের
Image- Firstpostনিউজ ডেস্ক, মানুষের ভাষা: বাংলাদেশে বাড়তে থাকা উ8গ্রপন্থা এবং অরাজকতার আবহে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। সে দেশে মোতায়েন ভারতীয় হাই-কমিশন ও সহকারী হাই-কমিশনগুলোর আধিকারিকদের পরিবার ও তাঁদের ওপর নির্ভরশীলদের ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে দেশে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই এবং এএনআই সূত্রে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং
নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের বসবাসের জন্য আর নিরাপদ নয়। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটে ভারতের সহকারী হাই-কমিশন রয়েছে। এই সমস্ত জায়গা থেকেই কূটনীতিকদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যদিও ভারতীয় দূতাবাস ও হাই-কমিশনগুলো পুরোপুরি খোলা এবং সচল থাকবে। নিরাপত্তা জনিত কারণে ঢাকাকে এখন থেকে ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, এখন থেকে কেবল আধিকারিকরাই সেখানে কাজ করবেন, তাঁদের পরিবার সাথে থাকতে পারবে না—যা সাধারণত পাকিস্তানের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ক্ষেত্রে করা হয়।
র*ক্তাক্ত বাংলাদেশ: সংখ্যালঘু হিন্দু নি*ধনের ভয়াবহ চিত্র
বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা মাত্রা ছাড়িয়েছে। সম্প্রতি রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপ (RRAG)-এর রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে, গত দেড় মাসে অন্তত ১৫ জন হিন্দুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক হিন্দু হত্যার পরিসংখ্যান ও ঘটনা:
নৃ*শংসতার ধরণ: নি হতদের অনেককেই মধ্যযুগীয় বর্বরতায় গলা কে টে হ*ত্যা করা হয়েছে।
নিহতদের তালিকা: সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রানা প্রতাপ বৈরাগী, সন্ত দাস, সমীর দাস, প্রলয় চাকি, মিঠুন সরকার এবং শরৎ মণি চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিদের পরিকল্পিতভাবে হ*ত্যা করা হয়েছে। ১৮ জানুয়ারি গাজিপুরে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে পিটি য়ে মা*রার ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে হিন্দুদের জানমালের সুরক্ষা দিতে কার্যত ব্যর্থ। উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো প্রকাশ্য দিবালোকে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হা*মলা চালাচ্ছে, যা ভারতের উদ্বেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মৌলবাদী শক্তিগুলো অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই ‘সতর্কতামূলক’ প্রত্যাহার। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশাকেই বিশ্বের দরবারে প্রকট করে তুলল।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
কূটনৈতিক অবস্থান: হাই-কমিশন সচল থাকলেও পরিবার প্রত্যাহার দিল্লির কড়া বার্তার ইঙ্গিত।
নিরাপত্তা ঝুঁকি: উ*গ্রপন্থীদের নিশানায় ভারতীয় স্থাপনা ও হিন্দু বসতি।
আন্তর্জাতিক প্রভাব: বাংলাদেশের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা।
ট্যাগ (Tags):
#IndiaBangladeshRelations, #HinduMinorityAttacks, #DiplomatsEvacuation, #DhakaSecurityCrisis, #NonFamilyPosting, #IndianHighCommission, #BreakingNews, #ManusherBhashaReport, #HumanRightsViolation, #BangladeshUnrest2026

0 মন্তব্যসমূহ