এসআইআর সফটওয়্যার বিভ্রাট: ৫ দিন আগেই প্রশ্ন তুলেছিল মানুষের ভাষা, এবার খোদ স্পেশাল রোল অবজার্ভারের স্বীকারোক্তিতে তোলপাড়
মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এবার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি শোনা গেল খোদ স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্তের গলায়। সফটওয়্যারের ত্রুটি এবং বারবার নিয়ম বদল নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার দায় কার্যত পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ‘মানুষের ভাষা’ চ্যানেলের দর্শক এবং পাঠকরা জানেন যে, আজ থেকে ঠিক ৫ দিন আগে আমাদের সম্পাদক প্রবীর রায়চৌধুরী (Prabir Rai Chaudhuri) এই একই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন, কেন একটি সরকারি প্রক্রিয়ায় একই সাথে বারবার নিয়মের পরিবর্তন হচ্ছে এবং কেন সফটওয়্যারের ত্রুটির খেসারত সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে? আজ খোদ আধিকারিকদের বয়ানে সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হলো।
সুব্রত গুপ্তের স্বীকারোক্তি: “সফটওয়্যারে আরও মনোযোগ দেওয়া যেত”
এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি নিয়ে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তাঁর বক্তব্যের প্রধান নির্যাসগুলি হলো:
পরিকল্পনার অভাব: সফটওয়্যারটি তৈরির সময় যদি আরও মনোযোগ দেওয়া হতো, তবে বারবার সিস্টেম পরিবর্তনের প্রয়োজন হতো না।
নতুন সমস্যা: কাজ যত এগিয়েছে, নিত্যনতুন সমস্যা সামনে এসেছে। আর সেই সমস্যাগুলি সমাধান করতেই অ্যাপে বারবার রদবদল করতে হয়েছে।
সময়ের অভাব: আগামী এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এই অল্প সময়ের চাপে পুরো প্রক্রিয়াটি করতে গিয়ে বড়সড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তৃণমূলের তোপ: “বিজেপির তৈরি অ্যাপে মানুষের হয়রানি”
এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তাঁর অভিযোগ:
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দিন থেকেই বলছেন যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। আমাদের কাছে খবর আছে, এই বিশেষ অ্যাপটি তৈরি করেছে বিজেপির পরামর্শদাতা সংস্থা ‘এবাউট বিলিয়ন মাইলস’ (ABM)। নির্বাচন কমিশন পরীক্ষা না করেই সেটি গ্রহণ করেছে, যার ফলে বাংলার কোটি কোটি মানুষ আজ হেনস্থার শিকার।”
বিজেপির পাল্টা: “সবই তৃণমূলের শিখিয়ে দেওয়া কথা”
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি:
সুব্রত গুপ্তের এই বয়ান তৃণমূলের শিখিয়ে দেওয়া বুলি ছাড়া আর কিছুই নয়।
অন্য কোনও রাজ্যে এই সমস্যা হচ্ছে না, কারণ সেখানে সরকার অসহযোগিতা করছে না।
তৃণমূল বারবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি করছে বলেই সময় নষ্ট হচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।
৫ মে-র পর কি তবে রাষ্ট্রপতি শাসন?
বর্তমান পরিস্থিতির বিচার করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এক চরম অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। যদি ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফাইনাল ভোটার তালিকা প্রকাশ না করা যায় এবং এপ্রিলে ভোট না হয়, তবে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।
সূত্র মারফত এবং এদিনের আলোচনায় উঠে আসা আশঙ্কাজনক দিক:
যদি ৫ মে-র মধ্যে নতুন বিধানসভা গঠন না হয়, তবে রাজ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন যদি সঠিক সময়ে নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করতে না পারে, তবে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
কেন প্রবীর রায়চৌধুরীর ৫ দিন আগের প্রশ্ন আজ প্রাসঙ্গিক?
সম্পাদক প্রবীর রায়চৌধুরী ৫ দিন আগে যখন এই প্রশ্নটি তুলেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন যে, একটি সিস্টেম চালু হওয়ার পর মাঝপথে নিয়ম বদলানো মানেই হলো প্রশাসনিক অদূরদর্শিতা। আজ সুব্রত গুপ্তের “মনোযোগ দিয়ে করা যেত” মন্তব্যটি প্রমাণ করল যে, ‘মানুষের ভাষা’ যে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিল, তা কেবল অভিযোগ নয়, বরং রূঢ় বাস্তব।
ট্যাগসমূহ (Tags):
#ManusherBhashaExclusive, #PrabirRaiChaudhuri, #SubrataGupta, #SIRSoftwareFailure, #VoterListRevision2026, #WestBengalPolitics, #TMCvsBJP, #JayPrakashMajumdar, #RahulSinha, #Article356Bengal, #PresidentRulePostMay5, #ElectionCommissionBengal , Prabir Rai Chaudhuri

0 মন্তব্যসমূহ