Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

সুশাসন ও উন্নয়ন-কে মূল হাতিয়ার করে বাংলা দখলই মোদীর মূল লক্ষ্য

মমতার দুর্গে মোদীর অশ্বমেধের ঘোড়া: পূর্ব ভারতের ‘অধরা দ্বীপ’ জয়ই এখন মোদীর পাখির চোখ


Image- TV9 Bharatvarsh

মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে শনিবার মালদহের মাটি থেকে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্যের মূল নির্যাস ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—সমগ্র পূর্ব ভারত এখন বিজেপির ‘সুশাসনে’র অধীনে, কেবল পশ্চিমবঙ্গই এক ‘অধরা দ্বীপ’ হিসেবে রয়ে গিয়েছে। মমতার এই দুর্গকে ধূলিসাৎ করে বাংলার ক্ষমতা দখল করাই যে এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য, মালদহ এবং রবিবারের সিঙ্গুর সফর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গকে কোনোমতেই হাতছাড়া করতে রাজি নয় গেরুয়া শিবির।

মালদহের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী এক সুকৌশলী ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ওড়িশায় প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। অসম ও ত্রিপুরায় বিজেপি বারবার নিজেদের প্রমাণ করেছে। বিহারেও এখন এনডিএ সরকার। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের চারপাশেই এখন বিজেপির জয়জয়কার। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “দশকের পর দশক ধরে যারা ঘৃণার রাজনীতি করত, তারা পূর্ব ভারতকে কব্জা করে রেখেছিল। বিজেপি তাদের হাত থেকে এই রাজ্যগুলোকে মুক্ত করেছে।” তবে ঝাড়খণ্ডে এখনও অ-বিজেপি সরকার থাকলেও, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর ঝাড়খণ্ড নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। মোদী বোঝাতে চেয়েছেন, পূর্ব ভারতের অখণ্ড উন্নয়নের জন্য বাংলার পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

এদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী সবথেকে বেশি সোচ্চার ছিলেন ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “উন্নত দেশগুলোও আজ তাদের ভূমি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।” প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে বছরের পর বছর ধরে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে, ভোটার কার্ড বানিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বাংলার জনবিন্যাস ও ভাষা বদলে যাচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার যুবকদের কাজ এবং মা-বোনেদের সম্মান কেড়ে নিচ্ছে বলে তাঁর দাবি। তবে মতুয়া ও নমশূদ্র শরণার্থীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সিএএ (CAA) তাঁদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েছে এবং তাঁদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।

দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সিএজি (CAG) রিপোর্টের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি অভিযোগ করেন, মালদহের বন্যাত্রাণ থেকে শুরু করে আবাস যোজনার ঘর এবং বিনামূল্যে রেশনের চাল—সবকিছুই তৃণমূলের নেতারা ‘লুট’ করছেন। আয়ুষ্মান ভারত বা পিএম সূর্যঘরের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি থেকে রাজ্য সরকার বাংলার মানুষকে বঞ্চিত রাখছে বলেও তাঁর তোপ। মালদহের আম, রেশম ও পাটচাষিদের দুর্দশার জন্য সরাসরি নবান্নকেই দায়ী করেছেন তিনি। গঙ্গা ও মহানন্দার ভাঙন রোধে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতাকেও রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন মোদী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে বিজেপির জয় যে কোনও ‘অসম্ভব কল্পনা’ নয়, তা বোঝাতে প্রধানমন্ত্রী মুম্বই ও কেরলের উদাহরণ টেনে আনেন। মুম্বই পুরসভায় (BMC) বিজেপির রেকর্ড জয় এবং কেরলের রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমে প্রথমবারের মতো বিজেপির মেয়র হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেখানে বিজেপির জয় অসম্ভব মনে করা হতো, আজ সেখানেও মানুষ আমাদের দুহাত ভরে আশীর্বাদ করছেন। বিশেষ করে জেন-জি (Gen-Z) ভোটাররা বিজেপির উন্নয়ন মডেলে ভরসা রাখছেন।”

মালদহের সভা সেরে প্রধানমন্ত্রী অসমে গিয়েছেন এবং রবিবার তিনি সিঙ্গুরে ফিরবেন। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সিঙ্গুরের সভার দিকে। কারণ, যে জমি আন্দোলনের হাত ধরে মমতার রাজনৈতিক উত্থান এবং টাটাদের বিদায় হয়েছিল, সেই সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে মোদী শিল্পায়ন ও ন্যানো কারখানা নিয়ে কী বার্তা দেন, সেটাই দেখার। মোদীর মালদহ ভাষণ পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, ২০২৬-এর লড়াইয়ে বিজেপি ‘পরিবর্তন’ নয়, বরং ‘সুশাসন ও উন্নয়ন’-কে মূল হাতিয়ার করে মমতার দুর্গে মরণকামড় দিতে তৈরি।

ট্যাগ (Tags):

#PMModiInBengal #MaldaRally2026 #BengalElection2026 #MamataVsModi #EasternIndiaBJP #InfiltrationIssue #CAABengal #MatuaCommunity #BMCElectionVictory #SingurRally #TMCVsBJP #DevelopmentModel #BreakingNewsBengal #ManusherBhashaReport #NarendraModiLive #BengalPolitics


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code