রানীচকে আক্রান্তদের পাশে শুভেন্দু: ‘বাংলাদেশি মডিউল’ রুখতে সিসিটিভি ও ঘরে ঘরে ধ্বজা লাগানোর ডাক বিরোধী দলনেতার
মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক, পূর্ব মেদিনীপুর: নন্দীগ্রামের রানীচকে সমবায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে এবং আক্রান্তদের দেখতে আজ রানীচকে পৌঁছালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি শাসকদল এবং পুলিশের বিরুদ্ধে উগড়ে দিলেন তীব্র ক্ষোভ।
আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন যে, এই হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাঁর মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘জঙ্গ-জামাত’ মডিউল। তিনি অভিযোগ করেন যে, ৪০টি মোটরসাইকেলে করে এসে ‘জঙ্গি’ কায়দায় এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, বাংলাদেশে যে মডিউলে হামলা হয়, একই মডিউল পশ্চিমবঙ্গেও কাজ করছে। বিরোধী দলনেতার তোপ, পুলিশের সামনেই এই লুটপাট ও মারধর হয়েছে এবং এর নেপথ্যে রয়েছে ‘আইপ্যাকের নীল নকশা’।
আক্রান্তদের সাহস জোগাতে এবং পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে রানীচকের বাসিন্দাদের একাধিক নির্দেশ দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি গ্রামের প্রতিটি মোড়ে উন্নত মানের সিসিটিভি লাগানোর নির্দেশ দেন যার যাবতীয় খরচ তিনি নিজে বহন করবেন এবং এই সিসিটিভি-র ফিড সরাসরি তাঁর এমএলএ (MLA) অফিসে যুক্ত থাকবে। এছাড়া তিনি আগামীকালের মধ্যে এলাকার সমস্ত হিন্দু বাড়িতে গেরুয়া পতাকা বা ধ্বজা লাগানোর ডাক দিয়েছেন। প্রতিটি মন্দিরে মাইক ও হর্ন লাগানোর পাশাপাশি ঘরে ঘরে শঙ্খ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু, যাতে যে কোনও বিপদে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।
হামলায় আহতদের শারীরিক অবস্থা দেখে বিচলিত বিরোধী দলনেতা নির্দেশ দেন যে, সরকারি হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা না হলে আহতদের অবিলম্বে তাঁর নিজস্ব ব্যবস্থায় অন্য বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। একজনের চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং কারোর হাত-পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এফআইআর (FIR) করার দায়িত্ব স্থানীয় নেতাদের দেওয়ার পাশাপাশি তপশিলি জাতি কমিশনকেও (SC Commission) বিষয়টি জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বক্তব্যের মাঝেই তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন যে, তাঁকে ২০২৬-এ ‘শান্তিকুঞ্জে’ কাঁধে করে পৌঁছে দিয়ে আসবেন। উল্লেখ্য, শাসকদলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং এই ঘটনাকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবেই ব্যাখ্যা করছে তারা। রানীচকের এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ২০২৬ নির্বাচনের আগে নিচুতলার সমবায় ভোটও এখন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ময়দান। শুভেন্দু অধিকারীর ‘সিসিটিভি মডেল’ আসলে পুলিশি ব্যবস্থার ওপর অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
ট্যাগসমূহ (Tags):
#SuvenduAdhikari, #RaniChokViolence, #NandigramBJP, #TMCvsBJP, #CooperativeElection, #BengalPolitics2026, #CCTVSurveillance, #BreakingNewsBengal, #ManusherBhashaReport, #Shantikunj, #PurbaMedinipur

0 মন্তব্যসমূহ